১৩ মিনিট আগের আপডেট সকাল ১০:৫৩ ; বুধবার ; নভেম্বর ২৫, ২০২০
EN Download App
Youtube google+ twitter facebook
×

কীর্তনখোলা-১০ লঞ্চ তৈরি করে তাক লাগিয়ে দিলো স্কুলছাত্র

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট
২:১১ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৩, ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল:: চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জে প্রত্যন্ত অঞ্চলের এক মেধাবী শিক্ষার্থী মেহরাজ নিজের হাতে বিশাল আকারের লঞ্চ তৈরি করে তাক লাগিয়ে দিয়েছে এলাকাবাসীকে। প্রতিদিনই লঞ্চটি দেখতে এলাকার শতশত মানুষকে ভিড় করতে দেখা যায়। লঞ্চটির নামকরণ করা হয়েছে ‘কীর্তনখোলা-১০’।

বাবার সাথে অতীতে একবার নদীপথে কীর্তনখোলা লঞ্চে বরিশাল যাতায়াত করে মেহরাজ। এরপর থেকেই লঞ্চ তৈরিতে তার মাঝে আগ্রহ দেখা দেয়। একপর্যায়ে বাবার অনুপ্রেরণায় ও সহযোগিতায় নিজের মেধা খাটিয়ে ককসিট, মোটর, লাইটিং ও ব্যাটারি দিয়ে নিজের হাতে তৈরি করে লঞ্চটি।

কীর্তনখোলা-১০ তৈরি করা ১১ বছর বয়সি মেহরাজের পুরো নাম সাইদুল ইসলাম মেহরাজ। গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৬ নম্বর গুপটি ইউনিয়নের ষোলদানা গ্রামে। সে হাজী বাড়ির সোহেল রানার বড় ছেলে। বর্তমানে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে। তার প্রখর মেধা ও পারদর্শিতা নজর কেড়েছে এলাকাবাসীর।

মেহরাজ স্থানীয় সাংবাদিকদের জানায়, লঞ্চটি তৈরি করতে ব্যবহার করা হয়েছে ককসিট, ব্যাটারিচালিত মোটর, ম্যাজিক লাইট এবং গাম। লঞ্চের দৈর্ঘ ৫ ফুট, উচ্চতা ১০ ইঞ্চি, প্রস্থ ৯ ইঞ্চি। এটি দেখতে অবিকল বরিশাল-ঢাকা নৌরুটে চলাচলরত ‘কীর্তনখোলা- ১০’র মতো।

ব্যাটারিচালিত লঞ্চটি নিজবাড়ির পুকুরে প্রায়শই চালাচ্ছে শিশুশিক্ষাথী মেহরাজ। লঞ্চটিতে ব্যবহার করা বিভিন্ন আলোকসজ্জা ও মিউজিক বাতির ঝলকানি মিটমিট করছে। নিখুত হাতে তৈরি করা লঞ্চটির ভেতরে রয়েছে মাস্টার ও যাত্রীদের কেবিন। যার নির্মাণশৈলী ও সৌন্দর্য সবার নজর কেড়েছে। লঞ্চটি দেখতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিনই লোকজন আসতে দেখা যায়।

উপজেলার বড়ালীয়া গ্রামের বাসিন্দা হারুন মাঝি সাংবাদিকদের জানান, তিনি চাকরির সুবাদে বরিশালের লঞ্চে ভ্রমণ করেন। তার পাশের এলাকার এক শিশু বরিশালের লঞ্চ বানিয়েছে জানতে পেরে তিনি দেখতে এসেছেন। মেহরাজের লঞ্চটি দেখে তার মনে হচ্ছে কীর্তনখোলা-১০ লঞ্চটি কেউ এখানে ভাসিয়ে দিয়েছেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য (মেম্বর) মোখলেসুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার ওয়ার্ডে একটি শিশু লঞ্চ তৈরি করেছে শুনে মানুষ দেখতে আসে। তারা প্রশংসা করে। তাই আমিও দেখতে এসেছি। শিশুটির প্রতিভা দেখে এলাকার সবাই মুগ্ধ।’

সাইদুল ইসলাম মেহরাজ সাংবাদিকদের জানায়, কোনো কিছু দেখে সহজেই আয়ত্ত করতে পারে সে। ভালো লাগে নতুন কিছু করতে। লঞ্চ তৈরি করা তার শখের মধ্যে একটি। এর আগে সে উড়োজাহাজ তৈরি করেছে। মেহরাজ ভবিষ্যতে মেরিন ইঞ্জিনিয়ার হতে চায়।

শিশুটির বাবা সোহেল রানা সাংবাদিকদের বলেন, ‘তিন সন্তানের মধ্যে মেহরাজ বড়। সে আমার সাথে নদীপথে ভ্রমণে গিয়েছিল। লঞ্চ দেখে বিভিন্ন কৌতূহলী প্রশ্ন করে। আমি সাধ্যমত উত্তর দিয়েছি। কয়েকদিন পর থেকেই তাকে লঞ্চ তৈরিতে ব্যস্ত দেখা যায়। আমিও তার আগ্রহে সাড়া দেই। মেহরাজ যেন ভবিষ্যতে মেরিন ইঞ্জিনিয়ার হয়ে দেশের জন্য ভলো কিছু করতে পারে। তাই আমি সবার দোয়া চাই।’

বিশেষ খবর

আপনার মতামত লিখুন :

 

ভারপ্রাপ্ত-সম্পাদকঃ শাকিব বিপ্লব
© কপিরাইট বরিশালটাইমস ২০১২-২০১৮ | বরিশালটাইমস.কম
বরিশালটাইমস লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান।
শাহ মার্কেট (তৃতীয় তলা),
৩৫ হেমায়েত উদ্দিন (গির্জা মহল্লা) সড়ক, বরিশাল ৮২০০।
ফোন: ০৪৩১-৬৪৮০৭, মোবাইল: ০১৮৭৬৮৩৪৭৫৪
ই-মেইল: [email protected], [email protected]
© কপিরাইট বরিশালটাইমস ২০১২-২০১৮
টপ
  স্ত্রীর অধিকার পেতে স্বামীর বাড়িতে অনশনে কলেজছাত্রী  মাস্ক ব্যবহার না করায় বরিশালে ৬২ জনকে জরিমানা  প্রবল বেগে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় 'নিভার': ভারতে রেড অ্যালার্ট  বাবুগঞ্জে কামাল চিশতির রোগমুক্তি কামনায় যুবলীগের দোয়া-মোনাজাত  ধর্ম প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন ফরিদুল হক খান  ডিভোর্স দেওয়ায় স্ত্রীর মুখে এসিড ছুঁড়লেন স্বামী  ঝালকাঠিতে আন্তজেলা নারী মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার  নলছিটিতে পৌর কাউন্সিলর  বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন  দৌলতখানে চার করাতকল মালিককে অর্থদণ্ড  ‘ক্রাইম পেট্রল’ দেখে কৌশল শিখে একই পরিবারের ৪ জনকে খুন