২০শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার

ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের সময় যেসব আমল করবেন

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০১:২০ অপরাহ্ণ, ১৪ মে ২০২৩

ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের সময় যেসব আমল করবেন

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল:: প্রাকৃতিক ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস আল্লাহ তায়ালার ইচ্ছারই বহিঃপ্রকাশ। এসব মানুষের জীবনে বিপদ ঢেকে আনে। তাই অতিবৃষ্টি, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস এবং বন্যা ও অন্যান্য দুর্যোগের ক্ষয়-ক্ষতি থেকে বাঁচতে মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করা চাই। পাশাপাশি সম্ভবপর ব্যবস্থা ও আশ্রয় নেওয়া আবশ্যক।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন, ‘আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টিতে, তার নির্দেশে বায়ুর দিক পরিবর্তনে এবং তার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত মেঘমালাতে জ্ঞানবান জাতির জন্য নিদর্শন রয়েছে।’ (সুরা আল-বাকারা, আয়াত নং- ১৬৪)।

তবে মানুষের গুনাহ ও কৃতকর্মের কারণেই এ ধরনের বিপর্যয় ঘটে থাকে। সমাজে অন্যায়-অনাচার বেড়ে গেলেই প্রাকৃতিক দুর্যোগের বেশি আশঙ্কা থাকে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘জল-স্থলে বিপর্যয় মানুষের কৃতকর্মের ফল।’ ( সুরা রুম, আয়াত নং- ৪১)।

তাই বিভিন্ন হাদিসে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রাকৃতিক দুর্যোগের অনেক কারণ উল্লেখ করেছেন। প্রাকৃতিক বিপর্যয় দেখা দিলে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিচলিত হয়ে পড়তেন। আল্লাহর শাস্তির ভয় করতেন। বেশি বেশি তওবা-ইস্তিগফার করতেন এবং সাহাবাদের তা করার নির্দেশ দিতেন।

ঝড়-তুফান শুরু হলে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মসজিদে চলে যেতেন। নফল নামাজে দাঁড়িয়ে আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করতেন।

এ জন্য অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের সময় বেশ ‍কিছু আমলগুলোর প্রতি যত্মবান হওয়া কর্তব্য। বিশেষত অতীতের সব গুনাহ ও ভুলের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে নিতে হবে। পাশাপাশি ঘূর্ণিঝড় ও প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কয়েকটি দোয়া শিখিয়েছেন।

জোরে বাতাস প্রবাহিত হলে যে দোয়া পড়তে হবে

ﺍﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺇِﻧِّﻲ ﺃَﺳْﺄَﻟُﻚَ ﺧَﻴْﺮَﻫَﺎ، ﻭَﺃَﻋُﻮﺫُ ﺑِﻚَ ﻣِﻦْ ﺷَﺮِّﻫَﺎ

উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা খাইরাহা, ওয়া আউযুবিকা মিন শাররিহা।’
অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট এর কল্যাণটাই কামনাকরি। এবং আপনার নিকট এর অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাই।’ (সুনানে আবু দাউদ ও সুনানে ইবনে মাজাহ্)।

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) বলেছেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মেঘের গর্জন শুনলে বা বিদ্যুতের চমক দেখলে সঙ্গে সঙ্গে এই দোয়া করতেন-

اللَّهُمَّ لا تَقْتُلْنَا بِغَضَبِكَ ، وَلا تُهْلِكْنَا بِعَذَابِكَ ، وَعَافِنَا قَبْلَ ذَلِكَ

উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা লা- তাক্বতুলনা- বিগযাবিকা ওয়া লা-তুহলিকনা- বিআ’জা-বিকা, ওয়া আ’-ফিনা- ক্বাবলা যা-লিকা।’

অর্থ: ‘হে আমাদের প্রভু! আমাদেরকে তোমার ক্রোধের কারণে মেরে ফেলো না আর তোমার আযাব দিয়ে আমাদের ধ্বংস করো না। বরং এর আগেই আমাদেরকে ক্ষমা ও নিরাপত্তার চাদরে আবৃত করে নাও।’ (জামে তিরমিজি)।

ঝড় বা বাতাস থেকে বাঁচতে যে দোয়া পড়তে হবে-

ﺍﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺇِﻧِّﻲ ﺃَﺳْﺄَﻟُﻚَ ﺧَﻴْﺮَﻫَﺎ، ﻭَﺧَﻴْﺮَ ﻣَﺎ ﻓِﻴﻬَﺎ، ﻭَﺧَﻴْﺮَ ﻣَﺎ ﺃُﺭْﺳِﻠَﺖْ ﺑِﻪِ، ﻭَﺃَﻋُﻮﺫُ ﺑِﻚَ ﻣِﻦْ ﺷَﺮِّﻫَﺎ، ﻭَﺷَﺮِّ ﻣَﺎ ﻓِﻴﻬَﺎ، ﻭَﺷَﺮِّ ﻣَﺎ ﺃُﺭْﺳِﻠَﺖْ ﺑِﻪِ

উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা মিন খাইরি হাজিহির রিহি ওয়া খাইরা মা ফিহা ওয়া খাইরা মা উরসিলাত বিহি, ওয়া আউযুবিকা মিন শাররিহা, ওয়া শাররি মা ফিহা ওয়া শাররি মা উরসিলাত বিহি।’

অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট প্রার্থনা করি এর কল্যাণ, এর মধ্যকার কল্যাণ এবং যা এর সাথে প্রেরিত হয়েছে তার কল্যাণ। আর আমি আপনার আশ্রয় চাই এর অনিষ্ট থেকে, এর ভেতরে নিহিত অনিষ্ট থেকে এবং যা এর সঙ্গে প্রেরিত হয়েছে তার অনিষ্ট থেকে।’ (সহিহ বুখারি)।

মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের সব গুনাহ ক্ষমা করে ঘূর্ণিঝড় মোখাসহ অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা করুন। আমিন!

লেখক : আলেম, প্রাবন্ধিক ও কলেজ শিক্ষক

45 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন