২৯শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার

ট্রাক ড্রাইভার আল-আমিনকে হত্যাকরে রড ছিনতাই: ছিনতাইকৃত রড ক্রেতা ধরা ছোয়ার বাইরে

বরিশালটাইমস, ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৬:৫৯ অপরাহ্ণ, ২৫ এপ্রিল ২০২৪

মোঃ জসীম উদ্দিন, বাউফল: ট্রাক ড্রাইভার আল-আমিন (৩৩) কে হত্যা করে ট্রাকে থাকা একেএস কোম্পানির রড ছিনতাই করার ঘটনায় পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার দাসপাড়া বাসষ্ট্যান্ড এলাকার প্রভাবশালী ব্যবসায়ী মাসুদ রানাকে রহস্য জনক কারনে গ্রেফতার করেনি পুরিশ।

মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) রাতে বাউফলের দাসপাড়া বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাসুদ রানার একতা এন্টারপ্রাইজের গোডাউন থেকে ছিনতাইকৃত ১৩ মেট্রিকটন রডের প্রায় ৯ মেট্রিকটন রড বাউফল থানা পুলিশের সহায়তায় দশমিনা (হাজির হাট) নৌ পুলিশ ফাঁড়ি উদ্ধার করে।

তবে এ ঘটনায় পুলিশ একতা এন্টার প্রাইজের ম্যানেজার নান্নু মিয়া (৪৫), কর্মচারী দিলিপ (৫০) ম্যানেজার শাহাদুলকে (৪০) এবং দশমিনা উপজেলার ৬৯নং মধ্য জৌতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকও বিশিষ্ট ঠিকাদার মোঃ মজিবর রহমানকে আটক করলেও রহস্য জনক কারনে ছিনতাই কৃতরড উদ্ধারকৃত গোডাউনের মালিক মাসুদ রানাকে আটক করেনি পুলিশ।

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী মোঃ সবুজ মিয়া। উল্লেখ্য, গত ১৭ এপ্রিল চট্টগ্রামের আবুল খায়ের ইন্ডাট্রিজ এর কারাখানা থেকে ঢাকা মেট্রো-ট-১৬-৫১৩৮ নম্বরের একটি ট্রাক ১৩ মেট্রিকটন রড নিয়ে বাউফলের কালিশুরী বাজারের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়।

পরের দিন ১৮ এপ্রিল কালিশুড়ীর খান এন্টারপ্রাইজে রডগুলো আনলোড করার কথা। কিন্তু ১৮ এপ্রিল ট্রাকের ড্রাইভার আল-আমিনকে ফোন করে বন্ধ পান তার মামা ট্রাকের মালিক মো. সবুজ। ২০ এপ্রিল দশমিনার নদীতে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় অজ্ঞাত পরিচয়ের এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে দশমিনা নৌ পুলিশ।

পরে মামা সবুজ খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পারেন ওই লাশ তার ভাগ্নে আল-আমিনের। ময়নাতদন্ত শেষে আল আমিনের লাশ চাঁদপুরে নিয়ে দাফন করা হয়। এ ব্যাপারে দশমিনা থানায় অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন আল-আমিনের মামা সবুজ।

এরপরই ঘটনার রহস্য উদঘাটনে নামে পুলিশের একাধিক টিম। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দশমিনা নৌ পুলিশের এসআই আল-মামুন বলেন, ট্রাকের ড্রাইভার আল আমিনকে খুন করে ঘাতকরা রডগুলো কালাইয়া বাজারের একতা এন্টারপ্রাইজের মালিক মাসুদ রানার কাছে নগদ টাকায় বিক্রি করে দেয়।

মাসুদ রানা ওই রডগুলো গুদামে রেখে দেন। তদন্তের একপর্যায়ে নিশ্চিত হয়েই রডগুলো মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) রাতে ওই গুদাম থেকে জব্দ করা হয়। অপরদিকে রড পরিবহনের কাজে নিয়োজিত ট্রাকটি বাকেরগঞ্জের বোয়ালিয়া বাহাদুরপুর এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে দশমিনা (হাজির হাট) নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোঃ আখ-তার হোসেন বলেন,এ ঘটনায় ৪জনকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। বিষয়ে গুরুত্বের সাথে তদন্ত চলতেছে। অভিযুক্তদের আইন আমলে আনা হবে।

ছিনতাইকৃত রড ক্রয়ের ব্যাপারে মাসুদ রানা সাংবাদিকদের বলেন, আমি মজিবর নামের এক ঠিকাদারের কাছ থেকে রডগুলো ক্রয় করেছি। তিনি (মজিবর) আমার পূর্ব পরিচিত। রডগুলো ছিনতাইকৃত কিনা তা আমার জানা ছিল না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, আল আমিনকে পরিকল্পিতভাবে খুনের পর রড ছিনতাই করা হয়েছে।

আর ছিনতাইকৃত রড পাওয়া গেছে একতা এন্টারপ্রাইজে। সুতরাং একতা এন্টারপ্রাইজের মালিক মাসুদ রানা কোনো ভাবেই দায় এড়াতে পারেন না। বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শোনিত কুমার গায়েন বলেন, বিষয়টি দশমিনা থানার।

রড উদ্ধারের সময় আমরা সহযোগীতা করেছি মাত্র। এর বাইরে আর কিছুই বলতে পারছি না। এ প্রসঙ্গে পটুয়াখালীর পুলিশ সুপার মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, মামলার তদন্ত চলছে। তদন্তে যারা অপরাধী প্রমানিত হবে তাদের প্রত্যেকেই আইনের আওতায় আনা হবে।

635 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন