২৩শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার

আবারো মহামারির শঙ্কা, চীনে ছড়াচ্ছে নতুন ভাইরাস

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৭:১৩ অপরাহ্ণ, ৩০ জুন ২০২০

বার্তা পরিবেশক, অনলাইন :: চীনে অদৃশ্য ভাইরাস থেকে এখনো রক্ষা পায়নি বিশ্ব। করোনার ভয় এখনো কাটেনি এরই মধ্যে বিজ্ঞানীরা নতুন এক ফ্লু ভাইরাস চিহ্নিত করেছেন। সেই চীনেই মিলেছে নতুন এই ভাইরাস।

করোনার মতো এটিও মহামারি আকারে দেখা দেয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করেছেন তারা। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, সম্প্রতি চিহ্নিত হওয়া এই ভাইরাসটি শূকর বহন করে। মানুষের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি’র প্রতিবেদন।

চীনের বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, শূকরবাহিত নতুন ফ্লু ভাইরাসটির মানুষকে আক্রান্ত করার মতো অভিযোজিত হওয়ার সব ধরনের লক্ষণ রয়েছে। এছাড়া নতুন ভাইরাস, কাজেই মানুষের সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম থাকবে। তবে এখনই উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো কিছু না থাকলেও এটি নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা দরকার বলে মনে করেন বিজ্ঞানীরা।

নতুন এই ফ্লু ভাইরাসের নামকরণ হয়েছে জি৪ইএএইচ১এন১। এটি মানুষের শ্বাসযন্ত্রের মধ্যে বেড়ে উঠতে এবং বিস্তার ঘটাতে পারে। যারা চীনে শূকর এবং কসাইখানায় কাজ করছেন তাদের এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার প্রমাণ মিলেছে।। বর্তমানে যেসব টিকা বাজারে রয়েছে সেগুলো প্রয়োগ করে সুরক্ষা পাওয়া যাচ্ছে না।

চীনে নতুন যে ফ্লু ভাইরাস পাওয়া গেছে তার সঙ্গে ২০০৯ সালে মেক্সিকো থেকে ছড়িয়ে পড়া সোয়াইন ফ্লুর মিল রয়েছে। এখন পর্যন্ত এটা বড় কোনো হুমকি তৈরি করেনি। কিন্তু ভাইরাসটি নিয়ে গবেষণা করা যুক্তরাজ্যের নটিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত প্রফেসর কিন-চো চ্যাং এবং তার সহকর্মীরা বলছেন, এর ওপর নজর রাখার প্রয়োজন রয়েছে।

প্রফেসর কিন-চো চ্যাং বলেছেন, ‘এই মুহূর্তে আমরা করোনাভাইরাস নিয়ে বিক্ষিপ্ত হয়ে রয়েছি এবং সেটাই সঠিক। কিন্তু আমাদের অবশ্যই নতুন ভাইরাসের সম্ভাব্য বিপদের ওপর থেকে চোখ সরানো চলবে না।’ নতুন এই ভাইরাসটি এখনই সমস্যা তৈরি করছে না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের এটি কোনওভাবেই অবহেলা করা উচিত হবে না।’

গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের উহান শহর থেকে ছড়িয়ে পড়ে করোনাভাইরাস। অনেক তর্ক-বিতর্ক থাকলেও অধিকাংশের ধারণা এটি বাদুড় থেকে ছড়িয়েছে। ইতোমধ্যে কভিড-১৯ তার ভয়ংকর ক্ষমতা দেখিয়েছে।

ছড়ানোর ছয় মাসের মধ্যে এতে বিশ্বের এক কোটির বেশি আক্রান্ত হয়েছে, পাঁচ লাখের বেশি মানুষ মৃত্যুবরণ করেছেন। এখন পর্যন্ত এর কোনো প্রতিষেধক কিংবা টিকা আবিষ্কার সম্ভব হয়নি। এটা আর কতদিন থাকবে কেউ বলতে পারেন না।

এরইমধ্যে শূকরের বহন করা ফ্লু ভাইরাস চিহ্নিত হলো। গবেষকদের আশঙ্কা, শূকর থেকে সহজে মানুষে ছড়াতে পারে। এটি আরো অভিযোজিত হয়ে নতুন মহামারিতে পরিণত হতে পারে।

6 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন