২৪শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার

অভিনেতা ফখরুল হাসান বৈরাগী নিখোঁজ

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১২:২২ পূর্বাহ্ণ, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬

অভিনেতা ফখরুল হাসান বৈরাগী গত দেড়মাস ধরে নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তার স্ত্রী রাজিয়া হাসান।  বৈরাগীর বোনদের সঙ্গে সম্পত্তির দ্বন্দ্বের কারণে নিখোঁজ হতে পারেন বলে তার স্ত্রী আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তবে এ বিষয়ে তিনি এখনই কিছু বলতে চাননি। বৈরাগী ফিরে না এলে গণমাধ্যমকে ডেকে তিনি নিজেই সব প্রকাশ করবেন বলে জানিয়েছেন। এ বিষয়টির খোঁজ নিচ্ছেন বলে জানালেন কলাবাগান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াসির আরাফাত।

এ বিষয়ে শনিবার সন্ধ্যায় বৈরাগীর স্ত্রী রাজিয়া হাসান বলেন, ‘গত ৭ আগস্ট সকালে আমি ঘুমে ছিলাম। ছেলে সামন্ত হাসান ইসাকে গাড়িতে করে নিয়ে কলেজে দিয়ে আসেন বৈরাগী। এরপর ছেলেকে দিয়ে এসে বাড়ির গ্যারেজে গাড়ি রেখে কেয়ারটেকারের কাছে চাবি দিয়ে চলে যান। এরপর থেকে বাসায় ফিরে আসেননি। তাকে আর খুঁজেও পাওয়া যায়নি। ওইদিন সকালে বাসায় এসে তার নাস্তা করার কথা ছিল।

 

কিন্তু দীর্ঘসময় পার হয়ে যাওয়ার পর না আসায়, আমি তাকে ফোন দেই, তার নম্বর বন্ধ পাই। এরপর ছেলেকে ফোন দিলে ছেলে জানায় বাবা আগেই বাসায় ফিরেছে। এরপর বাসার নিচে যাই আমি। তখন কেয়ারটেকার আমাকে গাড়ির চাবিটি দেয়। কিন্তু সে বৈরাগীর বিষয়ে কিছুই বলতে পারেনি।’ তিনি বলেন, ‘তার পরনে একটি সবুজ রঙের ফতুয়া ও কালো প্যান্ট ছিল। তিনি কোনও অতিরিক্ত কাপড়-চোপড়ও নেননি। তিনি কখনও আমাদের ছেড়ে থাকেননি। এতদিন তার দূরে থাকার কথা নয়।’

নিখোঁজের বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলেও জানান তিনি। নিখোঁজের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বৈরাগীরা পাঁচ ভাইবোন। সে সবার বড়। মেজভাইয়ের নাম নাজমুল হোসাইন বুলু, ছোটভাই বাচ্চু, দুইবোন নাহার ও শেলী। মেজভাই অস্ট্রেলিয়ায় থাকেন। ছোটভাই বাড্ডায় সপরিবারে থাকেন। রাজধানীর হাতিরপুল পৈত্রিক জায়গায় বৈরাগী নিজেই ব্যাংক লোন নিয়ে একটি ছয়তলা বাড়ি করেছেন। কিন্তু সেই বাড়ি নিয়ে বোনদের সঙ্গে দ্বন্দ্ব রয়েছে। বোনদের বিয়ে হলেও তারা ওই বাড়িতে থাকেন। বাড়ি তৈরির জন্য ব্যাংকলোনও তারা পরিশোধ করেননি।

 

ফ্ল্যাট বিক্রি করে বৈরাগী নিজেই ব্যাংক লোন পরিশোধ করেছেন। ওই বাড়িতে আমার দুই ননদ ও শাশুড়ি থাকেন। বিরোধের কারণে আমরা গতবছরের অক্টোবরে চলে এসেছি।। আমরা এখন ভাড়া থাকি। এ নিয়ে বৈরাগীর মনে কষ্ট ছিল। তিনি তার মাকে অনেক ভালোবাসেন। আমাদের বাসা করে দিলেন কিন্তু তিনি কোথায় গেলেন? আমিও কিছু বুঝতে পারছি না।’

গুণী এই অভিনেতার স্ত্রী বলেন, ‘আমি, আমার ছেলে ইসা এবং মেয়ে ইনাকে নিয়ে এখন ভাড়া বাসায় আছি। আমি র‌্যাব পুলিশ সবাইকে জানিয়েছি। তারা কাজ করছে বলে জানিয়েছে। আমি নিখোঁজের দু’দিন পরই জিডি করেছি। কিন্তু তারপরও তার কোনও খোঁজ পাচ্ছি না।’ তিনি বলেন, ‘দুই ননদের কারণে বৈরাগীর ছোটভাইটাও বাসা ছেড়ে দূরে থাকেন। ওই বাসায় কেউ থাকতে পারে না।’

স্ত্রী অভিযোগ করেন, ‘আমরা ধারণা তার পরিবারের লোকজন কিছু করছে। আমি অনেক ভয় পাচ্ছি। তার মতো নামি লোককে এটা করতে পেরেছে, তাহলে আমাকেও তারা ক্ষতি করতে পারে। এখন আমি বাচ্চাদের নিয়ে একটি নতুন বাসায় আছি কিন্তু কিছু বলতে পারব না।’

এ বিষয়ে কলাবাগান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াসির আরাফাত বলেন, ‘হাতিরপুল এলাকাটি তিনটি থানায় পড়েছে। এখন বৈরাগীর স্ত্রী কোন এলাকার বাসিন্দা, কোথায় জিডি করেছেন, তা তিনি না বললে নিশ্চিত হওয়া যাবে না। আমরা আমাদের থানায় খোঁজ করে দেখছি।’

13 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন