২৪শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার

জামায়াত বিএনপির সাথে সখ্যতা গড়ে আ’লীগ ধাওয়ায় ছবি চেয়ারম্যান!

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০১:০১ অপরাহ্ণ, ১৮ অক্টোবর ২০১৭

সদর উপজেলা আ’লীগের সভাপতি মনিরুল ইসলাম ছবি স্থানীয় আ’লীগের বিরোধী দল হিসেবে কাজ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিএনপি নেতাদের সাথে ভাগবাটোয়ারা, বন্দর থানা পুলিশকে বিশেষ লক্ষ্যে ব্যবহার করা, আ’লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা-হামলা চালিয়ে হয়রানি করা, সাংবাদিককে খুনের প্রকাশ্য ঘোষণা প্রদানের অভিযোগ রয়েছে বির্তকিত এই নেতার বিরুদ্ধে। স্থানীয় আ’লীগ থেকে দফায় দফায় বিষয়গুলো জানানো হলেও জেলা কমিটি কার্যকর কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না।

সর্বশেষ কমিটিতে উপজেলা আ’লীগের সভাপতির দায়িত্ব পাবার পরপরই নিজ দলীয় নেতাদের মাঝে আতঙ্ক হয়ে দাড়িয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে সদর উপজেলা আ’লীগের সাংগঠনিক নেতৃবৃন্দ। তারা বলছেন, ছবির ভয়ে আ’লীগ নেতারা কথা বলতে পারছেন না।
অভিযোগ রয়েছে- নিজে আ’লীগের নেতৃত্ব দিলেও বিএনপি-ইসলামি শাসনতন্ত্র আন্দোলনের নেতাদের নিয়েই মূলত ওই উপজেলায় আলাদা সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। অর্থ আয় হবে এমন কোন উৎস হলে সেখানে তার ওই বিএনপি-ইসলামি শাসনতন্ত্র আন্দোলনের নেতাদের দায়িত্ব দিয়ে থাকেন। এর কারণ হচ্ছে- একদিকে বিরোধীদলকে ধরে রাখা। দ্বিতীয়ত নেতৃত্ব দখলে রাখা।

বাস মালিক সমিতির সাবেক এক বিএনপি নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ছবি চেয়ারম্যান সদর উপজেলা বিএনপিরও নেতৃত্ব দিয়ে থাকেন। তিনি বিএনপি জামায়াত ও শাসনতন্ত্র আন্দোলনের নেতাদের সাথে লিয়াজো করে চলছেন। তিনি আ’লীগ বা বিএনপি নেতাকর্মীদের সমান চোখে দেখেন।

ওই নেতা আরও বলেন, তিনি বিএনপি নেতাদের হাতে নেতৃত্ব দেন কারণ সব কথায়ই ওই নেতারা ছবির সিদ্ধান্ত মেনে নেয়। অথচ আ’লীগ নেতাদের সাথে সাপে-নেউলে সম্পর্ক তৈরী করে রেখেছেন তিনি। সম্প্রতি চাদপুরা ইউনিয়ন আ’লীগ নিয়ে প্রকাশ্য বিভাজনের সৃষ্টি হয়। ওই বিভাজন মিটিয়ে দেবার জন্য জেলা সভাপতি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ ছবি চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব দেন। চাদপুরার নেতাদের দাবি, হাসানাত আব্দুল্লাহর নির্দেশ না মেনে এক পক্ষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে বিবাদ মিমাংসা না করে জিইয়ে রেখেছেন।

এ বিষয় নিয়ে তার কাছে কেউ গেলে মামলা কারার পরামর্শ দেন বলে জানা গেছে। আ’লীগের এমন বিবাদ চলমান থাকায় চাদপুরায় মাথাচড়া দিচ্ছে জামায়াতের কর্মকান্ড। যদিও তিনি আ’লীগ নেতা। তবে ২০১৪ সালে চরকাউয়া ইউনিয়নের তার বিরোধী শিবিরের আ’লীগ নেতাদের তাড়িয়ে দখলে নেন চরকাউয়া বাস মালিক সমিতি।

খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে- সাবেক কমিটির নেতৃবৃন্দকে তাড়িয়ে ২০১৪ সালের ১০ এপ্রিল বাসস্ট্যান্ড দখলে নেন মনিরুল ইসলাম ছবি। এরপরপরই বেড়িয়ে আসে তার প্রকৃত চেহারা। চরকাউয়া বাসমালিক সমিতির নতুন কমিটি গঠন করেন নিজের মত করে সাজিয়ে। ১১ সদস্যের ওই কমিটিতে নিজেসহ মাত্র চারজন আ’লীগ নেতা হলেও বাকি ৭ জনই হচ্ছেন বিএনপির পদধারী নেতা।

এমনকি মহানগর আ’লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট একেএম জাহাঙ্গীর ওই স্ট্যান্ডের সাবেক কমিটির সভাপতি হলেও তাদের কোনরুপ অনুমোদন সাক্ষর ছাড়াই নতুন কমটির ঘোষণা দেন ছবি।

ছবির গঠিত চরকাউয়া বাস মালিক সমিতির বর্তমান কমিটির পদধারী বিএনপির ৭ নেতা হলেন, টুঙ্গিবাড়িয়া যুবদল নেতা শাহনি মুন্সি। যাকে দেয়া হয়েছে বাস মালিক সমিতির কোষাধ্যক্ষর পদ। টুঙ্গিবাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক খান নূরুল ইসলাম রয়েছেন বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদকের পদে। চরমোনাই ইউনিয়ন বিএনপি নেতা নিজামকে করা হয়েছে লাইন সেক্রেটারী। চরকাউয়া ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শাহাদাতকে দেয়া হয়েছে বাস মালিক সমিতির সহ-সভাপতির দায়িত্ব।

একইসাথে স্থানীয় বিএনপি নেতা আব্দুর রব, ইসলামি শাসনতন্ত্র আন্দোলনের নেতা ফরহাদ ও বিএনপি নেতা ফরিদ রয়েছেন বাস মালিক সমিতির সদস্য পদে।

মহানগর আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট একেএম জাহাঙ্গীর সাংবাদিকদের বলেন, মনিরুল ইসলাম ছবির গঠিত বাস মালিক সমিতির কমিটি শতভাগ বিএনপি নিয়ে গঠিত। বলা চলে ওটা বিএনপির কমিটি। অভিযোগ রয়েছে, বাসমালিক সমিতির মাধ্যমে যে আয় হয় সেই অর্থের বৃহৎ অংশ নিজে আয়ত্ব করলেও বাকি টাকা মালিক সমিতির অজুহাতে এসব বিএনপি নেতাদের মাধ্যমে উপজেলা বিএনপির কোষাগারে পৌছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বর্তমান বাসমালিক সমিতির দায়িত্বশীল পদে থাকা একজন বিএনপি নেতা বলেন, ছবি ভাই না থাকলে সদর উপজেলা বিএনপির নেতাদের খুঁজে পাওয়া যেত না। হয়তো তিনি সরাসরি কিছু করতে পারছেন না তবে আমাদের ধরে রেখেছেন।
যদিও বিষযগুলো সরাসরি অস্বীকার করেছেন মনিরুল ইসলাম ছবি। তিনি দাবি করেছেন, যেসব অভিযােগ তোলা হয়েছে তা সম্পূর্ণরুপে অসত্য। তিনি বংশ পরম্পরায় আ’লীগের হয়ে কাজ করে আসছেন এবং তারই প্রতিফলনস্বরুপ সদর উপজেলা আ’লীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন।

বিএনপি-ইসলামি শাসনতন্ত্র আন্দোলনের নেতাদের সাথে মিলে নিজ দলীয় নেতাদের বিরুদ্ধে কাজ করা, এমন প্রশ্নে জবাব ছবি বলেন, এসব তথ্য মোটেই ঠিক নয়। তিনি সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহে সর্তক হবার পরামর্শ দেন।

এ বিষয়ে জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস সাংবাদিকদের বলেন- তার সম্পর্কে এখনো লিখিত কোন অভিযোগ আমাদের হাতে এসে পৌঁছেনি বলে আমারা কিছু বলতে পারছি না। অভিযোগ পেলে খোঁজখবর নিয়ে সত্যতা পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’’

5 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন