১১ ঘণ্টা আগের আপডেট সকাল ৮:৩২ ; বৃহস্পতিবার ; মে ২৬, ২০২২
EN Download App
Youtube google+ twitter facebook
×

আসুন বগল বাজাই

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট
৬:৩৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৬, ২০১৬

এক কিশোর একটা বাইসাইকেল কিনলো। সাইকেলটি লাল রঙয়ের। কেনার পর দোকান থেকে নেমেই তা ধেই-ধেই করতে করতে চালাতে লাগলো। নতুন সাইকেল, কিশোরের মনে আনন্দ। এতদিন পায়ে হেটে বা অপরের সাইকেলের ক্যারিয়ারে ঝুলতে ঝুলতে পথ পেরিয়েছে। সেখানে আজ নিজের সাইকেল। প্যাডেল ঘুরাবে আর সাইকেল দৌড়াবে। প্যাডেল ঘুরাবে আর পথ পেরিয়ে যাবে। আহা ! কি আনন্দ আকাশে বাতাসে।
কিশোরের আনন্দের সীমা নেই। জোরে জোরে প্যাডেল ঘুরাচ্ছে। যেতে যেতে এমন একটা রাস্তায় উঠে এলো যার চারদিকে জনমানব শূন্য। হঠাৎ তার চাকা গেল পাংচার হয়ে। সাইকেল গেল থেমে। এবারতো কিশোরের মুশকিল হলো। কি করবে? মনে মনে ভাবলো আনন্দ এলেই বুঝি পাশে পাশে চলে আসে নিরানন্দ। কিন্তু না, কিশোরের এক বন্ধু মোটরবাইক নিয়ে ঐ পথ দিয়েই কোথাও যাচ্ছিল। যেতে যেতে দেখলো তার বন্ধু বাইসাইকেল পাংচার হওয়ায় একা অসহায় হয়ে দাড়িয়ে রয়েছে। মোটর বাইক চালক বন্ধুটি শেষে বুদ্ধি দিলো বাইসাইকেলটি একটা রশি দিয়ে মোটরবাইকের ক্যারিয়ারের সাথে বেধে দিতে। সে শুধু বাইসাইকেলে বসে দিক ঠিক ভাবে ধরে রাখবে। যে কথা সেই কাজ। মোটরবাইকওয়ালা বন্ধু ধীরে ধীরে চালাচ্ছিল আর দুবন্ধু গল্প করতে করতে পথ চলছিল। হঠাৎ এক প্রাইভেট কার চলে এলো মোটরবাইক ও পাংচার হওয়া সাইকেলের পাশে। প্রাইভেট কারের চালক আবার রুপবতী ভরা যৌবনা তরুনী। এমনই আজব কান্ড, তরুনীটি এবার বাইক চালক কিশোরকে দিলো ‘হাই’। তারপর প্রাইভেট কারটি ছুটে গেল হু-হু করে। বাইক চালক বন্ধুটি এবার স্থির থাকে কি করে? বন্ধুর কথা ভুলে দিলো গাড়ির পিকআপ বাড়িয়ে। গো-গো করে ছুটতে লাগলো মোটরসাইকেলটি।

ওদিকে মোটরসাইকেলের ক্যারিয়ারে পাংচার হওয়া বাইসাইকেল বাধা বন্ধুরতো বেকায়দার দশা। সে কতক্ষন চেচালো। কিন্তু তাতে তার বন্ধু বাইক চালক বাগে আসলো না। সুন্দরী তরুনীর ‘হাই’ পেলে কে বাগে আসতে চায় বলুন। ক্রমশ আরও পিকআপ বাড়তে লাগলো মোটরবাইকের। তার টার্গেট প্রাইভেটকার চালক ভরা যৌবনা তরুনীকে ধরে পাল্টা হাই-হ্যালো বলে অম্ল মধুর একটা খাতির জমানো। এভাবে চলছিল অনেকটা পথ। মোটরবাইক চালক বন্ধু গো গো করে চালাচ্ছিল তার ইঞ্জিন চালিত বাইক। আর ছুটে যাচ্ছিলেন হু-হু করে। পিছনে ক্যারিয়ারে বাঁধা পাংচার হওয়া সাইকেলওয়ালা কোন উপায়ে বন্ধুকে থামাতে না পেরে শেষে আত্মরক্ষার্থে সাইকেলের বেল বাজাতে লাগলেন। মোটর বাইক ছুটছে, টেনে নিয়ে যাচ্ছে পাংচার হওয়া বাইসাইকেল। বাইসাইকেলে বসে কোন কিছু থামাতে না পেরে বন্ধু বাজাচ্ছে বেল। এ অবস্থায় হঠাৎ ট্রাফিক সিগন্যাল পরলো সামনে। ট্রাফিক সার্জেন্ট আটকাতে লাগলেন গাড়ি তিনটি। গাড়ি আটকের একমিনিটের মাথায় প্রাইভেট কারটি অনায়াসে ছেড়ে দিলেন। তার তিন মিনিটের মাথায় মোটরবাইকটি। কিন্তু আটকে রাখলেন পাংচার হওয়া বাইসাইকেল ও তার চালককে। ট্রাফিক সার্জেন্টের ব্যাখ্যা হলো, বড়লোক ঘরের তরুনী প্রাইভেটকার জোরে চালাতেই পারেন। তা দেখে মোটরবাইক জোরে চালানোও অস্বাভাবিক নয়। আফটার অল তরুনী দেখলে তরুনদের মাথা ঠিক না থাকারই কথা। তাই বলে তোর পাংচার হওয়া সাইকেল নিয়ে এদের পিছনে পিছনে ছুটছিলি। নিশ্চয়ই তোর মাথায় ঐ প্রাইভেটকার চালক এবং মোটরবাইক চালককে অপহরণের চিন্তা ছিল। আবার জোরে ছুটছিলি তা বেশ ভাল কথা, তাই বলে বেল বাজাচ্ছিলি কেন?
শেষে পাংচার হওয়া বাইসাইকেল নিয়ে পাল্লা দেয়া এবং ঘন ঘন বেল বাজানোর অপরাধে কিশোরকে জেলে পাঠানো হলো।

২.

এতক্ষন গল্প নিয়ে যা বকবকানি করলাম তা আসলে গল্প নয়। উপগল্প। মূল প্রসঙ্গ অবশ্য ভিন্নতর। মূল প্রসঙ্গে গেলে কেউ গল্পের কথা ভুলে যাবেন না। কোথাও এর সাথে কাকতালিয়ভাবে মিলে যেতে পারে। কথা হলো, বর্তমানে বরিশালের প্রেক্ষাপটে সাংবাদিকদের নিয়ে জোরালো হৈ-চৈ চলছে। প্রেমিক-প্রেমিকা জুটি আটকে টাকা আদায় যা প্রশাসনের ভাষায় চাঁদাবাজি করতে গিয়ে ৩ সাংবাদিকসহ পাঁচজন কারাগারে গেছেন। এনিয়ে সম্পাদক মহোদয়রা বলছেন সাংবাদিকরা প্রবলভাবে চাঁদাবাজ। আর কতিপয় সাংবাদিক আবার সম্পাদক মহোদয়দের অন্ডকোষ মুখে পুড়ে লেহন মর্দন করতে করতে বলছেন, সঠিক সঠিক। একই সাথে নিজের শরীরে তাকিয়ে বলছেন, আমি কিন্তু জীবনেও অসৎ পথে টাকা রোজগার করিনি। এই যে বলছেন, আমি জানি তিনিও চাঁদাবাজ। নয়তো তার পরিবার চলে কি করে?

বরিশালের আঞ্চলিক দৈনিকে যারা কাজ করে তার আপদমস্তক এই চাঁদাবাজির তকমা থেকে নিরাপদ থাকতে পারেন না। কারন এখানে এই লাইনটাই নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি। তো যেসব জ্ঞানী, গুনি, প্রতিতযশা বা কথিতযশা সম্পাদক/পত্রিকার মালিক মহোদয়রা কোমরে কাছা গুজে গলাবাজিতে নেমেছেন যে সাংবাদিকরা খারাপ…খারাপ তাদের শরীর থেকে গন্ধ আসে। ওদের ত্যাগ করো। আর যারা আটক হয়েছেন তারা অপরাধ করেই আটক হয়েছেন। তাই বলে যে তারা সাংবাদিক না তেমন সার্টিফিকেট দেয়ার কোন কারন নেই। অনেকেই বলছেন আমি ভুল করেছি ওদের চিনতে না পেরে। এখন চিনেছি। আর নয়। আর নয় ওদের সাথে খাতির। আমি মেনে নিলাম, লোকাল পত্রিকার সম্পাদকদের ভাষ্যমতে সাংবাদিকরা চাঁদাবাজ। সত্যকথা এবং সাবলিল কথা। তারা চাঁদাবাজি করেন এবং লোকজনকে জিম্মি করেন। প্রশ্ন হলো কেন তারা চাঁদাবাজ? আমার বিশ্বাস এই প্রশ্নের সৎ জবাব কোন সম্পাদক দিতে পারবেন না। আপনি চাঁদাবাজ সাংবাদিকের প্রশ্ন কোন সম্পাদক/পত্রিকার মালিককে করুন দেখবেন লজ্জাবতী পাতার মত তারা নিস্তেজ এবং চুপসে যাবেন। দুনিয়ায় সম্পাদক/পত্রিকার মালিকগন আজরাইলের সাথে চাপাবাজি করতে থাকলেও এই একটি জায়গায় তারা নিস্তেজ হয়ে পরেন। আমার একযুগের সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতায় এটুকু অন্তত জেনেছি।

 

বাদ দিলাম তাদের কথা। আসল প্রসঙ্গে আসি। লোকাল সাংবাদিকতা আসলে কি? এখানে আমার নিজস্ব একটা সংজ্ঞা রয়েছে। তা হলো, লোকাল পত্রিকার সাংবাদিক হলো এক একজন দালাল যারা সম্পাদক/পত্রিকা মালিকদের স্বার্থ সিদ্ধি করতে সার্বক্ষনিক ডিউটি করে থাকে। আর একেবারে মফস্বলে যারা তারাতো পত্রিকার প্রতিনিধি নামান্তরে হকার। মাস শেষে পত্রিকা বিক্রির বিল পরিশোধ আর দৈনিক নিউজ ছাপাতে হলে সম্পাদকদের ফ্লেক্সিলোডে/বিকাশে টাকা পাঠানোতো মামুলি ব্যাপার। ওষুধ প্রতিনিধিদের যে কাজ তেমনি কাজ বরিশালের সাংবাদিকদের। আপনি হয়তো জানবেন শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজে, পাসপোর্ট অফিসে, ভূমি অফিসে, আদালতে এমন কতক লোক আছেন যারা চিহ্নিত সাংবাদিক। আবার তারাই সাংবাদিকতার বাইরে চিহ্নিত দালাল। এরা ঐসব দফতরে মহামান্য সম্পাদকদের হয়ে পৌছে যান। যা রোজগার হয় দিনের আলো নেভার সাথে সাথে ভাগ দেন সম্পাদকদের।

 

৩.

জীবনের একটা অভিজ্ঞতা বলি। পাঁচ বছর আগের কথা। একটা পত্রিকায় যোগদান করার তিনমাস পরে সম্পাদকের সাথে বিনায়বত হয়ে বললাম, স্যার একটা আইডি কার্ড দিবেন না? চলাচল করতে প্রশাসনের লোক হয়রানি করছে। আমি সম্পাদক মহোদয়ের নাম উল্লেখ করতে চাই না। তিনিতো আকাশ থেকে পরলেন। আমার মুখের দিকে তাকিয়ে বললেন, তোমার কাছে আইডি কার্ড করার খরচা বাবদ ২৫০ টাকা চেয়েছিলাম। তাতো দাওনি। তাহলে আইডি কার্ড কি আমার গাটরির টাকায় তৈয়ার করে দেব? এর উত্তর দেবার মত আমার কোন ভাষা ছিল না। মাথা নত করে ঐ ডেস্ক থেকে বেরিয়ে এলাম। যে ডেস্কে আইডি কার্ড করতে টাকা দিতে হয় সেখানে আপনি কি মনে করেন আপনাকে বেতন দিবে? ভাবলেন কি করে? এটুকু চিন্তা করুন, যে ডেস্কে কার্ড করতে খোদ সম্পাদক/প্রকাশক টাকা চেয়ে থাকেন সেখানের সাংবাদিকরা চাঁদাবাজী, চুরি, লোক ঠকানোর কাজ করবে নাতো কি করবে? তাদেরতো কেউ মাস শেষে ভাত খাবার টাকা দেয় না।
একবার আইডি কার্ড পেয়ে গেছিলাম বিনে পয়সায়। একটা নতুন পত্রিকার অভিজ্ঞতা এটা। আমিতো আনন্দে বগল বাজাতে শুরু করলাম। একই সাথে লোকাল পেপার সর্ম্পকে নঞার্থক ধারনা এক ঝলকে বদলে ফেলি। কারন ঐ ডেস্কে আমাকে চার হাজার টাকা বেতন দেবে বলে চুক্তি হয়েছিল। প্রথম মাসেই ঘটা করে আইডি কার্ড দিলো। মিটিং হলো, ফিটিং হলো..তারপর সেটিং করে আইডি কার্ড হাতে দিলো। ওই আইডি কার্ড দিয়েছিল সম্ভবত ফেব্রয়ারি মাসের ২৪ তারিখ। হাউজের দেয়া সিদ্ধান্ত মোতাবেক ৫ তারিখ অফিস স্টাফদের বেতন দেয়া হবে। কিন্তু পাঁচ তারিখ তেমন কোন আলামত পাওয়া গেল না। এমনকি দশ তারিখ পেরিয়ে গেল। এগারো তারিখ সম্পাদককে বললাম, স্যার বেতনটা পেলাম না। চারবার একই কথা বলে দৃষ্টি আর্কষণ করছিলাম। যদিও সেই কক্ষে আমি আর সম্পাদক ছাড়া কেউ ছিলেন না। দফায় দফায় চেষ্টা করে একবার দৃষ্টি আর্কষণ হলো বটে। সেবার তিনি অগ্নিশর্মা। রেগেমেগে হেগে দেবার পালা। ক্ষিপ্ত হয়ে বললেন, দেখুন মেহেদী সাহেব, বরিশালের কোন পত্রিকায় ঠিক ঠিক বেতন দেয় তা একটু বলেনতো। আমি বলি, অন্যের পেপারে কি করে সেটাতো দেখার বিষয় না। আপনার সাথে চুক্তি হয়েছিল চার হাজার টাকা বেতন দিবেন। তিনি আরও রেগে বললেন, আমাকে জ্ঞান দিবেন না। আপনাকে আইডি কার্ড দিয়েচি না? জবাবে আমি হ্যা সূচক শব্দ উচ্চারণ করি। তিনি এবার যথারিতি ছোটখাটো ধমক দিয়ে বললেন, যেহেতু আইডি কার্ড দেয়া হয়েছে তাহলে আবার বেতন কিসের? ঐ দিয়ে কামাই করে খান। পারলে কিছু আমাকেও দিয়েন।
এই হলো অবস্থা। লোকাল পত্রিকার সম্পাদকদের চরিত্র এ ধরনে। এমন কয়েকটি ডেস্কে কাজ করেছি যারা অষ্টম ওয়েজ বোর্ডভুক্ত পত্রিকা। সেখানে বিশেষ প্রতিবেদক হিসেবে যোগ দেবার পর বুঝেছি কতটা প্রতারণা করে থাকে এসব প্রতিষ্ঠান। মাস শেষে বিল বহিতে ১৭ হাজার ৭৩৮ টাকা বুঝিয়া পাইলাম মর্মে স্বাক্ষর করলেও সেখানে বেতন পেতাম মাত্র ১১শ টাকা। একই সাথে পত্রিকার সম্পাদকরা নিয়মিত তাগাদা দিতে থাকেন বিজ্ঞাপন সংগ্রহের জন্য বা ব্যক্তি আক্রোশে সংবাদ করার জন্য যাতে প্রতিবাদ দিতে আসে। আর প্রতিবাদ মানে টাকা খরচা করা বা সম্পাদকদের কাছে জিম্মি হয়ে পরা তা কে না জানে? বরিশালে দেহব্যবসার হোটেল থেকে, মাদক ব্যবসায়ী থেকে, অবৈধ ডায়াগনস্টিক থেকে, অটো রিকশা সমিতি থেকে, অবৈধ স্পিড বোট থেকে, পাসপোর্ট অফিস থেকে সম্পাদকদের নামে খাম যায়। কোন মাসে খাম যেতে দেরি করলেই তার বিরুদ্ধে সম্পাদকীয় লেভেল থেকে এ্যাসাইনমেন্ট আসে যেন ঐ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিউজ করা হয়। অবাক করা কথা হলো, এসব সম্পাদকের নামে যে সব স্পট থেকে চাঁদা বা সালামি বা মাসোহারা আসে সেখানে পাঠানো হয় কোন এক সংবাদিককে।

ধরুন ঐ সাংবাদিক সালামি আনতে গিয়ে প্রশাসনের হাতে আটক হলেন। তখন কিন্তু সেই সম্পাদক আটকা পরা সাংবাদিকের দায় নিবেন না। উল্টো পত্রিকায় বড় করে ছেপে দিবেন, অমুক সাংবাদিক বহিস্কার। এমনকি দু-চার পৃষ্ঠা কলাম লিখে ছেপে দিবেন, উফ সাংবাদিকরা চাঁদাবাজ। তাদের ছায়া থেকেও গন্ধ আসে। পেছনের কথা কিন্তু তিনি বলবেন না। আমি স্বিকার করি এখন লোকাল পত্রিকায় টিভি মেকার থেকে সুইপার, চতুর্থ শ্রেণী পাস সাংবাদিকের অভাব নেই। কিন্তু কে এদের হাতে সাংবাদিকতার লাইসেন্স দেন? টাকার বিনিময়ে কার্ড ধরিয়ে দিয়ে কারা এদের চাঁদাবাজিতে নামান? সে বিষয়টাও স্পষ্ট হওয়া জরুরী। এখন যে ছ্যা ছ্যা করছেন, তো আপনাদের বিবেক কোথায় ছিল এতদিন? একসময়ে তিরষ্কার করে বলতাম কার্ডধারী সাংবাদিক শহরে এত বেশি হচ্ছে যে কয়দিন পরে সাধারন জনতা খুঁজে পাওয়া যাবে না। সেই বাস্তবতা চলে এসেছে। ক্রমান্বয়ে এমন দিন আসছে যে সাধারন মানুষ কার্ড নিয়ে ঘুরবে যে তিনি সাধারন। এত এত সাংবাদিক বাড়বে যে তখন সাধারন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর হবে। এদিকে ঘটছে অন্য কান্ড। ডিজিটাল বাংলাদেশে ফেসবুক একাউন্টের চেয়ে বাড়ছে অনলাইন পোর্টাল। একটা ডোমেইন হোস্টিং কিনে দেড়-দুই হাজার টাকায় ডিজাইন করে মাত্র চার-পাঁচ হাজার টাকা খরচা করে হচ্ছেন সম্পাদক। এদের যোগ্যতা হলো অন্যের পোর্টল থেকে সংবাদ চুরি করে নিজের পোর্টালে পেস্ট করতে পারা। কেডিসি বস্তির প্যাথড্রিন বিক্রেতাও এখন অনলাইন পোর্টালের সম্পাদক। আবার অনেকে তেমন কষ্ট করতে যান না। ফ্রি ব্লগ খুলে যে পরিমান লম্ফ-ঝম্ফ দেন তা প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান দেন কি না সন্দেহ।

৪.

এভাবে সার্বিক বিষয়ে প্রকৃতপক্ষেই বরিশালে সাংবাদিকতায় অবক্ষয় চলছে। এর পিছনে ৯৮ ভাগ দোষ পত্রিকা হাউজের/পত্রিকা মালিকদের। তারা যদি নূন্যতম বেতন দিতেন তাহলে সাংবাদিকরা কখনো ক্ষেত্র বিশেষে কথিত/চাঁদাবাজ সাংবাদিক হতে হত না। হ্যাঁ, বেতন যে দেন না তেমন নয়। আমি একটা পত্রিকা হাউজের বেতনের কথা প্রকাশ করছি। তবে পত্রিকাটির নাম উল্লেখ করছি না বিশেষ কারন হেতু। ঐ পত্রিকাটি মোটামুটি জমজমাট। সেখানে প্রধান বার্তা সম্পাদক পান ৪০০০ টাকা, যুগ্ম বার্তা ৩০০০ টাকা, চীফ রির্পোটার ২৫০০ টাকা, সিনিয়র ৩ জন রিপোর্টার ১৫০০ টাকা করে, রিপোর্টার ১০০০ ও ৫০০ টাকা করে। অথচ ঐ পত্রিকার অফিস পিওনের বেতন ৫০০০টাকা। যা পত্রিকাটির প্রান বার্তা সম্পাদকের চেয়ে ১০০০টাকা বেশি। আবার অনেক ডেস্ক আছে যেখানে কোন কোন সাংবাদিক বসেন দৈনিক একটি বেনসন সিগারেট পাবার চুক্তিতে।
সুতরাং কয়েকজন সাংবাদিক গ্রেফতার হবার পরে যারা ছ্যা ছ্যা করে বগল বাজাচ্ছেন যে দোষ ব্যাটা সাংবাদিকের তাদের বলবো উপরের গল্পটা আর একবার মনে করার জন্য। গল্পে বেচারা বাইসাইকেলওয়ালার জেলে যেতে হয়েছে বেল বাজানোর অপরাধে। তেমনি বরিশালে সাংবাদিকতায় চাঁদাবাজি করার লাইন ধরিয়ে দিয়ে যারা প্রাইভেটকার বা মোটরবাইকের মত পিকআপ বাড়াচ্ছেন তারা অনায়াসে ছাড়া পেয়ে যান। ধরা পরে থাকেন পাংচার হওয়া সাংবাদিকপাল। আমার অনুরোধ হলো, যারা বগল বাজাচ্ছেন যে সাংবাদিক খারাপ তাদের উচিত আগে নিজের শরীরের দিকে তাকানো। ভাই আপনার শরীরেইতো ডাস্টবিন তো অন্যের দিকে থু থু ছুড়ছেন কেন?

৫.

একটা গল্প দিয়ে শেষ করছি। এক পাগল রাস্তা দিয়ে দেশের প্রেসিডেন্টকে গালাগাল করতে করতে যাচ্ছিল। তার সারা শরীর উদোম। কেবলমাত্র লজ্জাস্থানের সামনে একটা রুমাল ঝুলানো। পাগলের এই দশা দেখে রাস্তার চারপাশে যারা ছিল তারা হাসাহাসি করছিল। কেউ জামা দিয়ে মুখ ঢাকলো, কেউ ওড়না দিয়ে। আবার কেউ রুমাল দিয়ে মুখ ঢেকে হাসছিল। পাগল যখন দেখলো অন্যরা হাসাহাসি করছে তখন সে নিজেও অন্যদের মত করে হাসার তাগিদ অনুভব করে। কিন্তু সে কি দিয়ে মুখ ঢেকে হাসবে? শেষে পড়নে থাকা শেষ বস্ত্র অর্থাৎ লজ্জাস্থানের সামনে ঝুলানো রুমালটি খুলে তা দিয়ে মুখ ঢেকে হাসতে শুরু করলো। আর বলতে লাগলো, আমি শরম পাইছি, শরম পাইছ। এটাই হলো বরিশালের লোকাল পেপারের স্টাইল।

কলাম, খবর বিজ্ঞপ্তি

 

আপনার মতামত লিখুন :

 
ভারপ্রাপ্ত-সম্পাদকঃ শাকিব বিপ্লব
© কপিরাইট বরিশালটাইমস ২০১২-২০১৮ | বরিশালটাইমস.কম
বরিশালটাইমস মিডিয়া লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান।
ইসরাফিল ভিলা (তৃতীয় তলা), ফলপট্টি রোড, বরিশাল ৮২০০।
ফোন: +৮৮০২৪৭৮৮৩০৫৪৫, মোবাইল: ০১৮৭৬৮৩৪৭৫৪
ই-মেইল: [email protected], [email protected]
© কপিরাইট বরিশালটাইমস ২০১২-২০১৮
টপ
  প্রধানমন্ত্রীকে কটুক্তির প্রতিবাদে বাউফলে স্বেচ্ছাসেবক লীগের বিক্ষোভ মিছিল  বাউফলে বন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গাছ বিক্রির অভিযোগ  ঝালকাঠি/ আওয়ামী লীগ ও পুলিশের বাধায় বাগানে সম্মেলন করল বিএনপি  গণকমিশনের লোকজনই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত: চরমোনাই পির  সাংবাদিকের মা-বাবাকে অচেতন করে ঘরে চুরি  সুগন্ধা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, ২ জনের জরিমানা  বাউফল পৌর ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি  বাউফলে বিকাশ এজেন্টকে কুপিয়ে টাকা ছিনতাই  পটুয়াখালীতে গরুর পচা মাংস বিক্রি: ব্যবসায়ীর জরিমানা  বাউফলে কমিউনিস্ট পার্টির বিক্ষোভ সমাবেশ