২০শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার

কাশিপুরে জমিসংক্রান্ত বিরোধে ২ ভাইকে কুপিয়ে জখম, গ্রেপ্তার ২

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৬:২২ অপরাহ্ণ, ১০ জুন ২০২৪

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল:: বরিশালের কাশিপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধীয় জেরে দুই ভাইকে এলোপাতাড়ি কুপিয়েছে প্রতিবেশী পরিবার। গত ৮ জুন ভোর রাতে বিমানবন্দর থানাধীন সারসি এলাকার বিরোধপূর্ণ ভূ-সম্পত্তিতে ঘর তুলতে গেলে তাতে বাধা প্রদান করেন মৃত আব্দুর রব হাওলাদারের সন্তান জাকির হোসেন রহিমসহ (৪৫) স্বজনেরা। এতে সংক্ষুব্ধ হয়ে মৃত মজিদ হাওলাদারের ছেলে কালাম হাওলাদার (৫৫), গিয়াস উদ্দিন (৪০) এবং জসিম হাওলাদারসহ পরিবারের অপরাপর সদস্যরা একত্রিত হয়ে মারধর করে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়েছে। এতে গুরুতর আহত জাকির এবং আনিচুর রহমানকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বিমানবন্দর থানা পুলিশ জানিয়েছে, কাশিপুর ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের সারসিতে সংঘাতের ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে, সেই মামলার দুই অভিযুক্ত গিয়াস উদ্দিন এবং তার আপন বড় ভাই জসিম হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এখন বাকিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপরতা চালাচ্ছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই এলাকার একখণ্ড ভূ-সম্পত্তি নিয়ে মৃত আব্দুর রব হাওলাদারের ছেলে-সন্তান এবং পড়শি মৃত মজিদ হাওলাদারের সন্তানদের বিরোধ চলে আসছিল। সেই ত্রুটিপূর্ণ ভূমিতে ৮ জুন ভোর রাতে মৃত মজিদ হাওলাদারের ছেলে কালাম হাওলাদার, জসিম উদ্দিন, গিয়াস উদ্দিনসহ তাদের ছেলে-মেয়েরা গায়ের জোরে ঘর নির্মাণ করছিল। তখন জাকির এবং আনিচুর তাদের এই দখল কাজে বাধা প্রদান করায় ক্ষুব্ধ হয়ে দুই ভাইকে মারধর করে। পড়শির এই অনাচার প্রত্যক্ষ করে তাদের প্রতিরোধে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে তাদের ওপরও ধারালো অস্ত্রসমেত হামড়ে পড়ে কালাম এবং গিয়াস বাহিনী। একপর্যায়ে তারা গোটা পরিবার মিলে মারধরসহ ধারালো অস্ত্র দিয়ে জাকির, আনিচ এবং মনিরুজ্জামানকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ফেলে রাখে। এই চিত্র আশপাশের বাসিন্দাদের হতবাক করলেও ধারালো অস্ত্রে সামনে গিয়ে তাদের উদ্ধারে কেউ অগ্রসর হয়নি। পরবর্তীতে হামলাকারীরা পালিয়ে গেলেও রক্তাক্ত অবস্থায় তিনজনকে উদ্ধার করে শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে যায়।

পুলিশ জানিয়েছে, মনিরুজ্জামান প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাসায় গেলেও আনিচ এবং জসিমের অবস্থা গুরুতর। তাদের সুস্থ হতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে, জানিয়েছেন শেবাচিমের চিকিৎসকেরা।

শহরতলীর এই রক্তারক্তির ঘটনায় আনিচ এবং জসিমের স্বজন মোসা. হালিমা বেগম (৪৬) বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা করেছেন। ১৪৩, ৪৪৭, ৩২৩, ৩০৭, ৩২৬ এবং ৫০৬(২) ধারায় করা এই মামলাটি তদন্ত করছেন উপ-পরিদর্শক মর্যাদার কর্মকর্তা সৈয়দ খায়রুল আলম।

পুলিশ কর্মকর্তা জানান, সারসির ঘটনায় ১২ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেছেন হালিমা বেগম, যার মধ্যে ৬ জন আছেন নামধারী। তাদের মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত গিয়াস এবং জসিমকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এখন বাকিদের গ্রেপ্তারেও কাজ করছে পুলিশ।

জানা গেছে, বিরোধীয় ভূমিটি নিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এর আগে থানায় অভিযোগ করেছিলেন হালিমা বেগম। সেই অভিযোগ তদন্তের মধ্যে ৮ জুন সশস্ত্র হামলা চালিয়ে তিনজনকে আহত করা হয়, যা সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে এক রকমের বিতর্কের ফেলে দিয়েছে।

বিমানবন্দর থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি/তদন্ত) লোকমান হোসেন বরিশালটাইমসকে জানান, সারসির ঘটনাটি পুলিশ গুরুত্বসহকারে দেখছে। এমনকি এই ঘটনায় যারা জড়িত তাদের কেউ ছাড় পাবে না বরং সকলকেই আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে, মন্তব্য করেন ওসি।’

125 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন