১৫ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার

কুয়াকাটায় মৎস্য বন্দরে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৯:১০ অপরাহ্ণ, ১৪ নভেম্বর ২০১৬

দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম মৎস্য বন্দর খ্যাত আলীপুর-মহিপুর ইলিশের আড়তে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু হয়েছে। জেলেরাও সাগর থেকে আহরিত মাছ বেচাকেনা বন্ধ রেখে ধর্মঘটে অংশ নিয়েছে।

সোমবার (১৪ নভেম্বর) সকাল থেকে আকস্মিক এ ধর্মঘট শুরু হয় বলে কুয়াকাটা-আলীপুর মৎস্য আড়তদার সমিতির সভাপতি আনছার উদ্দিন মোল্লা জানিয়েছেন।

তিনি জানান, নিষিদ্ধ ঘোষণা করা জাটকা পরিবহন ও বিক্রি বন্ধের নামে হয়রানির নেপথ্যে কাজ করছে পটুয়াখালীর কয়েকজন কথিত মৎস্য ব্যবসায়ী। সড়কপথে যাওয়ার সময় পটুয়াখালীতে গাড়ি থেকে মাছ নামিয়ে প্রশাসনের নাম ব্যবহার করে দেওয়া হয় নিলাম। তিন জানান, ২০ লাখ টাকার মাছ এক থেকে দেড় লাখ টাকায় নিলামে বিক্রি করা হয়। চিহ্নিত ওই চক্রটি কতিপয় প্রশাসনের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে এভাবে নিলাম ক্রয়ের নামে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

আনছার উদ্দিন মোল্লা বলেন, আজ (সোমবার) আলীপুর ও মহিপুর মৎস্য বন্দর ঘাটে সাগর থেকে ধরে আনা মাছধরা ট্রলারগুলোতে অন্তত ৩০০ মণ ইলিশ বিক্রির জন্য অপেক্ষায় রয়েছে। পটুয়াখালীর চিহ্নিত ওই চক্রটির অপতৎপরতায় মহিপুর আলীপুরের ইলিশ রপ্তানিকারকরা ইলিশ কিনতে রাজি হচ্ছে না। আলীপুর ইলিশ ব্যবসায়ী মজিবর হাওলাদার বলেন, অনেকে হয়রানির ভয়ে এ মৌসুমে ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

মহিপুর মৎস্য আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক নিমাই চন্দ্র দাস বলেন, জাটকা আমরা কেনাবেচা করি না। দেশের বিভিন্ন মোকামে মাছ নিয়ে যেতে সড়কপথে পটুয়াখালী হয়ে যাওয়ার সময় ব্যাপক হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। জাটকা রয়েছে এমন অভিযোগে মাছের ডোল ট্রাক-পিকআপ থেকে নামিয়ে ফেলা হয়। অনেক মাছের মধ্যে দু-চারটি ছোট ইলিশ পেলেও আটককৃত সব মাছ নিয়েই হয়রানি করা হয়, নিলামের নামে চলছে হরিলুট।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঘাটে শতাধিক ট্রলার ইলিশ বিক্রির জন্য অপেক্ষায় আছে। সোমবার সকাল থেকে দিনভর এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আলীপুর-মহিপুর মৎস্য বন্দর ঘুরে কোনো মাছ বিক্রি করতে দেখা যায়নি। জেলেরাও পড়েছেন বিপাকে। তারাও এর সুষ্ঠু সমাধান দাবি করেছেন। মাছধরা ট্রলারের জেলে জাহাঙ্গীর মাঝী বলেন, সাগরে যাইয়া এত কষ্ট কইর‌্যা মাছ ধইর‌্যা আনি, হ্যারপর যদি হ্যাই মাছ ঠিক সময় ব্যাচতে (বিক্রি) না পারি!

এ ব্যাপারে কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম বলেন, পয়লা নভেম্বর থেকে ৩১ জুন পর্যন্ত ৮ মাস জাটকা (১০ ইঞ্চি বা তার ছোট ইলিশ) ধরায় নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে জেলে এবং মৎস্য ব্যবসায়ীদের অবহিত করা হয়েছে। হয়রানির বিষয়টি আমার জানা নেই।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ বি এম সাদিকুর রহমান বলেন, ব্যবসায়ীরা অনেক সময় ডোলের (প্যাকেট) উপরে বড় ইলিশ রেখে জাটকা নিচে রেখে পাঠায়। বিভিন্ন সময় এটি ধরা পড়েছে। তবে পটুয়াখালীতে কী হচ্ছে এটি আমার জানা নেই। এ ছাড়া মহিপুর আলীপুর মৎস্য বন্দরের মৎস্য ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট চলার ব্যাপারে আমাকে কেউ অবহিত করেনি।

14 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন