২৯শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার

ঈদ উপলক্ষে ২০ টাকার ভাড়া তিন হাজার

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১২:০৫ অপরাহ্ণ, ২৮ জুন ২০১৭

পটুয়াখালী জেলার আগুনমুখা নদীর পানপট্টি টু কোড়ায়ালিয়া নদী পাড়াপাড়ে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। নৌবন্দর কর্তৃপক্ষ যাত্রীপ্রতি বিশ টাকা ভাড়া র্নিধারণ করা হলেও ঈদকে টার্গেট করে দেড়শ থেকে তিন হাজার টাকা ভাড়া আদায় করছে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ। অতিরিক্ত ভাড়া নিয়ে প্রতিনিয়ত লাঞ্ছিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ।

খোঁজ-খবর নিয়ে জানা গেছে, পটুয়াখালী টু রাঙ্গাবালী উপজেলার যোগাযোগের একটি বড় মাধ্যম আগুনমুখা নদী। ওই নদীর গলাচিপার উপজেলাধীন পশ্চিমপাড়ে নৌবন্দরের লঞ্চ র্টামিনাল পানপট্টি এবং নদীর ওপারে রাঙ্গাবালী উপজেলাধীন কোড়ালিয়া। র্টামিনালে ইজাদার পাঁচ টাকা করে নেয়া হলেও মালপত্রের বেলায় ইজাদার অতিরিক্ত টাকা নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। নদী পাড়াপাড়ের জন্য পটুয়াখালী নৌবন্দর কর্তৃপক্ষ লঞ্চ মালিকদের যাত্রীপ্রতি বিশ টাকা ভাড়া র্নিধারণ করে দিলেও প্রতিনিয়ত তারা যাত্রীদের কাছ থেকে ৫০ টাকা করে ভাড়া নিচ্ছেন এবং নদী উত্তাল থাকার অজুহাতে অতিরিক্ত ভাড়া নেয়ারও অভিযোগ রয়েছে।

এ নিয়ে যাত্রীদের সাথে প্রায়শই চলে বাকবিতন্ডা। কিন্তু দীর্ঘ দিনের এই অনিয়মে নৌবন্দর কর্তৃক নেয়া হয়নি কোন ব্যবস্থা।

তাই ঈদকে র্টাগেট করে গত ২০ জুন থেকে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে বলে অভিযোগ করেন সাধারণ যাত্রীরা। অভিযোগে জানা গেছে, ঘাটে জনপ্রতি ৫ টাকার পরিবর্তে ১০ টাকা এবং যাত্রীদের সাথে কোন ব্যাগসহ মালপত্র থাকলে তার জন্য অথিরিক্ত টাকা নেয়া হচ্ছে। লঞ্চ ভাড়া প্রতিনিয়ত ৫০ টাকা নিয়ে থাকলেও এখন একশ থেকে দেড়শ এবং সন্ধ্যার পরে আড়াই থেকে তিন হাজার করে নেয়া হচ্ছে।

এনিয়ে তাদের সাথে কোন আপত্তি চলেনা। প্রতিবাদ করলে মারধোরসহ লাঞ্ছিত হতে হয় লঞ্চ কর্তৃপক্ষের কাছে।

রাঙ্গাবালী সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুজ্জামান মামুন খান অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘ থেকে থেকে ইজাদার ও লঞ্চ কর্তৃপক্ষের কাছে সাধারণ মানুষ জিম্মি হয়ে রয়েছে। বিষয়টি উর্ধ্বতন মহলে একাধিকবার অবহিত করা হলেও তারা কেন পদক্ষেপ নিচ্ছেনা বিষয়টি আমার বোধগম্য নয়? তিনি আরও বলেন, ঈদকে টার্গেট করে বেশ কিছুদিন থেকে ঘাটে এবং লঞ্চে মাত্রা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন। ভাড়া নিয়ে যাত্রীরা মারধোরের শিকার হয়েছেন বলে-আমার কাছে ইউনিয়নবাসী অভিযোগ করেছেন। বর্তমানে তারা দিনে দেড়শ এবং সন্ধ্যার পরে আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা ভাড়া আদায় করছেন।

রাঙ্গাবালী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ দেলোয়ার হোসেন জানান, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগে লঞ্চ মালিকদের গলাচিপা উপজেলা নির্বাহীর কার্যালয়ে ডাকা হয়েছিল এবং নিষেধ করা হয়েছে।

পটুয়াখালী জনৈক ঠিাকাদার খোকন হাওলাদার জানান, তিনি ২৪ জুন দুপুরে তার একটি মোটরসাইকেল নিয়ে নদী পাড় হতে তাকে ঘাট ও লঞ্চে তিন হাজার টাকা দিতে হয়েছে। কাজ শেষ করে সন্ধ্যার পরে পটুয়াখালীতে ফিরতে তাকে লঞ্চেই ২৮শ টাকা দিতে হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করে আরও বলেন, ইজাদার দুই জনের মধ্য আসাদ পটুয়াখালী তিন আসনের সাবেক এমপি গোলাম মাওলা রনির লোক আর এক লিখন গাজী তিনি জেলা শহরের প্রভাবশালী। তাই দুই জনই কোন আইন কানুনের তোয়াক্কা করে না।

এ বিষয়ে দুই ইজারাদারকে একাধিক কলে দিলেও তাদের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।”

এদিকে গত ২৫ জুন অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে এমন তথ্য নিতে এসে দৈনিক সংবাদ পত্রিকার রাঙ্গাবালী উপজেলা প্রতিনিধি রায়হান, মানবজমিন পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি জোবায়ের হোসেন এবং নয়াদিগন্ত পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি মোঃ জাবীর হোসেন মৃদু লাঞ্ছিত হওয়াও ঘটনা ঘটেছে বলে জানান ওই তিন সাংবাদিক।

ওই তিন সাংবাদিক জানান, ঘটনার দিন তারা কোড়ালিয়া লঞ্চ র্টামিনালে পৌছে দেখতে পায়-এমএম আসিক এক্সপ্রেস লঞ্চের মালিক পক্ষের লোক মোঃ কামরুল ও মোঃ বোরহান অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতে যাত্রীদেরকে টানা হেচড়া করছে। এসময় এক বৃদ্ধ যাত্রীরকে ধাক্কা দিয়ে র্টামিনালে ফেলে দেয়া হয়। এ দৃশ্য উপস্থিত সাংবাদিকরা তাদের ক্যামরায় ধারন করার প্রস্তুতি নিলে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ সংবাদিকদের ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেন এবং কেন তা ক্যামেরা ধারন করা হয়েছে তার কৈফিয়ত চাওয়া হয়।

এপর্যায়ে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ ও উপস্থিত সাংবাদিকদের সাথে বাকবিতন্ড শুরু হলে সাংবাদিকরা বিষয়টি রাঙ্গাবালী উপজেলা র্নিবাহী অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) রেজাউল করিম ও রাঙ্গাবালী থানার অফিসার ইনর্চাজ মোঃ সামসুল আরেফিনকে অবহিত করেন। একই সাথে বিষয়টি মোবাইলযোগে পটুয়াখালী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাহেব আলী পাঠানকে জানানো হয়। পরে রাঙ্গাবালী থানার অফিসার ইনর্চাজ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায় না করতে লঞ্চ কর্তৃপক্ষকে মৃদু ভাষায় নিষেধ করেন।

পটুয়াখালী নৌবন্দর কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক জানান, আগুনমূখা নদী পাড়াপাড়ে লঞ্চে বিশ টাকা ভাড়া এবং ঘাটে ৫ টাকা র্নিধারণ করা হয়েছে। কিন্তু লঞ্চ কর্তৃপক্ষ বিশ টাকার বদলে ৫০ টাকা নিচ্ছে এ বিষয়টি আমরা অবগত আছি, কিন্তু ঈদ উপলক্ষে দেড়শ থেকে তিন হাজার নিচ্ছে সে বিষয়টি আমাদের জানা নাই। আমরা লোক পাঠিয়ে এর ব্যবস্থা নেব।”

10 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন