২৯শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার

অবৈধ গর্ভপাতে বরিশালে নেই শাস্তি

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ, ২৭ অক্টোবর ২০১৬

আইন থাকলেও প্রয়োগ নেই দন্ডবিধি ৩১২ ও ৩১৩ আইনের। সে কারনে বরিশালে প্রায়ই ওই আইনের অপরাধ হলেও অভিযোগের অভাবে তা বিচারের সম্মুখীন হয় না। তথ্য মতে জানা গেছে, বরিশাল নগরে ৩টি সরকারী পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রে ও বেসরকারীর মধ্যে নগর হেলথ ক্লিনিক ও মেরি স্টোপস সহ ৩টি ক্লিনিকে বিপদগ্রস্ত নারীর প্রয়োজনে গর্ভপাত করানো হয়। আবার ইজ্জতের ভয়ে এমআর ও করানো হয়। এ ধরনের কাজ আইনের চোখে মারাত্মক অপরাধ হলেও মানবিক চোখে খুব সহজেই অপরাধমূলক কাজটি করা হয়। বরিশালে পূর্বে এর সংখ্যা বেশি থাকলেও বর্তমানে এর সংখ্যা কম। এর কারন পারিবারিক আইন প্রয়োগ বেশি হওয়ায়। তবে এমআর সরকারী ভাবে স্বাস্থ্য বিভাগের নিয়ন্ত্রনে বিশেষ ক্ষেত্রে করার বিধান রয়েছে।

 

কিন্তু গর্ভপাতের বিষয়টি সরাসরি আইনে দন্ডনীয় অপরাধ এমনটি বলা হয়েছে। এ ব্যাপারে বরিশাল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সাবেক পিপি ও বর্তমানে মহানগর দায়রা জজ আদালতের পিপি এ্যাডঃ আনিচ উদ্দিন আহমেদ শহিদ বলেন, বাংলাদেশ দন্ডবিধি আইনের ৩১২ থেকে ৩১৬ ধারা পর্যন্ত গর্ভপাত সংক্রান্ত আইন ও সাজার কথা বলা হয়েছে। ৩১২ ধারায় বলা হয়েছে কোন নারী গর্ভপাত ঘটালে বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ৩ বছরের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদন্ড বা জরিমানা বা উভয় প্রকার শাস্তি পেতে পারে। ৩১৩ ধারায় বলা হয়েছে কোন ব্যক্তি যদি স্ত্রী লোকটির সম্মতি ছাড়া গর্ভপাত ঘটায় তাহলে উক্ত ব্যক্তির যাবজ্জীবন কারাবাস, জরিমানা বা ১০ বছর সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদন্ড দন্ডিত হতে পারেন। মোট কথা স্ত্রী লোক নিজে ইচ্ছা করে গর্ভপাত করালে কম শাস্তির বিধান থাকলেও অন্যকোন ব্যক্তি স্ত্রীলোকের কোন প্রকার সম্মতি ছাড়া গর্ভপাত ঘটায় তাহলে তার বিরুদ্ধে যাবজ্জীবন কারাদন্ড শাস্তি রয়েছে।

 

কিন্তু এ আইন প্রয়োগের জন্য যা কিছু প্রয়োজন তা পায়না আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। অর্থাৎ কেউ কোন অভিযোগ না দেয়ার কারনেই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহন করা হয় না। সূত্র মতে, অবৈধ সম্পর্কের কারনে কিংবা পরবর্তী সন্তান গ্রহন না করা, পরিকল্পনা অনুযায়ী আগে গর্ভবর্তী হওয়া সহ পারিবারিক নানান কলহের কারনে অনেক সময়ে স্ত্রী লোক নিজে ইচ্ছা করে আবার স্বামী কিংবা অন্যকারো দ্বারা ইচ্ছার অমতে গর্ভপাতের মত ঘটনা ঘটছে। পূর্বে বহুগুনে হলেও বর্তমানে তা চুপিসারে চলছে। এগুলো গোপনে হলেও কোন দপ্তরই মূল ঘটনা অনুসন্ধান করে ওই অপরাধীদের চিহ্নিত করতে পারেনি।

 

নারীদের শারীরিক নানান সমস্যার জন্য এমআর করানোর জন্য সরকারী ভাবে বিধান থাকলেও গর্ভপাতের বিষয়ে দন্ডনীয় অপরাধের কথা উলে¬খ করা হয়েছে। গোপনে এখনো এ কাজ গুলো যে হয়ে থাকে তা জলন্ত প্রমান হিসেবে প্রায়ই দেখা যায় বিভিন্ন ড্রেনে পড়ে থাকা কয়েক মাসের শিশু কণ্যা উদ্ধারের ঘটনা। বরিশাল জেল খালে গত ২ বছরের মধ্যে ২টি নবজাতক শিশুর লাশ অর্ধগলিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। যা পুলিশ সন্দেহ করছিল গর্ভপাত করে ফেলা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ওই নবজাতক শিশু গুলোর চোখ মুখও ভালভাবে ফোটেনি। কয়েক বছর আগেও এমনিভাবে এমনিভাবে একটি নবজাতক পাওয়া যায় কাউনিয়ার ময়লা খোলায়। ফলে খুব সহজেই ধারনা করা যায় গর্ভপাতের মত ঘটনা বরিশালের বিভিন্ন স্বাস্থ্য ক্লিনিকে গোপনে করে থাকে। তা না হলে প্রায়ই ড্রেনে কিংবা বিভিন্ন ময়লার স্তুপে নবজাতকের মৃত দেহ আসে কোথা থেকে।

 

এ ব্যাপারে বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনী বিভাগের প্রধান ডাঃ শিখা সাহা বলেন, এমআর সে কোন শারীরিক অসুস্থ নারীকে করানোর জন্য সরকারী ব্যবস্থা রয়েছে। তবে গর্ভপাতের বিষয়টি অন্য। এ ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ ডাক্তার দিয়ে কাজ করানো হলে নারীর সমস্যা নাও হতে পারে। তবে আইনে অপরাধের বিষয়টি নিয়ে তিনি কিছু বলতে নারাজ।

 

সিভিল সার্জন ডাঃ এএফএম শফিউদ্দিন বলেন, এমআর অর্থাৎ ১০ সপ্তাহ পর্যন্ত স্ত্রী লোকের গর্ভে সন্তান আসলে তা ডাক্তার এর মাধ্যমে করানো যাবে। তবে গর্ভপাতের বিষয়টি অভিজ্ঞ ডাক্তার দ্বারা না করালে মৃত্যুর ঝুকি থাকে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে পারে। এছাড়া প্রথম বার হলে পরবর্তীতে সন্তান গ্রহনের ভারসাম্য হারাতেও পারে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বরিশালে কোন ক্লিনিক কিংবা গোপনে কোন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে গর্ভপাতের মত ঘটনা ঘটে সেটির অভিযোগ পেলে জোরালো ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। তবে এসব ক্ষেত্রে তেমন কোন অভিযোগ দেয় না ভুক্তভোগীরা।

22 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন