২০শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার

এনটিএমসির প্রধান হলেন বরিশালের সন্তান জিয়াউল আহসান

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০১:৩৬ অপরাহ্ণ, ১৩ নভেম্বর ২০১৭

ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) প্রধান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বরিশালের সন্তান ব্রিগেডিয়ার জিয়াউল আহসান। নতুন পোস্টিং পাওয়ার আগে তিনি প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদফতরের (ডিজিএফআই) ডিডিজি (উপ-মহাপরিচালক) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ডিজিএফআইয়ে কর্মরত থাকার সময় তিনি সংযুক্ত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থায়।

ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারে নিয়োগের জন্য তার চাকরি জননিরাপত্তা বিভাগে ন্যস্ত করে সরকার। ২৮ ফেব্রুয়ারি তাকে নতুন পোস্টিং দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এরপর বৃহস্পতিবার তাকে এনটিএমসির পরিচালক পদে নিযুক্তির অনুমোদন দেয় সেনাসদর।

নতুন কর্মস্থলে শিগগির তিনি দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন বলে জানা গেছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মু. জসিম উদ্দীন খান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জিয়াউল আহসানকে প্রেষণে এনটিএমসির পরিচালক হিসেবে নিয়োগ করা হল। জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। সূত্র জানায়, দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার বা এনটিএমসির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এনটিএমসি থেকে বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর টেলিফোন যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও সন্দেহজনক যোগাযোগ শনাক্ত করা হয়ে থাকে। তাই বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও জঙ্গিবাদ নির্মূলে এনটিএমসির কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার।

ব্রিগেডিয়ার জিয়াউল আহসানকে নিয়োগের মধ্য দিয়ে এনটিএমসির কার্যক্রমে আরও উৎকর্ষতা বাড়বে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কমান্ডো অফিসার ব্রিগেডিয়ার জিয়াউল আহসান এর আগে পুলিশের বিশেষ বাহিনী র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) অতিরিক্ত মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি র‌্যাবে উপ-অধিনায়ক এবং সংস্থাটির গোয়েন্দা শাখার প্রধান হিসেবেও কাজ করেন। র‌্যাবে দীর্ঘ সাত বছরেরও বেশি সময় দায়িত্ব পালনকালে তিনি সর্বোচ্চ পেশাগত দক্ষতা ও সাফল্যের স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম হন।

দেশ থেকে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমনে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে তার। এর স্বীকৃতি হিসেবে তিনি দু’বার পুলিশের সর্বোচ্চ সম্মানজনক বিপিএম (সাহসিকতা) ও দু’বার পিপিএম পদকপ্রাপ্ত হন। বাংলাদেশে জিয়াউল আহসানই একমাত্র কর্মকর্তা যিনি এককভাবে টানা চারবার পুলিশের সর্বোচ্চ ও দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদক অর্জন করতে সক্ষম হন।

র‌্যাবে কর্মরত থাকার সময় জিয়াউল আহসান চাঞ্চল্যকর রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর পলাতক রান্না প্লাজার মালিক সোহেল রানাকে দ্রুততম সময়ে গ্রেফতার করেন। এ ছাড়া তিনি হলমার্ক কেলেংকারির মূল হোতা তানভীর মাহমুদকে গ্রেফতার, সোনালী ব্যাংকের লুণ্ঠিত ১৬ কোটি ২০ লাখ টাকা উদ্ধারসহ বেশ কয়েকটি বড় অভিযানে অগ্রভাগে থেকে নেতৃত্ব দেন। বিশেষ করে ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীতে হেফাজতের তাণ্ডব দমনে রাতের অন্ধকারে জীবনবাজি রেখে আইনশৃংখলা বাহিনীর যৌথ অভিযানের সময় তিনি ছিলেন সম্মুখভাগে।

এ ছাড়া জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থায় কর্মরত থাকার সময় গুলশানের হলি আর্টিজানের বর্বরোচিত হামলার পর তাকে তদন্ত সংস্থাগুলোর মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য সমন্বয়ের জন্য প্রধান সমন্বয়ক নিয়োগ করা হয়।

অপরদিকে গত বছর প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের জরুরি অবতরণের ঘটনায় সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে ছায়া অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

7 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন