২৯শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার

কুয়াকাটায় সৈকতে রাস উৎসবে লাখো পূণ্যার্থীর সমাগম

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৭:৫২ অপরাহ্ণ, ০৩ নভেম্বর ২০১৭

প্রত্যুষে অধিবাসের মাধ্যদিয়ে পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় আনুষ্ঠানিক ভাবে শুক্রবার (০৩ অক্টোবর) থেকে শুরু হয়েছে প্রায় দেড়শ বছরের পুরনো হিন্দু ধর্মবলম্বীদের তিন দিনব্যাপী রাস মেলা। এই মেলাকে ঘিরে কুয়াকাটায় আসতে শুরু করেছে হাজার হাজার পূণ্যার্থী। প্রতি বছরের মত এবারও যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে কুয়াকাটার সমুদ্র সৈকত ও কলাপাড়ায় রাস মেলার আয়োজন করেছে রাস উৎসব আয়োজক কমিটি।

শুক্রবার ভরা পূর্ণিমায় মধ্যরাত থেকে এখানে শুরু হবে পূণ্যস্নান। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, সমুদ্র স্নানের মাধ্যমে জাগতিক পাপ মোচন হয় আর পূর্ণ হয় মনের বাসনা। কুয়াকাটা ছাড়াও কলাপাড়া ও পটুয়াখালী ভবতারণ সেবা সংঘে রাসযাত্রা উপলক্ষে পক্ষকাল ব্যাপী অনুষ্ঠান মালার আয়োজন করা হয়েছে। রাসমেলাকে সাফল্যমণ্ডিত করতে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগ ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।

কুয়াকাটা রাস উৎসব উদযাপন কমিটির সভাপতি ও কলাপাড়া পৌরসভার মেয়র বিপুল চন্দ্র হাওলাদার বরিশালটাইমসকে জানান, শনিবার (০৪ অক্টোবর) প্রত্যুষে লাখো পূণ্যার্থীর সমুদ্র স্নানের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হবে পুণ্যস্নান।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: তানভির রহমান বরিশালটাইমসকে জানান, রাস উৎসব ও মেলার আইন শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য প্রশাসন ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। কুয়াকাটায় আগত দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা, স্যানিটেশন, চিকিৎসা সেবাসহ বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

রাস উদযাপন কমিটি সূত্রে জানা যায়, শনিবার পূর্ণিমা তিথীর সূর্যোদয়ের সময় কুয়াকাটার সমুদ্রে লাখো পূণ্যার্থী পূণ্য স্নানে অংশ নেবে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে লক্ষাধিক পূণ্যার্থী ইতোমধ্যেই কুয়াকাটায় এসেছে সমুদ্র স্নানে অংশ নিতে। রাতে রাস মেলা প্রাঙ্গনে রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পদাবলী কীর্তন, বাউল গান ও ধর্মীয় আলোচনা।

কলাপাড়া শ্রী শ্রী মদনমোহন সেবাশ্রম সূত্র জানায়, সেবাশ্রমের আঙ্গিনায় প্রাকৃতিক কুঞ্জে সতের জোড়া রাধা-কৃষ্ণের যুগল মূর্তি স্থাপন সম্পন্ন করা হয়েছে। রাস পূঁজার উপকরণ সামগ্রী ও বাদ্যযন্ত্র সহকারে কুলবধূদের কুঞ্জ পরিভ্রমণ, শ্রীশ্রী গোপাল ও যোহমায়ার মূর্তি নিয়ে শহর প্রদক্ষিণ ও জগন্নাথ মন্দিরে গমন, প্রতিদিনের ভোগরাগ ও পূঁজার্চনা, ভক্তবৃন্দের আগমন, কুঞ্জ প্রদক্ষিণ, যুগল দর্শন ও প্রনাম, সন্ধ্যারতী কীর্তন ও মহোৎসবের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সেবাশ্রম অংঙ্গনের ৫ দিনব্যাপী এ মেলায় দেশীয় লোকজ সংস্কৃতির কারুকার্য খচিত কুটির শিল্পের পসরা সহ ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানাদি পালনের বই-পত্র, ছবি ও গৃহস্থালি কাজের উপকরন থাকছে ক্রেতাদের জন্য।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাহেব আলী পাঠান বরিশালটাইমসকে জানান, রাসমেলাকে সফল করতে পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে পুরো এলাকাজুড়ে। নিয়মিত টহল পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে কয়েকশত পুলিশ নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবে বলে নিশ্চিত করেন তিনি।

জেলা প্রশাসক ড.মাছুমুর রহমান বরিশালটাইমসকে জানান, পটুয়াখালী জেলা প্রশাসন লক্ষাধিক পর্যটককে বরণ করতে সকল ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে। কুয়াকাটার সকল আবাসিক হোটেল, মোটেল, রেস্টহাউজ এবং রেস্তোরাঁয় ভাড়া এবং খাবার মান ও দাম সঠিক কি না তা যাচাইয়ের জন্য মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে।

মেলা এলাকায় যাতে কোনো রকম পর্যটক হয়রানি না হয় এবং ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি না হয় সে বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। একটি শান্তিপূর্ণ, আনন্দঘন রাস মেলা কুয়কাটায় সম্পন্ন হবে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।

10 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন