২ ঘণ্টা আগের আপডেট সকাল ৬:২০ ; শুক্রবার ; আগস্ট ২৩, ২০১৯
EN Download App
Youtube google+ twitter facebook
×


 

এক দিনে প্রাণ গেল ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ১০ জনের

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট
১:৫৬ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ৭, ২০১৯

অনলাইন রিপোর্ট:: জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে ১২৮৪ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। আগস্টের প্রথম সপ্তাহের ৬ দিনেই ভর্তি হয়েছেন ১১৪৫১ জন। এ পরিসংখ্যান জানাচ্ছে প্রতিনিয়ত বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী। বাংলাদেশে ডেঙ্গু সংক্রমণের পর এ বছরই সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে জানুয়ারি থেকে গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৯ হাজার ৯১২ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বাসাবাড়িতে চিকিৎসা নিয়েছেন তারা এ তালিকার বাইরে।

এ বছর মৃতের সংখ্যাও প্রতিদিন বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ২৩৪৮ জন আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে রাজধানীতে আক্রান্ত ১২৭৮ জন এবং বাইরের জেলায় ১০৬৪ জন। এ সময়ে সারা দেশে মারা গেছে ১০ জন। তাদের মধ্যে ঢাকায় মারা যান ৬ জন ও বিভিন্ন জেলায় ৪ জন। আগের ২৪ ঘণ্টায় মারা যান ৮ ডেঙ্গু রোগী।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সাইফ উল্লাহ মুন্সী বলেছেন, বিগত ৮ বছরের বাংলাদেশে ডেঙ্গুজ্বরের পরিস্থিতি গবেষণা করে দেখা গেছে প্রতি বছর জুলাই মাসের তুলনায় আগস্টে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেশি বাড়ে। তার এ বক্তব্য ও সরকারি প্রতিষ্ঠান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবের মধ্যে মিল পাওয়া গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব বলছে, চলতি বছরের জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন ১২৮৪, দ্বিতীয় সপ্তাহে ২০৩৫, তৃতীয় সপ্তাহে ২৭৩৪, চতুর্থ সপ্তাহে ৬৬৫৮ জন। চলতি মাসের আগস্টের প্রথম ৬ দিনে হাসপাতালে ভর্তি হন ১১৪৫১ জন।

প্রতিদিন সারা দেশের সরকারি বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হচ্ছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে। ঢামেক হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগ ও শিশু বিভাগের ওয়ার্ড, বারান্দা, করিডোর, সিঁড়ির গোড়া ও লিফটের সামনের ফাঁকা জায়গায়ও শুধু রোগী আর রোগীর অ্যাটেনডেন্স। কোনো রোগীর সঙ্গে ২-৩ জন এটেনডেন্সও রয়েছেন।

গতকাল মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত ঢামেক হাসপাতালে ৩৩৮৪ জন ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৬ জন মারা গেছেন। ২৬৮৮ জন চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে ৬৮০ জন চিকিৎসাধীন। মুমূর্ষু ডেঙ্গু রোগীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে ৫০টি ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) বেড বরাদ্দ দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যেই এই ৫০ বেডের আইসিইউ চালু হবে।

শুধু ঢামেক হাসপাতাল নয়, রাজধানীর সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলো ডেঙ্গু রোগীর ভিড় বেড়েছে। চাপ সামলাতে সরকারের জাতীয় শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট, মিটফোর্ড হাসপাতালের নতুন ভবনে এবং তেজগাঁওয়ের শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি করবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা) অধ্যাপক ডা. সানিয়া তাহমিনা জানিয়েছেন, ঢাকার ক্রমবর্ধমান ডেঙ্গুর প্রকোপ মোকাবিলার লক্ষ্যে গতকাল মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে এক আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়। সভায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, অধিদপ্তরের পরিচালক এমআইএস ডা. সমীর কান্তি সরকার, হসপিটাল সার্ভিস ম্যানেজমেন্টে অপারেশন প্ল্যান (ওপি) লাইন ডক্টর সত্যকাম চক্রবর্তী ও জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল কর্মসূচির দায়িত্বপ্রাপ্ত ডা. আখতারুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।

সভায় ঈদের ছুটিতে যারা ঢাকা ছেড়ে গ্রামের বাড়ি যাবেন, তাদের করণীয়বিষয়ক একটি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এটি সাধারণ জনগণের কাছে এসএমএসের মাধ্যমে জানিয়ে দেবে বিটিআরসি। এ ছাড়া ঈদের ছুটিতে সব সরকারি বেসরকারি হাসপাতালের হেল্পডেস্ক খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা-উপজেলা পর্যায়ে স্থানীয়ভাবে ন্যাশনাল গাইডলাইন অনুযায়ী চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং ছুটিতে কমিউনিটি ক্লিনিকের সার্বক্ষণিক সেবা চালু রাখতে জনবল ও লজিস্টিক নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত হয়।

দেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতির হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহ করে সরকারি প্রতিষ্ঠান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন ও কন্ট্রোল রুম। ঢাকা শহরের ৪০টি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এসব হাসপাতালের বাইরে সারা দেশের ৬৪টি জেলা সিভিল সার্জনদের অফিস থেকেও তথ্য সংগ্রহ করা হয়ে থাকে।

গতকাল মঙ্গলবার (সকাল ৮টা) পর্যন্ত সারা দেশে ২৩৪৮ জন আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। কন্ট্রোল রুমের তথ্যানুযায়ী, জানুয়ারি থেকে গতকাল পর্যন্ত ২৯ হাজার ৯৬৮৭ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হন। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ৩৮, ফেব্রুয়ারিতে ১৮, মার্চে ১৭, এপ্রিলে ৫৮, মেতে ১৯৩, জুনে ১৮৮৪, জুলাইয়ে ১৬ হাজার ২৫৩ জন এবং আগস্টের ছয় দিনে ১১৪৫১ জন। চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ২১ হাজার ৯২১ জন বাড়ি ফিরেছেন এবং বাকি ৭ হাজার ৯৬৮ রোগী চিকিৎসাধীন।

কন্ট্রোল রুমের তথ্যানুযায়ী, রাজধানীর বাইরে ৮টি বিভাগের ৬৪ জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত ১০৬৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ২৭৩, ময়মনসিংহে ৬৮, চট্টগ্রামে ২৩১, খুলনায় ১৬৪, রাজশাহীতে ১০৬, রংপুরে ৬৬ জন, বরিশালে ১২৪ এবং সিলেটে ৩২ জন। রাজধানীর বাইরের জেলাগুলোয় এ পর্যন্ত ৭৭১০ জন আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে ৪৮৭৮ জন বাড়ি ফিরেছেন এবং বর্তমানে ২৮৩২ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন

রাজধানীতে ৬ জনের মৃত্যু

রাজধানীতে গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৩ জন মারা গেছেন। গতকাল মঙ্গলবার মারা যান আমজাদ ম-ল (৫২)। তার বাড়ি মানিকগঞ্জে। ভোররাতে মারা গেছেন মনোয়ারা বেগম (৭৫) নামে এক নারী। তিনি মিরপুরের বাসিন্দা। দুপুরে মারা যান হাবিবুর রহমান (২১)। তার গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরের ভাঙায়। রাজধানীর আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে মারা যান ইতালি প্রবাসী হাফসা লিপি (৩৪) নামে এক নারী। তিনি দেশে বেড়াতে এসেছিলেন। এ ছাড়া বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যান আবদুল্লাহ আল মামুন (৭)। সে রামপুরা একটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। একই হাসপাতালে সোমবার মধ্যরাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় হানিফ (৪২) নামে ব্যক্তি।

ঢাকার বাইরে ৪ জনের মৃত্যু

রাজধানীর বাইরে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দিনাজপুরে এক কিশোর; রংপুরের ৩ বছরের শিশু; চাঁদপুরে স্কুলছাত্রী ও বরগুনায় এক নারী মারা যান। দিনাজপুর এম আবদুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভোর সাড়ে ৫টার দিকে রবিউল ইসলাম (১৭) মারা যায়। রবিউল ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলার নেকমরদ গ্রামের নয়ন ইসলামের ছেলে। রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রিয়ানা নামের তিন বছরের এক শিশু সকাল সাতটায় মারা যায়। সে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার নাকাইহাট এলাকার আশরাফুল আলমের মেয়ে। শিশুটি ঢাকায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়।

ঢাকার মাতুয়াইল শিশু হাসপাতালে দুদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত শনিবার তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মতলব উত্তর উপজেলার ঘনিয়ারপাড় অক্সফোর্ড কিন্ডারগার্টেনের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী মদিনা আক্তার ভোরে ঢাকার ধানমন্ডি জেনারেল অ্যান্ড কিডনি হাসপাতালে মারা যায়। তার বাবা মিজানুর রহমান মধ্যপ্রাচ্যে থাকেন। বরগুনায় মারা যান আমেনা (৫৫) নামের এক নারী। গত সোমবার সন্ধ্যায় বরিশাল শেরে বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। আমেন বরগুনা সদর উপজেলার নলটোনা ইউনিয়নের আগা পদ্মা গ্রামের আবদুর রাজ্জাক মুন্সির স্ত্রী।

জাতীয় খবর

আপনার মতামত লিখুন :

সম্পাদক : শাকিব বিপ্লব
নির্বাহী সম্পাদক : মো. শামীম
প্রধান সম্পাদক: শাহীন হাসান
বার্তা সম্পাদক : হাসিবুল ইসলাম
প্রকাশক : তারিকুল ইসলাম
ভুইয়া ভবন (তৃতীয় তলা), ফকির বাড়ি রোড, বরিশাল ৮২০০।
ফোন: ০৪৩১-৬৪৮০৭, মোবাইল: ০১৭১৬-২৭৭৪৯৫
ই-মেইল: [email protected], [email protected]
© কপিরাইট বরিশালটাইমস ২০১২-২০১৮
টপ
  কাশ্মীরে মুসলিম গণহত্যার ১০টি আলামত প্রকাশ  ‘অ্যাম্বুলেন্স’ শব্দটি উল্টো করে লেখা থাকে কেন  যুবলীগ নেতাকে ডেকে নিয়ে গুলি করে মারল রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা  ভারতের সাবেক মন্ত্রী চিদাম্বরম ৫ দিনের রিমান্ডে  একাত্তরে জন্মগ্রহণকারী শিশুও যুদ্ধাপরাধী!, তোলপাড়  ডেঙ্গু আক্রান্ত ৯৪ ডাক্তারসহ ৩০০ স্বাস্থ্যকর্মী  স্বামী বেশি ভালোবাসায় বিচ্ছেদ চেয়ে আদালতে স্ত্রী!  ভারতের ওপর ক্ষুব্ধ ট্রাম্প!  সাইবার হামলা চালিয়ে ভারতের ৬৮ লাখ নথি চুরি  কাশ্মীরে শুক্রবার কারফিউ ভেঙে বিক্ষোভ মিছিলের ডাক