৬ ঘণ্টা আগের আপডেট

বাক্সভর্তি সোনা-হীরা-রূপা রেখে সঙ্কেত জানালেন বৃদ্ধ

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট ৯:৩৭ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৮

যুক্তরাষ্ট্রের রকি পর্বতমালায় আছে সত্যিকারের গুপ্তধন। এক ব্যক্তি খেয়ালের বশে সেখানে পুঁতে রেখেছেন স্বর্ণমুদ্রা ও মূল্যবান জিনিস ভর্তি সিন্দুকও। ৮৭ বছর বয়সী ওই ব্যক্তির নাম ফরেস্ট ফেন। ভিয়েতনামের যুদ্ধে বিমানচালক ছিলেন তিনি। তার লুকানো গুপ্তধনের খোঁজে আপনিও কি ঘাম ঝরাবেন নাকি?

নিউ মেক্সিকোর সান্তা ফে ও কানাডার সীমান্তের কাছে হাজার মাইল দূরত্বের মধ্যেই রকি পর্বতমালায় রয়েছে এই গুপ্তধন। ২০১০ সালে সেখানেই গুপ্তধন রেখেছেন, এমনটাই দাবি আর্ট ডিলার ফেনের।

নিউ মেক্সিকোর শিল্পকলা ও স্বর্ণমুদ্রা সংগ্রাহক ফরেস্ট ফেন সব কিছুতেই যেন রহস্য ভালোবাসেন। তাই নিজের ধন সম্পদ লুকিয়ে রেখে আনন্দ পেতে চেয়েছেন। তবে তার বক্তব্য, ৮০ বছর বয়সে যখন তিনি ওই পাহাড়ে গিয়ে গুপ্তধন লুকিয়ে রাখতে পেরেছেন, তখন তা খুঁজে বের করা খুব একটা কঠিন কাজ কি?

ফেন জানান, মোটামুটি সাড়ে তিন লাখের বেশি মানুষ এই গুপ্তধনের সন্ধানে ঘুরছেন। মুচকি হেসে সংবাদ সংস্থাকে বলেছেন, এমনও হতে পারে কালকেই পাওয়া গেল গুপ্তধন, আবার হাজার বছর ধরে লোক খুঁজেই গেল গুপ্তধন কোথায় আছে?

২০১৬ সালে ফেন জানিয়েছেন, তিনি এবং তার স্ত্রী শুধু জানেন রকি পর্বতের কোন দিকে রয়েছে এই গুপ্তধন। তিনি মারা গেলে তার সঙ্গে সঙ্গেই গুপ্তধনও প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে যাবে।

ফেন নিজের ইনস্টাগ্রামে দিব্যি শেয়ার করেছেন গুপ্তধনের ক্লু। ‘নট ফার বাট, টু ফার টু ওয়াক, পুট ইন বিলো দ্য হোম অব ব্রাউন’, এরকমই বেশ কিছু লাইন রয়েছে তাতে। ইনস্টাগ্রামে ফেনের ফলোয়ার কয়েক লাখ ছাড়িয়েছে। কিন্তু গুপ্তধন খুঁজে কেউ পাননি।

ফেনের ওপর লোকজন রীতিমতো রেগেই যাচ্ছেন, কারণ তিনি ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেছেন, সিন্দুকে তিনি কী কী লুকিয়ে রেখেছেন। সোনার বল, ৩০০ বছরের পুরনো সোনা ও রূপোর বাক্স। কিন্তু কেউই যে খুঁজে পাচ্ছেন না।

এছাড়াও রয়েছে প্রাচীন আমলের সোনার আয়না, যা পাঁচ ইঞ্চি পুরু। এছাড়াও নাকি রয়েছে দামি দামি গহনা, অ্যান্টিক গোল্ডের তৈরি ড্রাগন ব্রেসলেট, হিরে, পান্না, চুনি, স্যাফায়ার স্টোন, ছয়টা এমারেল্ড। এগুলোর ছবি দেননি যদিও।

তার ২৪ লাইনের কবিতা ‘দ্য থ্রিল অব দ্য চেজ’ ঘিরেই রহস্য বাড়ছে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই তার বাড়িতেও সন্ধান চালিয়েছে। কিন্তু কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি এই প্রত্নতত্ত্ববিশারদের নামে। উল্টো তিনি নিজের ঘুরে বেড়ানোর ছবি পোস্ট করেছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন।

ফেনের এই গুপ্তধনের মূল্য আনুমানিক কয়েক’শ কোটি টাকা। ৪০ পাউন্ডের একটা বাক্স ভর্তি করে রেখেছেন এই গুপ্তধন। ১৯৮৮ সালে যখন তাঁর ক্যানসার ধরা পড়ল, তখন তিনি ভেবেছিলেন বাক্স ভর্তি গুপ্তধনের মাঝেই তাঁকে সমাধিস্থ করা হবে। কিন্তু তিনি ক্যানসারের মতো মারণ রোগ জয় করে আবারও রহস্য গড়ে তোলার উৎসাহ ফিরে পান।

নিজের বাড়িতেও প্রত্নতত্বের সংগ্রহশালা রয়েছে ফেনের। একটা সময় মদ আর অসংখ্য ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার কথাও নাকি ভেবেছিলেন তিনি। কিন্তু ক্যান্সার জয় করে নতুন উদ্যমে নিজের বিপুল ধন সম্পদ লুকিয়ে ফেলার পরিকল্পনা করতে থাকেন তিনি।

ফেন বারবার বলছেন, ভালো ভাবে মানচিত্রটা লক্ষ্য করতে। সেখানেই রয়েছে ‘ক্লু’। তিনি বলেছেন, কেউ যদি এই রত্নভাণ্ডার খুঁজে না পায়, তবুও ব্রোঞ্জের এই সিন্দুক শতাব্দী ধরে তার ধনসম্পদকে রক্ষা করবে। অনেকেই তাঁর গুপ্তধন খোঁজার জন্য চাকরি ছেড়েছেন। চার জন মারাও গেছেন গুপ্তধনের সন্ধান করতে গিয়ে।

প্রত্যেক দিন অসংখ্য ফোন আর অজস্র ইমেইল আসে ফেনের কাছে। দৈনিক ১০০টা ইমেইল তো বটেই। তবে তার দাবি, মানুষ বড্ড বেশি ঘরকুনো। তাদের রোমাঞ্চকর অভিযানের স্বাদ পাওয়া উচিত। তাই এরকম ভাবনা ফেনের। বাবা-মায়েরা বাচ্চাদের নিয়ে ক্যাম্প করতে যাচ্ছে প্রকৃতির মাঝে, এটা তো আনন্দের ব্যাপার। আর সঙ্গে পেয়ে যেতে পারে গুপ্তধন।

বিভিন্ন পেশার হাজার হাজার মানুষ ফেনের গুপ্তধনের সন্ধানে নিউ মেক্সিকো, কলোরাডো, উয়োমিং এবং মন্টানায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন বছরের পর বছর। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে পাঁচ হাজার ফুট উপরে রয়েছে এই গুপ্তধন।

ফেন আশি’র দশকে সাতশ বছর আগের তানো উপজাতিদের প্রাগৈতিহাসিক স্থান, স্যান ল্যাজারো পাবলো কিনে নেন। তার জীবনের বাকি সময় এখানেই কাটিয়ে দেন। তিনি বরাবর একটু খেয়ালি প্রকৃতির। চার জনের মানুষের মৃত্যু আদৌ তার গুপ্তধন খুঁজতে গিয়ে কি না, জানা নেই। এই ট্রেজার হান্ট তাই বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়ার কথাও ভাবা হয়েছিল।

মুরগির ডিমের আকারের কয়েক হাজার সোনার টুকরো, চুনি, এমারেল্ড, নীলকান্তমণি ও হিরার গহনা, সবই যেন রূপকথার গল্পের মতো। তিনশ বছরের পুরনো দুই হাজারেরও বেশি ঘর পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়েছিল যেখানে এক সময় রকি পর্বত মালার পাশে। সেখানেই কি পুঁতে রেখেছেন তিনি এই সব?

যে সবার আগে ধন-সম্পদে ভর্তি ওই বাক্স খুঁজে পাবে, সব কিছুই তার হয়ে যাবে। আর এতে ফেনের লাভ? কিছুই না, শুধু মনে একটুখানি শান্তি! এমনটাই বলেছেন তিনি নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে।

ফেনের একটি বই রয়েছে গুপ্তধনের ‘ক্লু’ নিয়ে। গুপ্তধন খোঁজার ঘোষণা করার সঙ্গে সঙ্গে তার বইয়ে ছাপানো কবিতার মধ্যে ৯টি ক্লু-র অর্থ খুঁজে বের করতে সবাই হুমড়ি খেয়ে পড়েছে সেই ২০১৫ সাল থেকে। গুপ্তধন পেতে হলে সবাইকে তার দেওয়া ‘ক্লু’ অনুসরণ করেই এগোতে হবে। তা না হলে গুপ্তধন পাওয়ার আশা নেই।

ফেনের এমন পাগলামির পেছনে অনেকের যে সন্দেহ জাগেনি, তা কিন্তু নয়। অনেকেই মনে করেন, এমন গুপ্তধন লুকিয়ে রাখার গল্প স্রেফ ভাওতাবাজি। তিনি নাকি আসলে বাক্সে কিছুই রাখেননি।

ফেনের কাছে এমনও ফোন এসেছে, যেখানে তাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তিনি বলেছেন, তাকে মেরে ফেললে কোনোদিনই পাওয়া যাবে না গুপ্তধন।

পাঠকের মন্তব্য

সম্পাদক: হাসিবুল ইসলাম
বার্তা সমন্বয়ক : তন্ময় তপু
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো. শামীম
প্রকাশক: তারিকুল ইসলাম

নীলাব ভবন (নিচ তলা), দক্ষিণাঞ্চল গলি,
বিবির পুকুরের পশ্চিম পাড়, বরিশাল- ৮২০০।
ফোন: ০৪৩১-৬৪৮০৭, মোবাইল: ০১৭১১-৫৮৬৯৪০
ই-মেইল: [email protected], [email protected]
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বরিশালটাইমস

rss goolge-plus twitter facebook
TECHNOLOGY:
টপ
  সারাদেশে ৬ অক্টোবর থেকে ২২ দিন ইলিশ ধরা বন্ধ  ‘স্বর্ণডিম’ পাড়বে মুরগি!  বাবুগঞ্জে বাল্যবিয়ে ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে গণশুনানি  পটুয়াখালীর পায়রা বন্দরে নিরাপত্তা নিশ্চিতে মহাপরিকল্পনা  সাগর মোহনায় তিনটি মাছ ধরার ট্রলার ডুবি, ২৬ জেলে উদ্ধার  বরিশালের সন্তান ডিআইজি মিজানের অঢেল সম্পদের খোঁজ পেয়েছে দুদক  পটুয়াখালীতে নদী থেকে ভাসমান লাশ উদ্ধার  বেতাগীতে ছাত্রলীগ নেতাকে কুপিয়ে খুন  বরিশালে হেরোইনসহ বিক্রেতা গ্রেপ্তার  বরিশালে সন্ত্রাসী হামলায় ওয়ার্ড আ’লীগ নেতা রক্তাক্ত
error: Content is protected by BarishalTimes !!