৩ ঘণ্টা আগের আপডেট রাত ৪:৫৯ ; রবিবার ; জুলাই ১২, ২০২০
EN Download App
Youtube google+ twitter facebook
×

করোনাকালে বেদে পরিবারগুলোর চরম দুর্ভোগ

ষ্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
৭:২৩ অপরাহ্ণ, জুন ৩০, ২০২০

হাসান পিন্টু, লালমোহন: দেশে ব্যাপী চলছে করোনার তান্ডব। ধনী থেকে শুরু করে গরীব সবখানেই প্রভাব পড়েছে করোনার। কর্মহীন হচ্ছে মানুষ। বাড়ছে দুর্ভোগ। এই করোনার প্রভাব থেকে বাদ পড়েনি যাযাবর বেদেরাও। এতে করে চরম দুর্ভোগে ভোলার লালমোহন উপজেলার প্রায় ২৫ টি বেদে পরিবার। এর মধ্যে ৭ টি পরিবারের বসবাস লাঙ্গলখালী স্টুডিয়ামে। আর বাকি ১৮ পরিবারের বসবাস শাহাবাজপুর কলেজপাড়া এলাকায়।

এসব পরিবারের জীবনমান ভিন্ন। এরা বাস করেন ভাসমান ঝুপড়ি ঘরে। যেখানে বৃষ্টি হলেই চোখ থেকে ঘুম পালিয়ে যায় তাদের। জেগে থাকতে হয় সারা রাত। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তাদের খুব কষ্ট করে থাকতে হয় এই ঝুপড়ি ঘরে। সংসার পরিচালনার জন্য নারী-পুরুষ সকলেই প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে তাবিজ-কবজ, সাপ ধরা, মালা ও কড়ি বিক্রি করে টাকা আয় করেন। যা আয় হয় তা দিয়ে চলে সংসার। করোনার আগে বেচা-বিক্রি ভালো থাকলেও এখন চরম দুর্ভোগে এরা।

করোনার কারণে তেমন আয় নেই তাদের। বর্তমানে চুলায় এক বেলাই আগুন জ্বলে এদের। দিনের তিন বেলার মধ্যে এক বেলা অথবা সর্বোচ্চ দু’বেলা খেতে পারছেন তারা। তাও ভাগ্যে ভালো কোনো খাবার জুটছে না। কেবল আলু, ডাল আর ভাত খেয়েই দিন পার করেছেন তারা।

নিজেদের দুর্ভোগের কথা জানিয়ে লালমোহন পৌরশহরের লাঙ্গলখালী এলাকার স্টুডিয়ামে বসবাসরত আলাউদ্দিন, তরিকুল, জোসনা ও রোজিনা বলেন, করোনার আগে তাবিজ-কবজ, সাপ ধরা, মালা ও কড়ি বিক্রি করে মোটামোটি দৈনিক ৭ থেকে ৮শত টাকা আয় হতো। এখন করোনার কারণে গত ৩ মাস আয় নেই। তাই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে খুব দুর্ভোগে আছি। পাশের দোকান থেকে বর্তমানে বাকিতে চাল, ডাল আর আলু কিনে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কোনো মতে সংসার চালাচ্ছি। ভালো কোনো কিছু কিনতেও পারছি না। তাই একই রকমের খাবার খেয়ে দিন পার করছি। মাথার গোঁজার ঝুপড়ি ঘর দিয়ে বৃষ্টি হলেই পানি পড়ে। সবকিছু মিলেয়ে ভালো নেই আমরা কেউ। তবুও এই করোনাকালে কেউ আমাদের খোঁজ নেয়নি। পাইনি সরকারী কোনো সহযোগিতা। তাই আমরা সরকারের কাছে আমাদের জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেয়ার দাবী করছি।

এ ব্যাপারে উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মো. মামুন হোসেন বলেন, বেদেদের জন্য আগে বেদে ভাতা নামে একটি প্রকল্প ছিলো। যা বর্তমানে অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় বয়স্ক ভাতা নামে। তবে এক্ষেত্রে ভূক্তভোগীদের বয়স ৫০ হতে হবে। এছাড়া আপাতত বেদেদের জন্য সমাজ সেবা থেকে কোনো সুযোগ সুবিধা নেই।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাবিবুল হাসান রুমি জানান, এই মুহূর্তে অন্য কোনো সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা না করতে পারলেও খুব শিগগিরই উপজেলার সকল বেদে পরিবারকে ত্রাণ সহযোগিতা প্রদান করা হবে।

বিভাগের খবর, ভোলা

আপনার মতামত লিখুন :

 

এই বিভাগের অারও সংবাদ
সম্পাদক : হাসিবুল ইসলাম
© কপিরাইট বরিশালটাইমস ২০১২-২০১৮ | বরিশালটাইমস.কম
বরিশালটাইমস লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান।
শাহ মার্কেট (তৃতীয় তলা),
৩৫ হেমায়েত উদ্দিন (গির্জা মহল্লা) সড়ক, বরিশাল ৮২০০।
ফোন: ০৪৩১-৬৪৮০৭, মোবাইল: ০১৮৭৬৮৩৪৭৫৪
ই-মেইল: [email protected], [email protected]
© কপিরাইট বরিশালটাইমস ২০১২-২০১৮
টপ
  পায়রা বন্দর ও তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব  প্লিজ, অনেক হয়েছে, পানি আর ঘোলা করবেন না!  বলিউড তারকা অমিতাভ বচ্চন করোনা আক্রান্ত  করোনা: বরিশালে একদিনে আরও ২৯ জন আক্রান্ত  হিজলায় আ’লীগের দু’গ্রুপ মুখোমুখি, রক্তপাতের আশঙ্কায় ১৪৪ জারি  দেশেই করোনা ‘নেগেটিভ প্রেশার আইসোলেশন’ ক্যানোপি উদ্ভাবন  প্রকাশ্যে পুলিশ পেটালো ছাত্রলীগ সভাপতির ভাই, অত:পর  চরফ্যাশনে আমনের বীজতলা তৈরিতে ব্যস্ত কৃষক  করোনার ভুয়া রিপোর্টের কথা জানতেন স্বাস্থ্য ডিজি  বরিশালের কলেজছাত্রীকে কোটালীপাড়ায় যৌন হয়রানি