২৯শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার

খুন্তির ছ্যাঁকায় সুরমার শরীরে ক্ষত ক্ষত ঘা, ওষুধ দিতেন না গৃহকর্তী

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৯:০৫ অপরাহ্ণ, ১২ নভেম্বর ২০১৭

ভোলার মনপুরা উপজেলায় সুরমা নামে ৯ বছর বয়সী একটি শিশু গৃহকর্তীর নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তার সারা শরীরে এখন গরম খুন্তির ছ্যাঁকার ক্ষত। কোনো কোনো ক্ষত দগদগে ঘা হয়ে গেছে। ভোলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এই শিশুটিকে অভাবের কারণে তার মা এক স্কুলশিক্ষকের বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করতে পাঠিয়েছিলেন।

কিন্তু মেয়ের কাজের বিনিময়ে ভালোবাসার বদলে কপালে জুটেছে নির্মম নির্যাতন।

অভিযোগ পাওয়া গেছে- জেলার মনপুরা উপজেলার উত্তর সাকুচিয়ার ভকেশনাল স্কুলের সহকারী শিক্ষক সাইদুর রহমানের বাড়িতে কাজ করত সুরমা। সেখানেই সাইদুরের স্ত্রী মিনারা বেগম সুরমার ওপর এই নির্মম নির্যাতন চালান। এ ঘটনায় সুরমার মা আনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে স্কুলশিক্ষক দম্পতির নামে মনপুরা থানায় মামলা করেছেন।

সুরমার পরিবার সূত্রে জানা গেছে- তাদের বাড়ি তজুমদ্দিন উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ কেয়ামুল্যাহ গ্রামে। সে মুনাফ আলী বাড়ির মৃত ফজলুল রহমানের মেয়ে। স্বামীর মৃত্যুর কয়েক মাস পর তার মা আনোয়ারা বেগম আবারও বিয়ে করেন। সে সময় মাত্র ৮’শ টাকা বেতনে সুরমাকে মনপুরা উপজেলার ওই শিক্ষকের বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করতে পাঠান।

শর্ত ছিল সুরমাকে ওই শিক্ষক তিনবেলা খাবার ও পোশাক দেবেন। সঙ্গে তাকে পড়াশোনাও করাবেন।

সুরমার মা আনোয়ারা বরিশালটাইমসকে বলেন, পাশের বাড়ির হাজি দিলাওয়ার হোসেন তাঁর মেয়ে মিনারার বাড়িতে কাজ করার কথা বলে সুরমাকে নিয়ে যান। সুরমাকে নিয়ে যাওয়ার পর তার সঙ্গে আর দেখা হয়নি।

সুরমা জানায়, কারণে-অকারণে মিনারা তাকে শারীরিক নির্যাতন করতেন। গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দিতেন। সে যন্ত্রণায় চিৎকার করত, কিন্তু তাকে কোনো ওষুধ দেওয়া হতো না। এ কারণে ছ্যাঁকার ক্ষতগুলো এখন ঘা হয়ে গেছে।

আনোয়ারা বেগম আরও বরিশালটাইমসকে বলেন, নির্যাতনে সুরমার অবস্থা খারাপ হলে মিনারার বাবা-ভাই গোপনে মনপুরা থেকে তাকে তজুমদ্দিন নিয়ে আসেন। সেখানে গোপনে চিকিৎসা করেন। খবরটি জানতে পেরে তিনি মিনারার বাবা দিলাওয়ারের বাড়িতে যান। সেখানে সুরমার মর্মান্তিক অবস্থা দেখে অচেতন হয়ে পরেন।

এই সময় ঘটনাটি কাউকে জানাতে তাঁকে নিষেধ করা হয়। পরে স্থানীয় লোকদের সহযোগিতায় সুরমাকে গত বৃহস্পতিবার প্রথমে তজুমদ্দিন হাসপাতালে ও পরবর্তীতে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ওই হাসপাতালের নারী সার্জারি ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়- পুষ্টিহীনতায় ভোগা ছোট্ট সুরমার সারা শরীরে জখমের চিহ্ন। কোথাও কোথাও দগদগে ঘা। চোখ দুটি ফুলে উঠেছে তার। থেকে থেকে কেবল কাঁদছে।

ভোলা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) তৈয়বুর রহমান বরিশালটাইমসকে বলেন, ভর্তির সময় সুরমার অবস্থা গুরুতর ছিল। শিশুটিকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তার শরীরে অনেক ক্ষত। চিকিৎসা চলছে, তবে এখনো বিপদমুক্ত নয়।

মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন খান বরিশালটাইমসকে বলেন, সুরমার মা আনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে স্কুলশিক্ষক সাইদুর ও তাঁর স্ত্রী মিনারার নামে মামলা করেছেন। কিন্তু ঘটনার পর থেকেই তাঁরা দুজনই পলাতক থাকলেও তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশ মাঠে কাজ করছে।’’

10 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন