২ মিনিট আগের আপডেট বিকাল ৪:৫০ ; বৃহস্পতিবার ; নভেম্বর ২১, ২০১৯
EN Download App
Youtube google+ twitter facebook
×

কাশ্মীরে বেশিরভাগ মসজিদে ঈদের নামাজ হয়নি

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট
১২:৪৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১২, ২০১৯

ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে গতকাল রোববার ফের কারফিউ জারি করা হয়েছে। ফলে সোমবার ঈদের দিনে পুরো কাশ্মীরের পথঘাট থমথমে ও নির্জন। বিশেষ করে কাশ্মীরের রাজধানী শ্রীনগরে কড়া নিরাপত্তার মধ্যেই ঈদের নামাজ আদায় করেছেন সেখানকার মুসলিমরা। তবে বড় বড় মসজিদগুলোতে নামাজের অনুমতি মেলেনি।

ভারতীয় টেলিভিশন এনডিটিভির অনলাইন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, কাশ্মীরের ও শ্রীনগরের বেশিরভাগ মসজিদে ঈদের নামাজ আদায়ের অনুমতি দেয়নি দেশটির সরকার। ফলে ভারতের একমাত্র মুসিলমি সংখ্যাগরিষ্ঠ ‘রাজ্যটিতে’ ঈদের কোনো আমেজ নেই।

গত শনিবার সরকার এবং রাজ্য পুলিশ জানিয়েছিল, জম্মু ও কাশ্মীরের পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ। কিন্তু বিবিসির এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, গোটা কাশ্মীরের হাজারো মানুষ বিক্ষোভ করেছে। গত শুক্রবার জুমার নামাজ পড়ার জন্য কারফিউ কিছু সময়ের জন্য তুলে নেয়া হলে বিক্ষোভ করে তারা।

সোমবার ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে কাশ্মীরের ছোট ছোট কিছু মসজিদে। রাজধানী শ্রীনগরসহ বড় বড় মসজিদগুলোতে ঈদের নামাজ পড়ার অনুমতি দেয়নি দেশটির সরকার। সরকারের তরফ থেকে অবশ্য মুসলিমদের ঈদের নমাজ আদায়ের বেশ কিছু ছবি প্রকাশ করা হয়েছে।

জম্মু-কাশ্মীরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাজ্যটির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ ও মেহবুবা মুফতিসহ জ্যেষ্ঠ বেশ কয়েকজন রাজনীতিবিদ, যারা গত সপ্তাহ থেকে গ্রেফতার রয়েছেন, তাদেরকে স্থানীয় মসজিদগুলোতে নমাজ পাঠের অনুমতি দেয়া হয়েছে।

সরকার জানিয়েছে, গত শনিবার নিরাপত্তা শিথিল করার পরে শ্রীনগরে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি, তার জেরেই রোববার থেকে ফের সেখানে কারফিউ জারি করা হয়। কিন্তু বিবিসি এ সংক্রান্ত ভিডিও প্রকাশ করেছে। যেখানে হাজোর মানুষ স্লোগানে স্লোগানে তাদের বিক্ষোভ জানাচ্ছেন।

গত ৫ আগস্ট নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কট্টর হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার জম্মু ও কাশ্মীরের সাংবিধানিক বিশেষ মর্যাদা বাতিল করে এবং রাজ্যটিকে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিভক্ত করে। তার আগে থেকেই কাশ্মীরের মানুষকে রীতিমতো বন্দি করা হয়েছে।

বিশ্বের সবচেয়ে সামরিকায়িত একটি এলাকা হলো কাশ্মীর। সেখানে লাখো সেনা মোতায়েন রয়েছে। এর মধে কাশ্মীরকে দিখণ্ডিত করার ঘোষণা দেয়ার আগে সেখানে আরও ৩৫ হাজার অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। গত শনিবার কারফিউ কিছুটা শিথীল করা হলে অনেক মানুষ শ্রীনগরে ঈদের কেনাকাটা করেন বলে জানা গেছে।

তবে সূত্রের বরাত এনডিটিভি জানিয়েছে, গতকাল রোববার ফের কারফিউ জারি করার পর রাজ্য পুলিশ লাউড স্পিকারের মাধ্যমে মানুষজনকে তাদের ঘরে ফিরে যেতে বলছে। স্থানীয় যত ব্যবসায়ী আছে তাদের সবাইকে দোকানপাট বন্ধ করে দিতে নির্দেশ দেয় পুলিশ।

হাজার হাজার নিরাপত্তাকর্মী কাশ্মীর উপত্যকায় রয়েছেন। মোবাইল ফোন এবং ইন্টারনেট পরিষেবা এখনও বন্ধ রয়েছে। ভারতের অন্যান্য অঞ্চলে থাকা অনেক কাশ্মীরি তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না। তারা ঈদে বাড়িতেও ফিরতে পারেননি।

ঈদ উপলক্ষ্যে রাজধানী শ্রীনগরে কয়েকটি অস্থায়ী বাজার তৈরি করা হয়েছে। যেখানে সবজি, এলপিজি সিলিন্ডার (তরল গ্যাস), হাস-মুরগি এবং ডিম ঘরে ঘরে ভ্যানের মাধ্যমে সরবরাহ করা হচ্ছে। মানুষজনকে তাদের আত্মীয়দের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য বিশেষ টেলিফোন বুথও বসানো হয়েছে।

এদিকে জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে কেন্দ্রের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আঞ্চলিক দল ন্যাশনাল কনফারেন্সের পক্ষ থেকে মোদি সরকারের কাশ্মীর সংক্রান্ত সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপের চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করা হয়েছে। দলটির নেতা ও এমপি আকবর লোন এবং হাসনাইন মাসুদির তাদের দায়ের করা পিটিশনে কেন্দ্রীয় সরকারের এই পদক্ষেপকে ‘বেআইনি’ বলে দাবি করেছে।

গত ৫ আগস্ট কাশ্মীরকে বিশেষ মর্যাদা প্রদানকারী ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার। শুধু বিশেষ মর্যাদা বাতিল নয় কাশ্মীরকে জম্মু-কাশ্মীর এবং লাদাখ নামে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভাগ করা হয়।

গোটা ভারতের রাজনীতি এখন কাশ্মীর নিয়ে উত্তাল। বিজেপিসহ ভারতীয়রা কাশ্মীরের মর্যাদা বাতিলের সরকারি সিদ্ধান্ত উদযাপন করছেন। কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলো কিছুটা প্রতিবাদ জানালেও তা বিজেপির সংখ্যাগরিষ্ঠতার তুলনায় খুবই নগণ্য।

কাশ্মীরিরা যাতে এর কোনো প্রতিবাদ করতে না পারে তাই সেখানে নেয়া হয়েছে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সেখানকার মানুষ এখন সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ। মোদি সরকারের মাস্টারে প্ল্যানের কাছে হেরে বিক্ষোভে ফুঁষে উঠেছে কাশ্মীর মানুষ।

কারফিউ জারি থাকার কারণে সেখানে মানুষ সংঘবদ্ধ হয়ে প্রতিবাদ করতে পারছে না। এ ছাড়া সেখানকার সাবেক দুই মুখ্যমন্ত্রী এবং পাঁচ শতাধিক প্রভাবশালী স্থানীয় নেতাসহ সাধারণ মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বিশ্বের অন্যতম সামরিকায়িত এলাকাগুলোর একটি কাশ্মীর। ভারতীয় সংবিধোনের ৩৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এতদিন কাশ্মীর প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ছাড়া কোনো কিছুতেই ভারতীয় আইন মানতে বাধ্য ছিল না। কিন্তু মোদি তা বাতিল করেছে। এ ছাড়া রাজ্যের মর্যাদাও হারিয়েছে কাশ্মীর।

আন্তর্জাতিক খবর

আপনার মতামত লিখুন :

সম্পাদক : শাকিব বিপ্লব
ঠিকানা: শাহ মার্কেট (তৃতীয় তলা),
৩৫ হেমায়েত উদ্দিন (গির্জা মহল্লা) সড়ক, বরিশাল ৮২০০।
ফোন: ০৪৩১-৬৪৮০৭, মোবাইল: ০১৮৭৬৮৩৪৭৫৪
ই-মেইল: [email protected], [email protected]
© কপিরাইট বরিশালটাইমস ২০১২-২০১৮
টপ
  সন্তানেরা আবার রাস্তায় নামলে কারো পিঠের চামড়া থাকবে না  সারা দেশে পেঁয়াজ বিক্রির পরিসর বাড়িয়েছে টিসিবি  'পরিবহন ধর্মঘট আর নেই, বিষয়টির সমাধান হয়েছে'  বরিশালে অটোরিকশার ধাক্কায় আহত পিইসি শিক্ষার্থীর মৃত্যু  শীর্ষে প্রিয়াঙ্কা  সাপ দিয়ে দড়ি লাফ খেলছে শিশুরা (ভিডিও)  শাওমির ফোনে ফের বিস্ফোরণ  বিয়ে করলেই নববধূকে ১০ গ্রাম সোনা উপহার দেবে সরকার! কেন জানেন?  সোমবার থেকে ঢাকা-ভোলা রুটে ভলভো ওয়াটার বাস  ছাত্রলীগ সভাপতির নামে ব্যাংকে ফোন, যুবক গ্রেপ্তার