১৬ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, রবিবার

করোনা ‘নেগেটিভ’ হয়েও ফের ‘পজিটিভ’!

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৫:১৬ অপরাহ্ণ, ১২ জুন ২০২০

বার্তা পরিবেশক, অনলাইন :: করোনা আক্রান্ত হয়ে ২১ দিন পর ফলোআপ পরীক্ষায় প্রথমে ‘নেগেটিভ’ হলেও তিনদিন এবং দশ দিনের মাথায় পর পর দুটি পরীক্ষায় ‘পজিটিভ’ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি ঘটেছে লেখক-সাংবাদিক আবদুল্লাহ আল ইমরানের সঙ্গে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নেগেটিভ হয়ে পুনরায় পজিটিভ হওয়ার এমন ঘটনা খুব একটা শোনা যায় না। এসব ক্ষেত্রে রোগির শরীরে যদি কোনো লক্ষণ না থাকে, তাহলে চিন্তার কিছু নেই। আইসোলেশনে থেকে নিয়ম মানলেই হবে।
গায়ে জ্বর, তীব্র মাথা ব্যথা এবং সামান্য কাশির উপসর্গ নিয়ে গত ১১ মে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) করোনা পরীক্ষা করান লেখক-সাংবাদিক আবদুল্লাহ আল ইমরান ও তার স্ত্রী কেরাণীগঞ্জ দক্ষিণের এসিল্যান্ড সানজিদা পারভীন। ওই দিনই জানতে পারেন, তারা দুজনই করোনা ‘পজিটিভ’।
এরপর বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের তত্বাবধায়নে ঘরেই চিকিৎসা নেন তারা। প্রায় বিশ দিন পর গত ৩১ মে দুজনেরই ‘নেগেটিভ’ প্রতিবেদন আসে। কিন্তু তিন দিনের মাথায় চূড়ান্ত নমুনা পরীক্ষায় স্ত্রী সানজিদা পারভীন নেগেটিভ হলেও আবদুল্লাহ আল ইমরান ‘পজিটিভ’ হন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনায় ‘পজিটিভ’ আসার পরবর্তী সময়ে পর পর দুটি পরীক্ষায় ‘নেগেটিভ’ এলে আক্রান্ত ব্যক্তিকে সুস্থ ধরা হয়। আক্রান্ত হওয়ার পর রোগী যদি সুস্থ্যও হয়ে যান, এমনকি কোনো লক্ষণও না থাকে, তবুও পরপর দুই পরীক্ষায় ‘নেগেটিভ’ প্রতিবেদন না এলে তাকে করোনামুক্ত বলে ধরা হয় না।

জানতে চাইলে চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের অনুসন্ধনী সাংবাদিক আবদুল্লাহ আল ইমরান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা দুজনই গত ২ জুন চূড়ান্ত পরীক্ষার জন্য বিএসএমএমইউ-এ নমুনা দেই। ৪ জুন বিকেলে ভাইরোলজি বিভাগের প্রধান নিজে ফোন করে জানান যে, আমি ‘পজিটিভ’ কিন্তু আমার স্ত্রী ‘নেগেটিভ’। এতে আমি বেশ বিস্মিত হই। মনও অনেক খারাপ হয়।’
তরুণ কথাসাহিত্যিক ইমরান আরও বলেন, ‘নমুনা দেওয়ার পর ২ জুন রাত থেকেই আমার ডায়রিয়া শুরু হয়। প্রথমে ভেবেছি খাওয়ায় কোনো গন্ডগোল হয়েছে। পরবর্তীতে পজিটিভ রিপোর্ট এবং টানা দুই দিনেও পেটের সমস্যা দূর না হওয়ায় বুঝলাম, ভাইরাস হয়তো শরীরে থেকে গেছে। পাশাপাশি মাথাব্যথা ও দূর্বলতাও ছিল। পজিটিভ জেনে স্ত্রীর সঙ্গে যতোটা সম্ভব দূরত্ব বজায় রেখে, করোনাকালীন নিয়মে ফিরে গিয়ে এবং ডাক্তারের পরামর্শে চলে ৭ জুন থেকে একদম ভালো বোধ করছি। কিন্তু তবুও আজ ১১ জুনের রিপোর্টে আবারও পজিটিভ হয়েছি। আমি বোধহয় করোনার দুষ্টুচক্রে পড়েছি।’
ইমরানের মতো এমন আরও কিছু ঘটনার খোঁজ মিলছে চারপাশে। যেখানে দেখা যাচ্ছে, করোনাআক্রান্ত হওয়ার পর ফলোআপ পরীক্ষায় প্রথমে একবার ‘নেগেটিভ’ হয়েও, দ্বিতীয় এবং শেষ পরীক্ষায় ‘পজিটিভ’ হচ্ছেন অনেকে। এমনকি কারো কারো মাস খানেক লাগছে করোনামুক্ত হতে। এসব ক্ষেত্রে শরীরে অনেকের লক্ষণও মিলছে না।

ভাইরাসের এমন আচরণ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএসএমএমইউ-এর ভাইরোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সাইফ উদ্দিন মুন্সি সাংবাদিকদের বলেন, ‘এমন ঘটনা আমরা আরও কয়েকটি পেয়েছি। ঘটনাগুলো বিরল তাই মেডিক্যাল রিসার্সের জন্য অনুসরণও করছি। নেগেটিভ হওয়ার কয়েকদিন পরেই পজিটিভ আসছে, এর মানে হতে পারে রোগী ভাইরাসমুক্ত নন। অথবা অকার্যকর আরএনএ রয়ে গেছে শরীরে।’
মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে দুই পরীক্ষায় আবদুল্লাহ আল ইমরানের দুই ফল প্রসঙ্গে ডাক্তার সাইফ উদ্দিন মুন্সি বলেন, ‘এমন ঘটনায় আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে যেহেতু পুনরায় করোনার লক্ষণ দেখা দিয়েছিল, ফলে পরীক্ষায় ভুল হয়েছে, এ কথা নিশ্চিত করে বলা যাবে না। এবারের করোনা ভাইরাস বারবার আচরণ পরিবর্তণ করছে। ফলে এটি ভাইরাসের পরিবর্তিত আচরণও হতে পারে।’
লেখক-সাংবাদিক আবদুল্লাহ আল ইমরানের স্ত্রী সানজিদা পারভীন এখন সুস্থ আছেন। কেরানীগঞ্জে নিজ কর্মস্থলে যোগ দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অন্যদিকে ইমরান পুনরায় পজিটিভ জেনে আইসোলেশনে আছেন।

সূত্র : সমকাল।

10 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন