১৫ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার

ওসির কারিশমায় খুনি হয়ে গেলো মামলার সাক্ষী! (ভিডিও)

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৫:২২ অপরাহ্ণ, ০৪ এপ্রিল ২০১৭

ঝালকাঠির রাজাপুরে সিমা আক্তার (২৪) নামে এক গৃহবধূকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে নিহতের পরিবার। হত্যার পর প্রবাসে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে স্বামী মিজান খন্দকারকে (৩৪) গ্রেফতার করেছে মতিঝিল পুলিশ।

তবে ঘটনার পরে ৫দিন অতিবাহিত হলেও পুলিশ এখোন পর্যন্ত খুন হওয়া সিমা আক্তারের লাশ উদ্ধার করতে পারেনি।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ মতিঝিল থানা পুলিশ ঘাতক স্বামী মিজান খন্দকার ও তার বন্ধু (যার ঘরে সিমাকে খুন করা হয়) এনায়েত গোমস্তাকে গ্রেপ্তার করে রাজাপুর থানা পুলিশে সোপর্দ ক করেছে। কিন্তু এনায়েত গোমস্তার স্বজনরা মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে করে ওসি মুনির উল গিয়াসকে ও আইও উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবুল কালামকে ম্যানেজ করে ফেলেছে।

যে কারণে স্বামী মিজানের সকল কাজের সহযোগী ঘনিষ্ট বন্ধু এনায়েত গোমস্তাকে পুলিশ এজাহারভূক্ত আসামী না করে জিজ্ঞাসাবাদের নামে রাজাপুর থানা পুলিশ হেফাজতে রেখে দিয়েছে। যদিও এ বিষয়টি ফাঁস হয়ে যাওয়ায় বাদীপক্ষসহ রাজাপুরের বিভিন্ন মহলে সমালোচনার ঝড় বইছে। অথচ এনায়েত গোমস্তা এই খুনের ঘটনায় প্রত্যক্ষভাবে জড়িত বলে অভিযোগ নিহত সিমার পরিবারের।

এদিকে ২ এপ্রিল নিহত সিমা আক্তর হত্যা ও লাশ ঘুমের ঘটনায় বড়ভাই মাজেদুর ইসলাম বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করলেও (মামলা নম্বর-০১) ঘটনার প্রধান সহযোগী এনায়েত গোমস্থাকে মামলার সাক্ষী করা হয়েছে। এরপর পুলিশ মিজান খন্দকারের অটোটি, মিজানের মা দোলোয়ারা বেগম ও  ঘনিষ্ট বন্ধু এনায়েত গোমস্তাকে আটক করেছে।

দায়ের করা মামলায় নিহত সিমা আক্তারে স্বামী মিজান খন্দকার, তার ভাই সবুজ খন্দকার, তার বোন শাহনাজ বেগম ও তার ভগ্নিপতি মিজান হাওলাদার নামধারী আসামী করা হয়েছে।

পুলিশ সোমবার দুপুরে মামলার প্রধান আসামী মিজান খন্দকারকে ঝালকাঠি জেষ্ঠ্য বিচারিক হাকিম রুবাইয়া আমেনার আদালতে হাজির করে ১০দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত ৫দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালতের বিচারক। এছাড়া অটোরিকশা চালক মিজান হাওলাদার আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দী দিয়েছে বলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম সাংবাদিকদের জানিয়েছে।

গ্রেপ্তার হওয়া মিজান খন্দকারের কাছে সিমার মৃতদেহ সম্পর্কে জানতে চাইলে মিজান বলেন, আমি সিমার লাশ সাউথপুর এনায়েত গোমস্তার বাড়ী থেকে ভগ্নিপতি মিজান হাওলাদারের অটোরিকশায় করে বাঁশতলা গ্রামে আমার বাড়ীতে রেখে সৌদি আরব যাওয়ার উদ্দেশ্যে ঢাকায় চলে যাই। কিন্তু এরপর কি হয়েছে আমি তা জানিনা।

মিজানের বৃদ্ধা মা দেলোয়ারা বেগম বলেন, মিজান লাশ বাড়ির রান্নাঘরে রেখে চলে গেলে সেখানে লাশ একদিন পরে থাকে। পরে রাতে সবুজ লাশটি কোথায় নিয়ে গেছে আছে আমি তা জানিনা।

মামলার এজাহার ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে- প্রথম স্ত্রী থাকা সত্বেও তিন বছর আগে সিমা আক্তারের সাথে সৌদি প্রবাসী মিজান খন্দকারের বিয়ে হয়। গত মঙ্গলবার (২৮ মার্চ) রাজাপুরে আলাদা বাসা ভাড়া করা হয়েছে বলে সিমাকে তার বাবার বাড়ী পিরোজপুর থেকে রাজাপুরে নিয়ে আসে স্বামী মিজান।

সবশেষ ৩০ মার্চ সিমা মুঠোফোনে তার ভাই বাদশাকে জানায়, সে বিপদে রয়েছে বলে জানানোর পর কোন খবর পাওয়া যায়নি। দুইদিন পর ১ এপ্রিল সিমার পরিবারকে পিরোজপুর থানা পুলিশ ‘ঢাকা মতিঝিল থানা পুলিশের বরাত দিয়ে জানায় সিমাকে হত্যা করা হয়েছে এবং স্বামী মিজান ও এনায়েত গোমস্তা নামে এক ব্যাক্তি আটক করা হয়েছে।

মতিঝিল থানায় তাদের রাজাপুর থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করার পর একের পর এ নাটকীয়তা চলছে।

এ ব্যাপারে রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মুনীর উল গীয়াস জানান, এঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। লাশ এখনো উদ্ধার করা যায়নি। এজাহারভুক্ত পলাতক আসামীদের গ্রেপ্তার করতে পারলে লাশের সন্ধান পাওয়া যাবে। পলাতক আসামীদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত আছে।

বন্ধুর সহযোগিতায় ঘাতক মিজানকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হওয়ায় তাকে সাক্ষী করা হয়েছে।”

https://youtu.be/mtr2dAjQhTw

14 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন