১৬ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, রবিবার

অবশেষে ফাঁসলেন বরিশাল বিআরটিএ’র সেই আনসারী, জাল-জালিয়াতি মামলায় তিন বছরের কারাদণ্ড

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৯:৫৬ অপরাহ্ণ, ২৯ মে ২০২৪

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল:: বরিশাল বিআরটিএ’র দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা আইয়ুব আনসারী কিছুটা বিলম্বে হলেও শাস্তির আওতায় এসেছেন। জাল কাগজপত্রে চোরাই গাড়িকে রেজিস্ট্রেশন দেওয়ার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে প্রমাণিত হয়েছে, আদালত বরিশাল বিআরটিএ’র সাবেক এই পরিদর্শককে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। সেই সাথে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। মঙ্গলবার (২৮ মে) বরিশালের বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মেহেদী আল মাসুদের আদালত রায় ঘোষণাকালে আইয়ুব আনসারী উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে, আইয়ুব আনসারী বর্তমানে অবসরে থাকলেও সর্বশেষ তিনি সহকারি পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) পদমর্যাদা নিয়ে বিআরটিএ’র সদর দপ্তরে কর্মরত ছিলেন। শহরের পশ্চিম কাউনিয়া সাধুর বটতলা এলাকার মৃত আতাহার আলী হাওলাদারের ছেলে আইয়ুব আনসারী বরিশাল, ভোলা, ঝালকাঠি, পটুয়াখালীসহ বিভিন্ন জেলার বিআরটিএ’র পরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন। এবং প্রতিটি জেলাতেই তিনি ঘুস বাণিজ্য করাসহ জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে অবৈধ মোটরযানকে বৈধতা দিয়েছেন, বিপরিতে হাতিয়ে নিয়েছেন লাখ লাখ টাকা। এনিয়ে তৎকালীন সময়ে বরিশালের স্থানীয় মিডিয়াসহ জাতীয় দৈনিকে নৈতিবাচক খবরও প্রকাশ পেয়েছিল। কিন্তু ওই সময় অদৃশ্য ক্ষমতার বলে আনসারী কোনো কিছু বা কাউকে ‘থোরাও কেয়ার’ করেননি।

তবে অতীত অপকর্মের শাস্তি কিছুটা বিলম্বে হলেও তিনি পেয়েছেন, বরিশালের আদালত একটি মামলায় গতকাল তাকে কারাদণ্ড দিয়েছেন।

জানা গেছে, ২০১১ সালের ২১ মার্চ মশিউর রহমান ঠাকুর নামে এক ব্যক্তির মাইক্রোবাস চুরি হয়। এ ঘটনায় ২৩ মার্চ গৌরনদী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তিনি। ২০১৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর তিনি জানতে পারেন তার চোরাই মাইক্রোবাসের চেসিস নম্বর ব্যবহার করে রেজিস্ট্রেশন নম্বর দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় পাওয়া অভিযোগ তদন্ত করে ২০১৭ সালের ১৮ এপ্রিল দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক বাদী হয়ে বিআরটিএর সহকারী পরিচালকসহ দুইজনকে আসামি করে বরিশালের কোতয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন।

২০২০ সালের ১৩ জানুয়ারি দুদক প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক একমাত্র আইয়ুব আনসারীকে অভিযুক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন। মামলায় আনা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (পিপি) পাবলিক প্রসিকিউটর বিপ্লব কুমার রায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এবং তিনি জানিয়েছেন, রায় ঘোষণার পরপরই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা আনসারীকে কারাগারে নিয়ে যায় পুলিশ।’

 

179 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন