১৬ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, রবিবার

ঘূর্ণিঝড় রিমালের তাণ্ডবে বরিশালে ৮ লাখ গ্রাহক বিদ্যুৎহীন, টেলিযোগাযোগব্যবস্থা অচল

বরিশালটাইমস, ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৬:০৭ অপরাহ্ণ, ২৮ মে ২০২৪

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল:: ঘূর্ণিঝড় রিমালের তাণ্ডবে বরিশালে বিদ্যুৎ সরবরাহ ও টেলিযোগাযোগ–সেবা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গত রোববার রাতে রিমালের তাণ্ডব শুরুর পর বরিশাল জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটে। আজ মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত জেলায় তা পুনঃস্থাপন করা সম্ভব হয়নি। বরিশাল বিভাগের অন্তত আট লাখ গ্রাহক বিদ্যুৎহীন রয়েছেন।

প্রায় ৪৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় বিপর্যয়ে পড়েছে টেলিযোগাযোগ পরিষেবাও। মুঠোফোন ও ইন্টারনেট যোগাযোগ বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন কয়েক লাখ গ্রাহক। এতে ঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করা যাচ্ছে না। সেই সঙ্গে স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা।

ঘূর্ণিঝড় রিমালের কারণে বিদ্যুৎ–বিভ্রাটে বরিশালে ১০ হাজারের বেশি মোবাইল টাওয়ার বা বেজ ট্রান্সমিটার স্টেশন (বিটিএস) সেবা দিতে পারছে না। বিটিএস রেডিও সংকেতের মাধ্যমে মোবাইল ডিভাইসের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কল ও ইন্টারনেট সংযোগ দিয়ে থাকে।

টেলিকম প্রতিষ্ঠানগুলোর সূত্রে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় রিমালের কারণে বিদ্যুৎ–বিভ্রাটে বরিশালে ১০ হাজারের বেশি মোবাইল টাওয়ার বা বেজ ট্রান্সমিটার স্টেশন (বিটিএস) সেবা দিতে পারছে না। বিটিএস রেডিও সংকেতের মাধ্যমে মোবাইল ডিভাইসের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কল ও ইন্টারনেট সংযোগ দিয়ে থাকে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব পড়েছে দক্ষিণের জেলাগুলোর লাখ লাখ মানুষের মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপর। বরগুনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, ভোলা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, খুলনাসহ আরও কয়েকটি জেলার মানুষ টেলিযোগাযোগ সেবার বাইরে আছেন।

টেলিকম কোম্পানির কর্মকর্তাদের মতে, একটি বিটিএসের জন্য স্ট্যান্ডার্ড ব্যাটারি ব্যাকআপের সময়কাল সাধারণত চার থেকে আট ঘণ্টা পর্যন্ত, যা বিদ্যুৎ প্রাপ্তির ওপর নির্ভর করে। স্বল্প থেকে মাঝারি সময়ের বিদ্যুৎ–বিভ্রাট হলেও এই ব্যাকআপের মাধ্যমে টাওয়ার চালু থাকে। কিন্তু দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ–বিচ্ছিন্ন থাকায় টেলিযোগাযোগ একরকম বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

এদিকে বরিশালে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো) ও দুটি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতায় প্রায় ৯ লাখ ১৯ হাজার ৮৬ গ্রাহক রয়েছেন। এর মধ্যে ওজোপাডিকোর আওতায় ৩ লাখ ৪০, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১–এর আওতায় ৩ লাখ ২০ হাজার ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২–এর আওতায় ২ লাখ ৫৯ হাজার ৮৬ গ্রাহক রয়েছেন। এর মধ্যে বরিশাল নগরে ১ লাখ ২০ হাজার গ্রাহকের বিদ্যুৎ সরবরাহ আজ সকালে চালু করা গেলেও বাকি আট লাখ গ্রাহক এখনো বিদ্যুৎবিহীন রয়েছেন।

ওজোপাডিকোর বরিশাল অঞ্চলের পরিচালন ও সংরক্ষণ সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আবদুল মজিদ দুপুরে বলেন, বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইনে অসংখ্য গাছ ভেঙে পড়ে আছে। খুঁটি ও সঞ্চালন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব মেরামত ও গাছ অপসারণে সময় লাগবে।

বরিশালে ওজোপাডিকো ও দুটি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতায় প্রায় ৯ লাখ ১৯ হাজার ৮৬ গ্রাহক রয়েছেন। এর মধ্যে ওজোপাডিকোর আওতায় ৩ লাখ ৪০, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১–এর আওতায় ৩ লাখ ২০ হাজার ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২–এর আওতায় ২ লাখ ৫৯ হাজার ৮৬ গ্রাহক রয়েছেন। এর মধ্যে বরিশাল নগরে ১ লাখ ২০ হাজার গ্রাহকের বিদ্যুৎ সরবরাহ আজ সকালে চালু করা গেলেও বাকি আট লাখ গ্রাহক এখনো বিদ্যুৎবিহীন রয়েছেন।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১–এর মহাব্যবস্থাপক মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমাদের সমিতির আওতায় ৩ লাখ ২০ হাজার গ্রাহক আছেন। এর মধ্যে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রাহক বিদ্যুৎ পেয়েছেন। বাকিরা পাননি। বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইনে অসংখ্য গাছ উপড়ে পড়ে আছে। সরবরাহ ঠিক করতে দু-তিন দিন লেগে যেতে পারে।’

বরিশাল জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ ব্যাহত হচ্ছে। টেলিযোগাযোগ ও বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল না হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র তুলে আনা যাচ্ছে না। জেলা ত্রাণ ‍ও পুনর্বাসন বিভাগ জানায়, প্রাথমিক হিসাবে বরিশাল জেলায় ছয়টি পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ও ৮৮টি ইউনিয়ন সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে জেলায় ১ লাখ ৮৫ হাজার ৫০০ জন সরাসরি ক্ষতির শিকার হয়েছেন। ঝড়ে মারা গেছেন অন্তত তিনজন। রিমালের তাণ্ডবে প্রায় তিন হাজার ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, প্রাথমিক হিসাবে বরিশাল জেলায় ২৫৫টি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ এবং ২ হাজার ৬৮৫টি ঘরবাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া নগরীতে দেয়ালধসে দুজন, বাকেরগঞ্জে গাছচাপা পড়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহত প্রত্যেকের পরিবারের কাছে ২৫ হাজার টাকা করে অর্থসহায়তা দিয়েছে জেলা প্রশাসন। এ ছাড়া জেলার ৫৪১টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৩০ হাজার মানুষ আশ্রয় নেয়।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা রণজিৎ সরকার বলেন, ঝড়ের পূর্ণাঙ্গ ক্ষয়ক্ষতির তালিকা করতে আরও অন্তত তিন-চার দিন সময় লাগবে। আবহাওয়া ও যোগাযোগব্যবস্থা স্বাভাবিক না হলে এটা করাটা দুরূহ। এদিকে বরিশাল নগরসহ জেলার অধিকাংশ জায়গা ঝড়–পরবর্তী জলোচ্ছ্বাস ও জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে ।

এতে বরিশাল নগরের অধিকাংশ এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে নগরবাসী চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় রিমাল আমাদের অপূরণীয় ক্ষতিসাধন করেছে। তবে বরিশালের মানুষ সংগ্রামী জীবন যাপনে অভ্যস্ত। তারা আবার ঘুরে দাঁড়ানো শুরু করেছে। সরকার তাদের পাশে আছে।

132 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন