২৩শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার

অবৈধ বিদ্যুত সংযোগে প্রাণ গেল বৃদ্ধার

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১১:৪৬ অপরাহ্ণ, ৩১ আগস্ট ২০১৬

বরিশাল: ভোলার লালমোহন উপজেলায় অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগে বৃদ্ধা আনখুরি বেগম নিহত হওয়ার পর ৫ দিনেও মামলা নেয়নি পুলিশ। এমনকি নিহতের খবরেও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেনি। যার দরুণ ময়না তদন্ত ছাড়াই লাশটি দাফন করা হয়েছে। নিহতের স্বামী পেশায় দিনমজুর মো. জামাল বিষয়টি থানা পুলিশকে অবহিত করলেও কোন পদক্ষেপ লক্ষনীয় নয়। এখন পাগলপ্রায় জামাল স্ত্রী নিহতের বিচার চেয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছেন। কিন্তু বিষ্ময়কর বিষয় হচ্ছে,  স্ত্রী আনখুরি বেগমের এই মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর শুনেও অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপনকারী স্থানীয় পাঙ্গাসিয়া এলাকার আলী মেম্বার তাকে দেখতে যাননি।

 

এমনকি তার পরিবারের কোন সদস্যও নিহতের বাড়িতে পা রাখেনি। ফলে অনেকটা কষ্ট নিয়েই স্ত্রীর লাশ দাফন করতে বাধ্য হয়েছেন দিনমজুর মো. জামাল। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অবৈধ বিদ্যুৎ চোরাইকারী আলী মেম্বার স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী এবং ধনকুবেরও বটে। তাই তার বিরুদ্ধে থানা পুলিশ অভিযোগ নেয়নি। অভিযোগ উঠেছে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এই ঘটনায় অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হয়েছেন।

 

মূলত এ কারনেই তিনি আলী মেম্বারের বিরুদ্ধে অভিযোগ নেননি। একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, স্থানীয় হাসানগঞ্জ গ্রাম থেকে উপজেলার বিদ্যুতের লাইনে সংযোগ দিয়ে ২ কিলোমিটার দুরে বাসায় বিদ্যুৎ চুরি করে নেন আলী মেম্বার। সেই বিদ্যুৎ সংযোগ গত ২৭ আগস্ট ছিড়ে পরে পাশ্ববর্তী দিনমজুর মো. জামাল মিয়ার ঘরে। এতে তড়িতাহত হয়ে তার স্ত্রী আখিনুর বেগম ঘটনাস্থলেই নিহত হন। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে জানাজানির পর আলী মেম্বারের এই চোরাই বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে তোলপাড় অবস্থা সৃষ্টি হয়। কিন্তু বিষয় হচ্ছে মর্মান্তিক এই ঘটনাটি রহস্যজনক কারণে পত্রিকায় স্থান পায়নি। অবশ্য অভিযোগ রয়েছে আলী মেম্বার শুধু এই ঘটনায় নয় আরো একাধিক কর্মকান্ডে এলাকায় বিতর্কিত। তার বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগও রয়েছে। কিন্তু বিষ্ময়কর বিষয় হচ্ছে, এক সময়ের দরিদ্র আলী মেম্বারের ধনকুবের বনে যাওয়া এবং অন্তধন রহস্য নিয়ে। কারণ  ২০০৮ সালে এই আলী মেম্বার অসুস্থ হয়ে পরার পর তার চিকিৎসা জন্য টাকা চাঁদা তোলা হয়। কিন্তু ৮ বছরের মাথায় কিভাবে তিনি অর্থবিত্তে কোটিপতি বনে গেলেন এমন প্রশ্ন এখন গ্রামের সর্বত্র।

 

অবশ্য অনুসন্ধানে এর কিছু আভাসও পাওয়া গেছে। অদৃশ্য ক্ষমতার বলে তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ বেশ কয়েকটি সরকারি দপ্তরে ঠিকাদারি করছেন। এবং সেইসব দপ্তরের অধিকাংশ কাজই তিনি করছেন। কিন্তু এর নেপথ্যে থেকে কে তাকে সহযোগিতা করছে তা স্পষ্ট না হলেও এই অল্প সময়ের মধ্যে শতকোটি টাকার জমির মালিক হওয়ায় নানা গুঞ্জন এলাকায় শোনা যায়। অল্পদিনের মধ্যে কিভাবে এতকোটি টাকার জমি কিনতে সক্ষম হলেন আলী মেম্বার এমন প্রশ্নবানে সাংবাদিকরাও জর্জরিত। কিন্তু স্থানীয় সংবাদকর্মীরা তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করার নজির সাধারণত কমই রয়েছে। এমনকি এবারের তার অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগে দিনমজুরের স্ত্রী নিহতের বিষয়টিও সংবাদপত্রে স্থান পায়নি। তবে বিষয়টি অনেকেরই জানা ছিল।

 

এমতাবস্থায় প্রশ্ন হচ্ছে কেন বিষয়টি সংবাদকর্মীদের দৃষ্টি কাড়েনি। অবশ্য এমন প্রশ্নের সোজাসাপটা জবাব দিয়ে অনেকেই বলে ফেলেছেন আলী মেম্বার বলে কথা। যে কারনে পুলিশও তার বিরুদ্ধে ভূমিকা রাখার চেষ্টা চালায় নি। তবে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ন কবিরের ভাষ্য হচ্ছে, কয়েকদিন আগে তিনি ছুটিতে ছিলেন। যে কারনে বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত নন। তবে বিষয়টির খোঁজ খবর নিয়ে ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে। সেই সাথে ওসি আলী মেম্বারের সাথে সখ্যতার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, অপরাধের সাথে আপোষ নয়। একই প্রসঙ্গে জানতে বিদ্যুৎ চোরাইকারী আলী মেম্বারের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

7 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন