ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের আঘাতে ড্রেজারডুবি, ৪ শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপকূলের সন্দ্বীপ চ্যানেলে বালু তোলার ড্রেজারডুবির ঘটনায় চার শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করেছেন ডুবুরি ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।
আজ বুধবার বেলা ১০টার দিকে মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিনহাজুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মঙ্গলবার একজন ও বুধবার তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
যাদের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে তারা হলেন- আল আমিন (২৫), মাহমুদ মোল্লা (৩২) , জাহিদ ফকির (২৮) ও ইমাম মোল্লা (৩২)। এ ঘটনায় নিখোঁজ শ্রমিকরা হলেন- শাহিন মোল্লা (৩৮), তারেক মোল্লা (২২), বাসার হাওলাদার (৩৫) ও আলম সরদার (৩২)। তাদের বাড়ি পটুয়াখালী সদর উপজেলার চর জৈনকাঠী গ্রামে।
ড্রেজারটি থেকে বেঁচে ফেরা শ্রমিক মো. সালাম জানান, ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে তীব্র বাতাস ও ঢেউয়ের কারণে গত সোমবার রাতে মিরসরাই উপকূলের সন্দ্বীপ চ্যানেলে ড্রেজারটি ডুবে যায়।
ড্রেজারটিতে থাকা ৯ শ্রমিকের মধ্যে তিনি কিনারে আসতে পারলেও বাকি ৮ শ্রমিক আটকা পড়েন। ড্রেজারটি সৈকত এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের।
এ ঘটনায় পটুয়াখালীর জৈনকাঠী গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। বুধবার সাংবাদিকদের দেখে শাহিন মোল্লা ও ইমাম মোল্লার মা হাসিনা বেগম কান্নায় ভেঙে পড়েন।
তার সঙ্গে শাহিনের ছোট্ট তিন সন্তান ও তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী খাদিজা বেগমের কান্নায় সবার চোখে পানি চলে আসে। হাসিনা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলে দীর্ঘদিন ধরে ওই ট্রেজারের শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।
কোরবানির আগে বাড়িতে এসেছিল। কোরবানির দুইদিন পর বড় ছেলে শাহিন মিরসরাইয়ে চলে যায়। বাড়ির কাজকর্ম শেষ করে ছোট ছেলে ইমাম ওই ড্রেজারে কাজে যায়। ছোট ছেলে বিয়ে করেছেন কোরবানি পর। তার বউ বাবার বাড়ি থেকে তুলে আনা হয়নি। তার আগেই আমার ছোট বলে মারা গেল।’
একই বাড়ির মাহমুদ মোল্লার মা মনোয়ারা বেগম ও তারেক মোল্লার মা সাহিদা বেগমও কান্নায় ভেঙে পড়েন। মনোয়ারা বেগম জানান, তার পাঁচ সন্তানের মধ্যে মাহমুদ ওই ড্রেজারে কাজ করতে। আর মাহমুদ ও তারেক চাচাতো ভাই।
তারেক মোল্লার বাবা আব্দুর রহমান জানান, ঝড় শুরুর আগে তীরে জাইতে চাইছিল তারা। কিন্তু চাকরির হারানোর ভয়ে কিনারায় যেতে পারেনি। পরিবারের একমাত্র কর্মক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন আব্দুর রহমান। অপরদিকে, আল-আমিন হাওলাদার, বাসার হাওলাদার, জাহিদ ফকির ও আলম সরদারের বাড়িতেও চলছে শোকের মাতম।
শিরোনামদেশের খবর