২৪শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার

গণপূর্ত অফিসে জাতীয় পার্টি নেতা ঝুনুর তান্ডব, কর্মকর্তাকে মারধর

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৬:০২ অপরাহ্ণ, ০৩ জুলাই ২০১৭

বরিশাল গণপূর্ত বিভাগের অফিসের হামলা চালিয়ে কার্য সহকারী শাহে আলমকে মারধর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে সদর উপজেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক ঠিকাদার বশির আহম্মেদ ঝুনুর বিরুদ্ধে। সোমবার (০৩ জুলাই) বেলা দেড়টার দিকে মেডিকেল ক্যাম্পাসের উপ-বিভাগীয় কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

প্রায় একই সময়ে বরিশাল নগরীর বান্দরোড এলাকায় গণপূর্তের নিবার্হী প্রকৌশলীর কার্যালয়েও ঝুনুর সহযোগীরা তান্ডব চালিয়েছে। ওই সময় তারা নিবার্হী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে ঢুকে গুরুত্বপর্ণ কাগজপত্র তছনছ এবং কয়েকজন কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করে।
ঘটনার পরপরই সংশ্লিষ্ট বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। কিন্তু এর আগেই হামলাকারীরা সটকে পরে। হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বরিশাল গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ওসমান গনি বরিশালটাইমসকে জানিয়েছেন, আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে নিম্নমানের কাজ করতে বাধা দেয়ায় ঠিকাদার বশির আহম্মেদ ঝুনু এমন ত্রাস চালিয়েছেন।

বরিশাল গণপূর্ত বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন- ঠিকাদার বশির আহম্মেদ ঝুনু শের-ই বাংলা মেডিকেলের একাংশে প্রায় ৩ লাখ টাকা ব্যয়ে সংস্কার-মেরামত কাজ করছে। সেখানে কার্য সহকারীর দায়িত্ব পালন করছে শাহে আলম। কাজের মান খারাপ হওয়ায় শাহ আলম ঠিকাদারকে নিম্নমানের কাজ করতে বাধা দেয়।

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ঝুনু তাকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘তোর অফিসাররা কিছু বলে না, তুই এত বেশি বুঝ কেন’, এই বলেই শাহে আলম চর-থাপ্পর এবং কিল-ঘুষি দেয়। মার খাওয়ার পর শাহে আলম অফিসে এসে নির্বাহী প্রকৌশলীকে ঘটনা জানাচ্ছিলেন। কিছু বুঝে ওঠার আগেই বিকেল ৩ টার দিকে ঝুনু ও তার সহযোগীরা দ্বিতীয় দফায় অফিসে ঢুকে কয়েকজন উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে লাঞ্ছিত করেন। এমনকি অফিসের গুরুত্বপূর্ণ কিছু ফাইলপত্র নিয়ে যান। হামলার সময় তারা কোতয়ালি পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন।

তবে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই হামলাকারীরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।

তবে এই হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে বশির আহম্মেদ ঝুনু সাংবাদিকদের বলেন, তিনি মারুফ আহম্মেদ নামে একটি লাইসেন্সের অনুকূলে মেডিকেলে আড়াই লাখ টাকার একটি মেরামত কাজ করছেন। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী কার্য সহকারী হাফ পার্সেন্ট উৎকোচ পায়। কিন্তু সে (শাহে আলম) ওই কাজে ২ পার্সেন্ট উৎকোচ দাবি করে। দাবি অনুযায়ী তাকে ২ পার্সেন্ট উৎকোচ না দেয়ায় সে কাজে নানা ত্র“টি ধরে এবং কাজ বন্ধ করে দেয়।

খবর পেয়ে তিনি সেখানে যাওয়ার পর কার্য সহকারী শাহে আলম তার সামনে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন। এ নিয়ে বাদানুবাদের এক পর্যায়ে সাব ঠিকাদার আল-আমীনের সাথে শাহে আলমের হাতাহাতি হয়।

পরে সিনিয়র কর্মকর্তারা তাদের উভয়কে মিলিয়ে দেন। তিনিও এই ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করার কথা বলেন।

বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ্ মো. আওলাদ হোসেন মামুন বরিশালটাইমসকে জানান, কার্য সহকারীকে মারধরের ঘটনায় গণপূর্ত বিভাগ লিখিত অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেবে পুলিশ।”

 

 

6 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন