২৪শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার

জৌলুস হারাচ্ছে সাগরকন্যা

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১০:৩৫ অপরাহ্ণ, ০৭ জুলাই ২০১৭

বিশ্বের অন্যতম ভ্রমন স্পট সাগরকন্যা খ্যাত কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত। পর্যটক, দর্শনার্থীর কাছে খুবই আকর্ষণীয় এ সৈকত। অথচ সৈকত জুড়ে ময়লা আবর্জনার স্তূপ এখন ভ্রমণ বিলাসীদের জন্য বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে দীর্ঘ সৈকত যেন ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। এসব আবর্জনা অপসারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রয়েছেন চরম উদাসীন। ফলে দিনকে দিন সৈকতের পরিবেশ হয়ে পড়েছে ভারসাম্যহীন।

সরেজমিনে কুয়াকাটা সৈকতের জিরো পয়েন্ট পেরিয়ে সামনের বালুচরে পা দিতেই চোখে পড়ে ময়লা আবর্জনার স্তূপ। সাগর থেকে ঢেউয়ের সাথে ভেসে আসা প্লাস্টিকের বোতল, মাছের বর্জ্য, বনের ফলমূল, সামুদ্রিক বর্জ্যে একাকার হয়ে আছে দীর্ঘ বেলাভূমি। সৈকতে পড়ে আছে বিভিন্ন ধরনের কোমল পানির খালি বোতল, ডাবের খোসা, সিগারেটের প্যাকেট ও অব্যবহৃত অংশ, বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্যের প্যাকেট, পলিথিন। মাছ ধরার নৌকার মেরামত কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন আবর্জনা। সেই সাথে পর্যটকদের ফেলে রাখা ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার না করার কারণে চারিদিকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।

সৈকতের প্রবেশদ্বারে খোলামেলা বসানো হয়েছে শুঁটকির হাট। ফলে দুর্গন্ধে নাক চেপে পর্যটক দর্শনার্থীকে বেলাভূমিতে প্রবেশ করতে হয়। সৈকতের ব্যবসায়ী ও জেলেরা পর্যটকদের ভ্রমণের সর্বোচ্চ পছন্দনীয় জায়গা সৈকতের স্পটকে নোংরা বানিয়েছে। বীচের সর্বত্র খুটা পুঁতে রাখা হয়েছে। এছাড়া কুয়াকাটা সৈকতের বালুচরসহ সৈকতের নারিকেল বাগান, ঝাউ বাগানের আশ পাশে মল-মূত্র ত্যাগ করার ফলে গোটা সৈকত জুড়ে অসহনীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। খালি পায়ে সৈকতে হাঁটতে পর্যন্ত পারছে না। সৈকতে যাওয়ার প্রধান সড়কটির পূর্ব পাশে ময়লা আবর্জনা ফেলার কারণে হাটার মতো অবস্থা নেই। ময়লা আবর্জনা পঁচে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে চারদিকে। সৈকতের পশ্চিম দিকে লেবুরবন, পূর্বদিকে ইকোপার্ক এবং গঙ্গমতি রিজার্ভ ফরেস্ট সংলগ্ন আকর্ষণীয় পয়েন্ট গুলো একই অবস্থা।

কুয়াকাটা সৈকতে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের বিরল দৃশ্য অবলোকনের জন্য ছুটে আসে দেশি বিদেশী পর্যটকরা। কুয়াকাটা বেড়াতে আসা পর্যটক-দর্শনার্থীরা লেম্বুচর, গঙ্গামতি ও কুয়াকাটার বেলাভূমিতে ঘুরে বেড়ায়। উপভোগ করে বনের সৌন্দর্য মণ্ডিত ছায়া ঘেরা দৃশ্য। যেখানে মাছসহ কাঁকড়া ফ্রাই করে খাওয়ার সুযোগ রয়েছে। সবুজ অরণ্যের কোল ঘেঁষে গড়ে উঠেছে অস্থায়ী দোকানপাট। অথচ মনোরম এ সৈকত সুরক্ষায় পর্যটন কর্পোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নেই কোনো উদ্যোগ।

ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা সামিউল হক সনি বলেন, পর্যটকদের ঘুরে বেড়ানোর জন্য সৈকত থাকবে পরিপাটি। অথচ দেখলাম উল্টো চিত্র। সৈকতে ইটের বড় বড় খোয়া, বিভিন্ন স্থাপনা অংশ বিশেষ। এত সুন্দর সৈকতটি রক্ষায় পর্যটন কর্পোরেশনের কোনো ভূমিকা আছে বলে মনে হয় না। কুয়াকাটা সৈকতের রক্ষনা-বেক্ষণের জন্য কুয়াকাটা বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি রয়েছে।

এ ব্যাপারে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কুয়াকাটা সি বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য এবিএম সাদিকুর রহমান বলেন, যে সময় মিটিং হয় ওই সময় বীচ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার কথা আলোচনা করি। কিন্তু এর দায়িত্ব রয়েছে কুয়াকাটা পৌর কর্তৃপক্ষের।

কুয়াকাটা পৌর মেয়র আব্দুল বারেক মোল্লা সাংবাদিকদের বলেন, সি বীচ পরিচ্ছন্ন করা হয় না এটি ঠিক নয়, তবে এটি নিয়মিত করার ব্যাপারে ভাবছি।

8 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন