১৩ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার

আতঙ্কে বরিশালের হিন্দুরা

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ, ০৫ নভেম্বর ২০১৬

বরিশালের বানারীপাড়ায় মন্দিরে ঢুকে মূর্তিভাঙ্গচুরের ঘটনায় হামলাকারীর ছবি প্রকাশ হলেও অপরাধীকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। তবে সনাক্ত করতে প্রযুক্তির কাজ এগিয়ে চলছে। আজ (৫ নভেম্বর) হামলাকারীর সম্ভাব্য চেহারা রঙিন প্রিন্টে প্রকাশ করবে পুলিশ বলে জানিয়েছে বানারীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল আহসান। এদিকে দেশের অন্যান্য স্থানের সাথে বরিশালে মন্দিরে হামলার ঘটনায় আতঙ্ক বিরাজ করছে হিন্দু সম্প্রদায়ের মাঝে। একই সাথে ব্রাক্ষ্মনবাড়ীয়ার নাসিরনগরে হিন্দু কলোনীতে হামলার প্রসঙ্গ টেনে বরিশালে উস্কানিমূলক তথ্য ছড়াচ্ছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবী করা হচ্ছে বিভাগের সকল পুজামন্ডপ ও ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

 

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র সহকারী পুলিশ কমিশনার (ডিবি) ফরহাদ সরদার জানান, আমাদের আওতায় যতগুলো ধর্মীয় উপাসনালয় রয়েছে সেগুলো কর্টন করে রাখা হয়েছে। যেন কোথাও কোন অপ্রিতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য ডিবির ৪টি টিম সার্বক্ষনিক মাঠে রয়েছে। টহল টিমগুলোকে আরও সক্রিয় করা হয়েছে। এমনকি প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তারা বিষয়টি তত্ত্বাবধায়ন করছে। ফরহাদ সরদার জানান, আমরা ইতিমধ্যে সমস্ত মন্দির এবং ধর্মীয় উপাসনালয়ের তালিকা করেছি। সেসব স্থানে সার্বক্ষণিক পুলিশ রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি।
এদিকে হামলার ঘটনা নিয়ে ধর্মীয় উপাসনালয় ঘিরে এবং বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের মাঝে আতঙ্ক কাজ করছে। হিন্দু বাসিন্দারা তাদের উপাসনালয় রক্ষা করতে নিজেদের উদ্যোগে ‘রক্ষা কমিটি’ গঠন করে পাহারা দিচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে ইসলাম ধর্মাবলম্বিরা মনে করছেন, এগুলো বিছিন্ন এবং উদ্দেশ্য প্রণোদিত ঘটনা। কেউ কেউ দেশকে অস্থির করতে ইসলামের নাম ব্যবহার করে মন্দিরে হামলা করছে। এতে করে ক্ষতি হচ্ছে ইসলামের। কিন্তু ফায়দা লুটে নিচ্ছে সুযোগবাদীরা। সাগরদী ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাও: আশরাফ আলী দেওয়ান বলেন, ইসলাম কখনোই সংখ্যালঘুদের উপর আক্রমন করতে বলেনি। বরংছ তাদেরকে আশ্রয় দেবার জন্য হাদিস প্রণিত হয়েছে। সেখানে যারা সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় উপাসনালয়ে হামলা করছে তারা শুধু সংখ্যালঘুদের নয় একই সাথে ইসলামেরও শত্রু।

 

এদিকে বানারীপাড়ায় হামলার ঘটনার কিছুই জানেন না মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি নারায়ন চন্দ্র দে নারু। যে কারনে তিনি আতঙ্ক বা অন্য কোন অবস্থানে রয়েছেন হিন্দু সম্প্রদায় তা সংক্রান্ত কোন কথা বলতে পারেননি। বাংলাদেশ হিন্দু-বৈদ্য-খ্রিস্ট্রান ঐক্য পরিষদের নেতা কিশোর কুমার দে বলেন, আমরা আতঙ্কের মাছে আছি। প্রশাসনের অবস্থান ভালো হালেও কোন সময় কি ঘটে তাতো বলা যায় না।

14 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন