১৫ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার

তাঁরা বিজয়ের ফেরিওয়ালা

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০১:৩২ পূর্বাহ্ণ, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৬

বরিশাল: বরিশালের ফেরিওয়ালাদের কাছে এখন শুধু মিলছে লাল আর সবুজ রঙ। আকারে ছোট, বড়, মাঝারি, কিন্তু রং দুটোই। কারণ, ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলকে চেনা যায় যে পতাকায়, তার গায়ে তো এই দুই রঙেরই প্রলেপ। কাঁধে একটি বাঁশ নিয়ে নানা আকারের প্রিয় বাংলাদেশের পতাকা সাজিয়ে শহরময় বিক্রি করছেন ফেরিওয়ালারা। সব জায়গায় এখন পতাকা বিক্রির সমারোহ।

বিজয় দিবস সামনে রেখেই এই বিকিকিনির আয়োজন। প্রতিবছর বিজয়ের মাস ডিসেম্বর এলেই শুরু হয় পতাকা বিক্রির উৎসব। চলে বিজয় দিবস পর্যন্ত। পতাকার ফেরিওয়ালারা বিজয় দিবসের আগমনী বার্তা বহন করে আনে এই শহরের মানুষের কাছে। শহুরে ফেরিওয়ালারাই নয়, এই মৌসুমি ব্যবসায় অংশ নিতে ছুটে এসেছে দূর থেকেও কেউ কেউ। মাদারীপুরের শিবচরের বাঁশকান্দি প্রামের বাসিন্দা মো. হারুন অর রশিদ এমনই একজন। চার বছর ধরে প্রতিবছর এই সময়ে বরিশাল শহরে আসেন পেশায় কৃষিজীবী এই ব্যক্তি।

এ মাসের ৬ তারিখে তিনি বরিশালে এসেছেন। এবার তিন হাজার টাকার পতাকা নিয়েছেন। তার কাছে নানা আকারের পতাকা রয়েছে। সবচেয়ে বড় আকারের পতাকাটি তার কেনা ৬৫ টাকায়। আর ছোটটি কেনা পাঁচ টাকায়। সব মাপের পতাকাতেই দ্বিগুণ লাভ। বড় পতাকা বিক্রি করেন ১৫০, ছোটটি ১০ টাকায়। সোমবার বিকেল পর্যন্ত ৬হাজার টাকার পতাকা বিক্রি করেছেন।

বরিশাল নগরীতে হেঁটে হেঁটে পতাকা বিক্রি করেন হারুন। বিজয় দিবসের পরদিন ফিরে যাবেন নিজের গ্রামে। তবে তার কাছে এ কাজ শুধু ব্যবসা নয়। তার ভাষায়- ‘মনে হয় দ্যাশের ভালোর জন্য একটা কাজ করতাছি।’ অভাব অনটনের সংসার। অল্প কয়েকদিনের এই ব্যবসার টাকায় সংসার চলে না। তার পরও এই সময়টা আসলে মনটা কেমন করে, তাই কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ থেকে ছুটে আসেন পতাকা বিক্রেতা মো. খোকন হাওলাদার। তিনি ১০ বছর ধরে বিজয়ের মাস এলেই পতাকা বিক্রি করেন।
barisaltimes-160

তবে বরিশালে আসছেন এই তিন বছর ধরে। একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের পদস্থ কর্মকর্তা আহসান হাবিব তিন সন্তানের জন্য ছোট আকারের তিনটি পতাকা কিনছিলেন নগরীর বিবির পুকুরের পাড় থেকে। প্রতিবছর এ সময় তার সন্তানদের পতাকা চাই-ই চাই। বিজয় দিবসের দিন সন্তানদের নিয়ে যখন বেরোবেন, সবার হাতে থাকবে পতাকা। আহসানের বাবা মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন।

সঙ্গত কারণে তিনি চান তার সন্তানেরা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কে জানুক। এই পতাকা ওদের উদ্দীপ্ত করবে গর্বের ইতিহাস জানতে। বরিশাল সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদের  সভাপতি সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শান্তি দাস পতাকা বিক্রির এই প্রবণতাকে ইতিবাচক মনে করেন।

তিনি বলেন, বছরের একটি-দুটি দিন নানা পেশা, বয়সের মানুষ পতাকা নিয়ে ঘোরে এটা আনন্দের বহিঃপ্রকাশ। তিনি আরও বলেন, ‘অন্তত জাতীয় জীবনের এসব গুরুত্বপূর্ণ দিনে রাজনৈতিক নেতারা তোরণ, পোস্টার, বিলবোর্ডে যেভাবে আত্মপ্রচারে মগ্ন থাকেন, তার চেয়ে ঢের ভালো সাধারণ মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ততা।’

10 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন