২৩শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার

এমপি-মন্ত্রীর পরিচয়ে কোটি টাকা হাতিয়ে উধাও প্রতারক

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০১:৫৯ অপরাহ্ণ, ২৬ জুলাই ২০২০

বার্তা পরিবেশক, অনলাইন :: কখনও মন্ত্রীর ভাগ্নে, আবার কখনও এমপির চাচাতো ভাই, এভাবে একাধিক নেতাদের পরিচয়ে দিয়ে সাধারন মানুষদের সরকারি চাকরি পাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে অসহায়দের টাকা পয়সা এবং, অসহায়দের ঘর পাইয়ে দেয়ার নামে প্রতারণা করে ৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও আবু সাঈদ নামে এক প্রতারক। প্রতারণার শিকার হয়ে এখন টাকা ফেরত পেতে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে অর্ধশত যুবকের পরিবার।

এমন ঘটনা ঘটেছে মাদারীপুরের রাজৈরের আমগ্রামে। থানায় মামলা দায়েরের পর প্রতারককে ধরতে মাঠে নেমেছে পুলিশ।

মাদারীপুরের রাজৈরের আমগ্রামের বাসিন্দা সাবরিনা মাহমুদ। বড় ছেলে আবুল খায়েরের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরির জন্য ১২ লাখ টাকা দেন প্রতারক আবু সাঈদকে। এনজিও থেকে ঋণ নেয়ার পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে সুদে টাকা যোগাড় করেন। এতে নিঃস্ব এখন তার পরিবার।

প্রতারণার শিকার সাবরিনা মাহমুদ বলেন, ‘চাকরি দেওয়ার জন্য আমার কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা নেছে শ ম রেজাউলের কথা বলে।’

শুধু সাবরিনাই নন, তার মতো এলাকার লিপি বেগম, বিলকিস আক্তার, হবি মৃধা, ওহাব শেখসহ অর্ধশত মানুষ প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, প্রায় ৬ মাস আগে বাসাবাড়ী মোহাম্মদিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসায় অস্থায়ীভাবে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন আবু সাঈদ। পরে তখনকার গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমের ভাগ্নে পরিচয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে চাকরি দেয়া, অসহায়দের নতুন ঘর পাইয়ে দেয়ার নামে গ্রামের মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয় অন্তত ৫ কোটি টাকা। প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে ভুক্তভোগীরা টাকা ফেরত চাইলে ১৯ জুলাই গা ঢাকা দেয় আবু সাঈদ। টাকা ফেরৎ ও এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীসহ এলাকাবাসী।

ক্ষতিগ্রস্থ ও স্থানীয় একজন বলেন, ‘সর্বমোট সাড়ে ৩ লাখ টাকা আমাগো ক্যাশ গেছে।’

অন্য আরেকজন বলেন, ‘ঘর নাই দুয়ার নেই আমাদের কত আশা দিয়ে ৫০ হাজার টাকা নিছে।’

এদিকে জেলা প্রশাসন বলছে, মানুষ সচেতন হলে এমন প্রতারিত হবার সুযোগ নেই।

মাদারীপুর জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন বলেন, অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবো এবং জনগণকে আমি সচেতন করতে চাই যে, আপনারা দয়া করে কাউকে কোন টাকা পয়সা দিবেন না।

এ ঘটনায় রাজৈর থানায় মামলা দায়েরের পর তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় প্রতারক আবু সাঈদকে ধরতে কাজ শুরু করেছে পুলিশ।

মাদারীপুরের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. আবির হোসেন বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চভাবে চেষ্টা করবো অভিযুক্তের বিরুদ্ধে। অভিযোগগুলোর সত্যতা পাওয়া গেলে তাকে অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে।’

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার দিঘিরজান ইউনিয়নের রহিতলা নামে একটি ঠিকানা ব্যবহার করেছে প্রতারক আবু সাঈদ। খোঁজ নিয়ে যার কোন অস্তিত্বই পাওয়া যায়নি।

3 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন