৮ ঘণ্টা আগের আপডেট সকাল ৬:১৪ ; বুধবার ; জুলাই ৮, ২০২০
EN Download App
Youtube google+ twitter facebook
×

এখনো রক্তের রঙ ভোরের আকাশে

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট
১:২৪ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৫, ২০১৯

শেখ মুজিবুর রহমান :: ‘ … ১১ (১৯৬৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাস) তারিখে রেণু এসেছে ছেলেমেয়ে নিয়ে দেখা করতে। আগামী ১৩ তারিখে ঈদের নামাজ। ছেলেমেয়েরা ঈদের কাপড় নেবে না। ঈদ করবে না, কারণ আমি জেলে। ওদের বললাম, তোমরা ঈদ উদযাপন কর।

এই ঈদটা আমি ছেলেমেয়ে নিয়ে আমার আব্বা ও মায়ের কাছে বাড়িতেই করে থাকি। ছোট ভাই খুলনা থেকে এসেছিল আমাকে নিয়ে বাড়ি যাবে। কারণ কারও কাছে শুনেছিল ঈদের পূর্বেই আমাকে ছেড়ে দেবে। ছেলেমেয়েদের মুখে হাসি নাই। ওরা বুঝতে শিখেছে। রাসেল ছোট্ট, তাই এখনো বুঝতে শিখে নাই। শরীর ভালো না, কিছু দিন ভুগেছে। দেখা করতে এলে রাসেল আমাকে মাঝে মাঝে ছাড়তে চায় না। ওর কাছ থেকে বিদায় নিতে কষ্ট হয়। আমিও বেশি আলাপ করতে পারলাম না; শুধু বললাম, চিন্তা করিও না। জীবনে বহু ঈদ এই কারাগারে আমাকে কাটাতে হয়েছে, আরও কত কাটাতে হয় তার ঠিক কী! তবে কোনো আঘাতেই আমাকে বাঁকাতে পারবে না। খোদা সহায় আছে। ওদের কাছ থেকে বিদায় নেবার সময় রেণুকে বললাম, বাচ্চাদের সবকিছু কিনে দিও। ভালো করে ঈদ করিও, না হলে ওদের মন ছোট হয়ে যাবে।

রাত্র ১০টায় হৈচৈ, আগামীকাল ঈদ হবে।

১২ তারিখ সকালবেলা জেলের মধ্যে ঈদ হবে, কারণ সরকারের হুকুম। অনেক সিপাহি ও জেল কর্মচারী রোজা ভাঙতে রাজি হয় নাই। তবে কয়েদিদের নামাজ পড়তেই হবে, ঈদ করতেই হবে। শুনলাম পশ্চিম পাকিস্তানে সরকারি লোক চাঁদ দেখেছে। পশ্চিম পাকিস্তানে উন্নতি হলে পূর্ব বাংলার উন্নতি হয়। হাজার হাজার মাইল দূরে পশ্চিম পাকিস্তানে চাঁদ দেখেছে, এখানে নামাজ পড়তেই হবে। আমাদের আবার নামাজ কী! তবু নামাজে গেলাম, কারণ সহকর্মীদের সাথে দেখা হবে। এক জেলে থেকেও আমার নিজের দলের নেতা ও কর্মীদের সাথে দেখা করার উপায় নেই। আমি এক পার্শ্বে আর অন্যরা অন্য পার্শ্বে।’

‘বাংলাদেশ শুধু কিছু বেঈমান ও বিশ্বাসঘাতকদের জন্য সারাজীবন দুঃখ ভোগ করল। আমরা সাধারণত মীরজাফর আলি খাঁর কথাই বলে থাকি। কিন্তু এর পূর্বেও ১৫৭৬ সালে বাংলার স্বাধীন রাজা ছিল দাউদ কারানী। দাউদ কারানীর উজির শ্রীহরি বিক্রম-আদিত্য এবং সেনাপতি কাদলু লোহানী বেঈমানি করে মোগলদের দলে যোগদান করে। রাজমাবাদের যুদ্ধে দাউদ কারানীকে পরাজিত, বন্দি ও হত্যা করে বাংলাদেশ মোগলদের হাতে তুলে দেয়। এর পরও বহু বিশ্বাসঘাতকতা করেছে এই বাঙালি জাত। একে অন্যের সাথে গোলমাল করে বিদেশি প্রভুকে ডেকে এনেছে লোভের বশবর্তী হয়ে। মীরজাফর আনলো ইংরেজকে, সিরাজদ্দৌলাকে হত্যা করল বিশ্বাসঘাতকতা করে; সিপাহি বিদ্রোহ শুরু হয় ব্যারাকপুর থেকে। আবার বাংলাদেশে লোকের অভাব হয় না ইংরেজকে সাহায্য করবার। ইংরেজদের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত এই মাটির ছেলেদের ধরিয়ে দিয়ে ফাঁসি দিয়েছে এ দেশের লোকেরাই সামান্য টাকা বা প্রমোশনের জন্য।

পাকিস্তান হওয়ার পরও দালালি করার মতো লোকের অভাব হলো না- যারা সবকিছুই পশ্চিম পাকিস্তানে দিয়ে দিচ্ছে সামান্য লোভে। বাংলার স্বার্থ রক্ষার জন্য যারা সংগ্রাম করছে, তাদের বুকে গুলি করতে বা কারাগারে বন্দি করতে এই দেশে সেই বিশ্বাসঘাতকদের অভাব হয় নাই। এই সুজলা-সুফলা বাংলাদেশ এত উর্বর; এখানে যেমন সোনার ফসল হয়, আবার পরগাছা আর আগাছাও বেশি জন্মে। জানি না বিশ্বাসঘাতকদের হাত থেকে এই দেশকে বাঁচানো যাবে কিনা!’

সূত্র : শেখ মুজিবুর রহমান, কারাগারের রোজনামচা, পৃষ্ঠা ১১১-১১২।

ফোকাস

আপনার মতামত লিখুন :

 

সম্পাদক : হাসিবুল ইসলাম
© কপিরাইট বরিশালটাইমস ২০১২-২০১৮ | বরিশালটাইমস.কম
বরিশালটাইমস লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান।
শাহ মার্কেট (তৃতীয় তলা),
৩৫ হেমায়েত উদ্দিন (গির্জা মহল্লা) সড়ক, বরিশাল ৮২০০।
ফোন: ০৪৩১-৬৪৮০৭, মোবাইল: ০১৮৭৬৮৩৪৭৫৪
ই-মেইল: [email protected], [email protected]
© কপিরাইট বরিশালটাইমস ২০১২-২০১৮
টপ
  বাবুগঞ্জে এমপি টিপুর ঈদবস্ত্র বিতরণ করলেন জাপা সভাপতি কিসলু  করোনামুক্ত হয়ে বাসায় ফিরলেন প্রবীর মিত্র  ‘এনআইডি’ নেয়ার সুযোগ ১৬ বছর বয়সীদের  আগৈলঝাড়ায় পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু  করোনা: কলাপাড়ায় নতুন করে আরও ২ জন আক্রান্ত  এক রশিতে প্রেমিক যুগলের ঝুলন্ত লাশ, হত্যা না আত্মহত্যা!  কুয়াকাটায় ১১’শ জেলের মাঝে ভিজিএফ’র চাল বিতরণ  করোনা পরিস্থিতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গণমাধ্যমের  বরিশালে থ্রি-হুইলার উল্টে আহত কৃষক লীগ সভাপতির মৃত্যু  গলাচিপায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে একজনের মৃত্যু