১৫ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার

খ্যাতির সীমানা যার বিস্তৃত

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৩:৪২ অপরাহ্ণ, ০৭ নভেম্বর ২০১৬

‘গোটা ভারত যখন গভীর ঘুমে নিমগ্ন, তখনো বরিশাল ছিল সজাগ’ ১৯০৮ সালে মহাত্মা গান্ধীর এমনতর উচ্চারণ রত্ন প্রসবিনী বরিশালের অতীত গৌরবের স্বর্ণগাথা নির্ণিত করে। প্রাচীন গঙ্গার পলল বাংলার দক্ষিণ ভাগে যে দ্বীপগুলো সৃষ্টি করে তা নব্যাবকাশিকা নামে অভিহিত। তার মধ্যে সুগন্ধা নদীর পাঁজরঘেঁষা সবুজের রাজটিকা সুশোভিত বরিশাল ইতিহাস-ঐতিহ্যে সর্বদাই আগুয়ান। যেখানে প্রকৃতির অকৃপণ দানের আর কর্মযোগী মহাপুরুষদের আবির্ভাবের সোনার হাতে সোনার কাঁকন পরিয়ে রেখেছে শুরু থেকেই। আজীবন সত্যের উপাসক মহাত্মা অশ্বিনী কুমার দত্ত পুণ্যভূমি বরিশাল জেলার পটুয়াখালী মহকুমায় ১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দের ২৫ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন।

অশ্বিনী কুমার দত্ত তার কর্ম নিপুণতায় বিনয় মুজমদারের কবিতার মতোই সীমানা ছাড়িয়ে স্থান করে নিয়েছিলেন বিশ্বসভায়। বিশ্বপথিক মহাত্মা অশ্বিনী রংধনুর সাতটি রং মিশ্রিত চরিত্রগুণে গুণান্বিত। তিনি শিক্ষক-শিক্ষাব্রতী। তিনি সমাজ সংস্কারক, আইনজীবী, সাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ, দার্শনিক। অন্যদিকে আধ্যাত্ম বাসিন্দা। সত্য ও ন্যায়ের পূজারী অশ্বিনী কুমার দত্ত শাস্ত্রমন্ত্র ‘বসুধৈব কুটুম্ববাস’ অর্থাৎ গোটা বিশ্বই আমার আত্মীয় এমনতর আলোকিত প্রত্যয়ে আমৃত্যু প্রত্যয়ী থেকেছেন।

যুগমহাপুরুষদের সান্নিধ্যে অশ্বিনী হয়ে ওঠেন মহাত্মা অশ্বিনী। ছাত্র জীবনেই তিনি ঋষি রাজনারায়ণের চরনে স্থান পান। বিএ পড়ার সময় আচার্য্য কেশবচন্দ  সেন মহাশয়ের নৈকট্য লাভ করেন। কথা প্রসঙ্গে একদিন অশ্বিনী দত্ত তার মানসপুত্র শ্রী মুকন্দ দাসকে বলেছিলেন ‘আমি কেশব বাবুর দ্বারাই চৌদ্দ আনা তৈরি।’ শিক্ষার প্রসার, লোকসেবা, রাজনীতি, সমাজনীতি সব ক্ষেত্রেই তার উপস্থিতি ছিল অত্যন্ত উজ্জ্বল। তার সাধনাই তাকে কিংবদন্তিতে পরিণত করে। হিন্দু সমাজকে রক্ষার নিমিত্তে তিনি অস্পৃশ্যের সেবা করেছেন প্রাণ ঢেলে, অম্লান বদনে মুচি-মেথরের গলা জড়িয়ে আপন

থেকে আপনতর করেছেন, তাদের বোঝাতে শেখালেন তারাও যে ঈশ্বরের শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি। উপেক্ষিত শক্তির বোধন সূচিত হলো নিখিল ভারতবর্ষে। গম্ভীরভাবে ব্রাহ্ম সমাজে বেদীতে বসে সেই অশ্বিনী কুমারই উপাসনা করে সাকার-নিরাকার দ্বন্দ্ব ঘোচালেন, যা তার বিরাট মনুষত্বের পরিচায়ক। সত্য, প্রেম, পবিত্রতাই তার জীবন সাধনা। প্রচারবিমুখ এই মানুষটির দূরদর্শিতা, সততা, ত্যাগ-নিষ্ঠা, মহত্ত্ব-উদারতা, শক্তি ও ভক্তির আচর্য সম্মিলন দৃষ্টান্তযোগ্য। তিনি ছিলেন বাঙালি জাতীয়তাবাদ জাগরণের অন্যতম একজন ঋত্বিক।

১৯২১ সালে অশ্বিনী কুমার দত্তের নেতৃত্বে শুরু হয় অসহযোগ আন্দোলন। খেলাফত আন্দোলনের নেতারা এ আন্দোলনে যোগদান করায় আন্দোলনে তীব্রতা বৃদ্ধি পায়। দেশি-বিদেশি পত্র-পত্রিকায় লেখা হলো, গোটা বরিশাল অন্ধের মতো অশ্বিনী বাবুর অনুবর্তী। বিপ্লবী মুকন্দ দাসের মতে যেদিন রাজনীতিতে অশ্বিনী কুমার ঝাঁপিয়ে পড়লেন, বরিশালের আপামর জনসাধারণ সেদিন যেন তার জন্য উন্মাদ হয়ে গেল।  ‘সবার উপরে মানুষ সত্য’ এই ভাবমন্ত্রের প্রতিপালক বঙ্গের অবিসংবাদিত নেতা জিতেন্দ্রীয় পুরুষ, কর্মযোগী অশ্বিনী কুমার ১৯২৩ সালেন ৭ নভেম্বর চলে গেলেন মহাসিন্ধুর ওপারে।

13 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন