২১শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, রবিবার

আজও উত্তাল উত্তরপ্রদেশ, বিক্ষোভে নিহত ১১

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৩:০৪ অপরাহ্ণ, ২১ ডিসেম্বর ২০১৯

ভারতে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) য়ের প্রতিবাদে শনিবারও বিক্ষোভে উত্তাল দেশটির উত্তরপ্রদেশ রাজ্যটি। থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে রাজধানী দিল্লিতেও।

এদিকে উত্তরপ্রদেশ রাজ্যে বৃহস্পতিবার থেকে টানা দু’দিনের বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১১। ৮-১১ বছর বয়সী শিশুসহ আটক করা হয়েছে শত শত মানুষকে। রাজ্যের প্রয়াগরাজ এলাকা থেকেই দেড়শ জনকে আটক করেছে পুলিশ। গাজিয়াবাদে আটক হয়েছে ৬৫ জন।

শনিবার সকাল থেকেই বিক্ষোভ শুরু হয় উত্তরপ্রদেশের রামপুরে। জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ছোড়া হয়। বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে শুক্রবার গভীর রাত থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে বন্ধ রেয়েছে ইন্টারনেট পরিষেবায়।

উত্তরপ্রদেশ প্রশাসন সূত্রে খবর, শুক্রবার বিভিন্ন জেলায় জনতা-পুলিশ সংঘর্ষে শুধুমাত্র মেরঠেই নিহত হয়েছেন চারজন। ওই সংঘর্ষের চলাকালে পদপিষ্ট হয়ে মারা গেছে এক শিশু। জেলায় জেলায় সংঘর্ষে আহত হয়েছেন বহু মানুষ। এদের মধ্যে ছয়জন পুলিশও রয়েছে। তাদের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম আনন্দবাজার।

রাজ্য পুলিশের ডিজি ওপি সিংহের দাবি, পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে জনতা। তবে সেই দাবিকে নস্যাৎ করে দিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া কয়েকটি ভিডিও। তাতে দেখা গিয়েছে, জনতা-পুলিশ সংঘর্ষের সময় গুলি চালাচ্ছে উত্তরপ্রদেশের পুলিশকর্মীরা। গুলিচালনা ছাড়াও সংঘর্ষের সময় পাথর ছোড়া ও পুলিশের একাধিক গাড়িতে আগুন লাগানোর ঘটনাও ঘটে।

উত্তরপ্রদেশের জেলার জেলায় সংঘর্ষের পর রাত থেকেই লখনউ, বিজনৌর, মেরঠ, ফিরোজাবাদ, কানপুর, সম্বল, মোরাদাবাদ, আলিগড়, বরেলী, ইলাহাবাদ-সহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ে শনিবার রাজ্যপালের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের।

এই পরিস্থিতিতে নতুন আইন সিএএ-র বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন বহুজন সমাজ পার্টি (বিএসপি)-র নেত্রী মায়াবতী। এ দিন কেন্দ্রের কাছে এই আইন প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘এনআরসি এবং সিএএ নিয়ে এখন এনডিএ-র মধ্যেই মতপার্থক্য গড়ে উঠতে শুরু করেছে। অতএব এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হোক। সেই সঙ্গে সকলে যাতে কেবলমাত্র শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করেন, তারও আবেদন করছি।’

এই আবহে শনিবার নতুন করে বিক্ষোভ শুরু হয় রামপুরে। সেখানে বিক্ষোভের সময় ফের উত্তেজনা ছড়ায়। ব্যারিকেড ভেঙে এগোতে গেলে তাদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটায় পুলিশ।

এছাড়া ভারতের রাজধানী দিল্লিতেও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে বলে স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে। শনিবার নতুন করে বিক্ষোভ দানা বাঁধে দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে। গত রোববার এই বিশ্ববিদ্যালয়েই বিক্ষোভকে ঘিরে ছাত্র-পুলিশ সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছিল। ওেইদিন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ঢুকে শিক্ষার্থীদের উপর ব্যাপাক লাঠিচার্জ করে পুলিশ। সেই থেকেই ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করে চলেছে, যা শনিবার সপ্তম দিনে পড়ল।

এছাড়া গভীর রাতে ভীম আর্মির প্রধান আজাদের গ্রেফতারির পাশাপাশি আটকদের মধ্যে আট নাবালকের উপস্থিতি নিয়েও দরিয়াগঞ্জ থানায় বিক্ষোভ হয়। পরে বিক্ষোভের মুখে এসব শিশুদের ছেড়ে দেয় পুলিশ।

7 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন