২২শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার

একই পরিবারের চারজনকে হত্যা ২শ’ টাকার জন্য

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৪:১০ অপরাহ্ণ, ২০ জুলাই ২০২০

বার্তা পরিবেশক, অনলাইন ::  একই পরিবারের ৪ জনকে খুুন করা হয়েছে মাত্র ২শ’ টাকার জন্য বলে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্ধী দিয়েছে গ্রেপ্তারকৃত সাগর।

এরপর থেকে র‌্যাব-১২ সকল প্রকার গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে।এর ধারাবাহিকতায় রবিবার (১৯ জুলাই) সকালে হত্যাকান্ডের প্রধান আসামি উপজেলার ব্রাহ্মণবাড়ী গ্রামের মগবর আলীর ছেলে মো. সাগর আলী(২৭)কে গ্রেপ্তার করা হয়।

টাঙ্গাইল র‌্যাব-১২ সিপিসি ৩ এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর আবু নাঈম মোহাম্মদ তালাত এক প্রেস ব্রিফিং এ এসব তথ্য জানান।

প্রেস ব্রিফিং এ জানাানো হয়,টাঙ্গাইলে মধুপুর উপজেলার মাস্টার পাডা এলাকার আব্দুল গনি সহ তার পরিবারের আরও ৩ জন সদস্যকে গত ১৫ জুলাই, বুধবার দিবাগত রাতে হত্যা করা হয়,গত ১৭ জুলাই শুক্রবার সকালে বেলা আব্দুল গনি মিয়ার বাসা থেকে দুর্গন্ধ বের হলে আব্দুল গনির শাশুড়ি ও এলাকার লোকজনের মাধ্যমে দরজা ভেঙে ঘরের ভিতর থেকে আব্দুল গনি (৪৫), তার স্ত্রী তাজিরন বেগম(৩৮), পুত্র তাজেল (১৭) ও ছোট কন্যা সাদিয়া (০৮) লাশ উদ্ধার করা হয়।

জিজ্ঞেসাবাদে সে হত্যাকান্ডের সত্যতার কথা স্বীকার করে জানান,ভুক্তভোগী আব্দুল গনি সুদের ব্যবসা করতো।সাগর আলীর সাথে পূর্বে থেকেই তাদের মধ্যে সুদের লেনদেন ছিলো।কয়েকবার সুদের টাকা দিতে ব্যর্থ হলে সাগর আলী।গত মঙ্গলবার আব্দুল গনির কাছে পুনরায় ২শ’ টাকার জন্য গেলে তাকে অনেক বকাঝকা করে তাড়িয়ে দেয়া হয়।

এতে সাগর অপমান বোধ করলে তার অপর এক সহযোগীকে নিয়ে হত্যা এবং টাকা পয়সা ও সম্পদ লুণ্ঠনের পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী সাগর তার সহযোগীকে নিয়ে বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১০টার দিকে গনির বাসায় যায়। যাওয়ার পূর্বে সাগরের সহোযোগী বাজার থেকে চেতনা নাশক নিয়ে যায়।

সাগর গনি মিয়ার পূর্বপরিচিত হওয়ায় খুব স্বাভাবিক ভাবে বাসায় ঢোকার অনুমতি পায়। আকস্মিক ভাবে চেতনা নাশক ব্যবহার করে গনিকে অচেতন করে।পরিবারে সবাই ঘুমে থাকায় অচেতন করতে সহজ হয়। সবাইকে ঠান্ডা মাথায় গনি মিয়ার বাসায় ব্যবহৃত কুরাল ও আসামিদের ব্যবহৃত দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে প্রত্যেককে এলোপাতারি কুপিয়ে জখম করলে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। গৃহ ত্যাগ করার পূর্বে বাসার মূল্যমান জিনিসপত্র নিয়ে বাসা বাহির থেকে তালা মেরে কেউ দেখার আগে সুযোগে পালিয়ে যায়।

আসামির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পরবর্তীতে আসামির বোনের বাড়ি ব্রাক্ষ্মনবাড়ি (মজিদ চালা) থেকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ধারালো চাকু ও লুন্ঠিদত মালামাল উদ্ধার করা হয়। অপর সহযোগীকে গ্রেপ্তার করতে র‌্যাব-১২ এর অভিযান চলমান রয়েছে।

3 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন