২৪শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার

আ’লীগ নেতার পুত্রদের বিরুদ্ধে স্কুলছাত্র খুনের অভিযোগ

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৮:৫১ অপরাহ্ণ, ০৫ জুলাই ২০১৭

বাবুগঞ্জে আওয়ামী লীগ নেতার পুত্রদের বিরুদ্ধে মধ্য ভূতেরদিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র ইয়াসিন মোল্লাকে (১৫) পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর নিহতের মা নাসিমা বেগম বাদী হয়ে বরিশালের সিনিয়র জুডিসিয়াল আদালতে বুধবার একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলাটি আমলে নিয়ে আগামী ২৬ জুলাইয়ের মধ্যে নিহত ইয়াসিনের ভিসেরা রিপোর্ট দাখিলের জন্য বাবুগঞ্জ থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন জ্যেষ্ঠ বিচারক রেজোয়ানা আফরিন।

ওই মামলায় উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিম জমাদ্দারের পুত্র দীপু ও অপু জমাদ্দার ছাড়াও একই গ্রামের রাকিব খাঁ, সাকিব চৌকিদার, নাঈম ও বাবুসহ ৬ জনকে আসামী করা হয়েছে। অভিযুক্তরা সবাই নিহত স্কুলছাত্র ইয়াসিন মোল্লার বন্ধু এবং একত্রে চলাফেরা করতো। এদিকে আওয়ামী লীগ নেতার পুত্রদের আসামী করায় ঘটনায় উপজেলার কেদারপুর এলাকায় তোলপাড় চলছে। আসামীদের পক্ষে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ওই হত্যা মামলা তুলে নিতে তার অফিসে ডেকে নিয়ে হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে নিহতের পরিবার।

একটি ভাড়ার মোটরসাইকেল নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে গত ২৩ মে মধ্য ভূতেরদিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র ইয়াসিন মোল্লাকে মোবাইল ফোনে বাড়ি থেকে দুপুরে ডেকে নিয়ে গিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে তার বন্ধুরা। নিহতের মা নাসিমা বেগম দাখিলকৃত আর্জিতে জানান, সাড়ে পাঁচআনি গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা সেলিম জমাদ্দারের পুত্র দীপু জমাদ্দার ও অপুসহ তাদের সহযোগী রাকিব খাঁ, সাকিব চৌকিদার, নাঈম ও বাবুসহ ৭/৮ জন ইয়াসিন মোল্লাকে দুপুরে বাড়ি থেকে ডেকে প্রায় ২ কিলোমিটার দূরবর্তী একটি পাটক্ষেতে নিয়ে বেদম মারপিট করে বিষ প্রয়োগ করে।

পূর্বপরিকল্পনা মাফিক ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে প্রচার করে বিকেলে মৃতপ্রায় অবস্থায় ইয়াসিনকে তারা বাড়ির সামনে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। এসময় মুমূর্ষ অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলেও সন্ধ্যার আগেই মৃত্যু হয় তার। এদিকে আসামীরা প্রভাবশালী হওয়ায় বাবুগঞ্জ থানা পুলিশ হত্যা মামলা না নিয়ে পোস্টমর্টেম এবং ভিসেরা রিপোর্টের দোহাই দিয়ে ঘুরাতে থাকে এবং নিজেরা একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করে। ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য আসামী পক্ষের কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা ঘুষ নেয় বাবুগঞ্জ থানা পুলিশ।

এ কারণে চারবার থানায় যাওয়ার পরেও পোস্টমর্টেম রিপোর্টের দোহাই দিয়ে পুলিশ মামলা নেয়নি বলে অভিযোগ করেন নিহতের মা নাসিমা বেগম। তিনি আরো অভিযোগ করেন, থানায় মামলা করতে যাবার কারণে স্থানীয় কেদারপুর ইউপি চেয়ারম্যান তাকে চৌকিদার দিয়ে অফিসে ডেকে নিয়ে হুমকি দেন এবং প্রাণে বাঁচতে চাইলে এলাকা ত্যাগের নির্দেশ দেন।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে কেদারপুর ইউপি চেয়ারম্যান নুরে আলম বেপারি স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন, আসামীরা আমার দলীয় লোক বিধায় ঘটনাটি সমাধানের জন্য বাদী পক্ষকে ডাকা হয়েছিল। হুমকি দেওয়ার বিষয়টি সত্য নয়।

এদিকে ঘুষ গ্রহনের অভিযোগ প্রসঙ্গে বাবুগঞ্জ থানার ওসি আবদুস সালাম জানান, নিহত ইয়াসিনের মা কয়েকবার থানায় এসেছিলেন। তবে হত্যা মামলা নেয়া যাবে না এমন কথা বলা হয়নি। ভিসেরা রিপোর্ট আসা পর্যন্ত তাকে শুধু অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে। আসামীদের কাছ থেকে ঘুষ গ্রহনের অভিযোগ অবান্তর বলে দাবি করেন ওসি।”

7 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন