১৯শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার

গৌরনদীতে দত্তক পুত্রকে নির্যাতন করে খুন!, নিরব পুলিশ

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১০:০০ অপরাহ্ণ, ০৬ এপ্রিল ২০১৭

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের কমলাপুর গ্রামে সৌদী প্রবাসীর স্ত্রী তার দত্তক পুত্র নাঈফ ইসলামকে (৪) নির্যাতন করে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মারা যাওয়ার পর শিশুটি সম্পর্কে কাউকে কিছু না জানিয়ে তরিঘরি করে দাফন সম্পন্ন করা হয়।

এ নিয়ে এলাকায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। কিন্তু কাউকে আটক না করায় সেই ক্ষোভের আগুন এলাকাবাসীর মধ্যে ক্রমশেই জ্বলে উঠছে।

ওই এলাকার একাধিক বাসিন্দার সাথে কথা বলে জানা গেছে- গ্রামের সৌদী প্রবাসী সিরাজ মৃধা ও লাইজু বেগমের দাম্পত্য জীবনে ৩ কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। ৫ মাস পূর্বে সিরাজ মৃধা দেশে বেড়াতে আসেন। এ সময় সিরাজের শ্যালক পার্শ্ববর্তী মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলার সিডিখান গ্রামের দিনমজুর রহমান বেপারী ও তার স্ত্রী গার্মেন্টস কর্মী বকুল বেগমের দ্বিতীয় পুত্রকে ৫০ হাজার টাকার বিনিময় দত্তক নেন।

এতে বাধ সাধে সিরাজের স্ত্রী লাইজু বেগম। লাইজুর ইচ্ছার বিরুদ্ধে সিরাজ তার বাড়িতে এনে ওই শিশুর নাম রাখেন নাঈফ ইসলাম। সম্প্রতি সিরাজ সৌদী আরব চলে যান।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক প্রতিবেশী অভিযোগ করেন- লাইজু শিশু নাঈফকে সব সময় অযত্ন অবহেলা করে আসছিল। বুধবার সকালে নাঈফ কান্নাকাটি করলে এক পর্যায়ে লাইজু শিশুটির উপর শারীরিক নির্যাতন চালায়। ফলে শিশুটির মাথায় আঘাত প্রাপ্ত হয়।

‍‍সন্ধ্যায় শিশুটি মারা যায়।

অভিযোগ রয়েছে- মৃত শিশু পুত্র নাঈফের দিনমজুর ও অসহায় পিতা-মাতাকে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময় সিরাজ মৃধা ও লাইজু বেগম ম্যানেজ করে তাড়াহুড়ো করে দাফন সম্পন্ন করেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে লাইজু বেগম বলেছেন- ‘নাঈফ ইসলাম বুধবার দুপুরে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হলে তাকে গৌরনদী সদরে ডাক্তার মোস্তাফিজুর রহমানের কাছে চিকিৎসা ব্যবস্থা নেয়া হয়। পরবর্তীতে সন্ধ্যায় নাঈফ মারা যায়।’

এ সময় ডাক্তারের ব্যবস্থাপত্র দেখতে চাইলে তিনি (লাইজু) কোন ব্যবস্থাপত্র দেখাতে পারেননি।

এ বিষয়ে ডাক্তার মোস্তাফিজুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বুধবার দুপুরের পর থেকে আমি চেম্বারে বসেনি। আমি রোগীর চিকিৎসা দিলে তার ব্যবস্থাপত্র থাকবে।’

নিহত নাঈফ ইসলামের মা গার্মেন্টস কর্মী বকুল বেগমের সাথে সাংবাদিকরা মুঠোফোনে কথা বলার সময় বকুল তার ননদ জামাই (সৌদী প্রবাসী) সিরাজ মৃধাকে ভেবে তাদের অভ্যন্তরীণ সমঝোতার কথা প্রকাশ করেন।

এ ব্যাপারে গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফিরোজ কবির বরিশালটাইমসকে বলেন, ‘মৌখিক অভিযোগ পেয়ে আমি ২ জন পুলিশ অফিসারকে তদন্তের জন্য এলাকায় পাঠিয়েছি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

8 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন