২৯শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার

তিন যুগ পর বাড়ি ফিরেছেন মঠবাড়িয়ার নুরুল ইসলাম

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৮:০৮ অপরাহ্ণ, ১৮ জুলাই ২০১৭

কাজ করতে হবে, সঙ্গে পড়াশোনাও চালিয়ে যেতে পারবে। পিরোজপুরের হলতা গ্রামের নুরুল ইসলামকে এ কথা বলেই বাড়ি থেকে ঢাকায় নিয়ে গিয়েছিলেন স্থানীয় এক ব্যক্তি। ঢাকায় নিয়ে গেলেও পড়াশোনা দূরে থাক, তাঁর ওপর চালানো হয় নির্যাতন। আর এ নির্যাতন সহ্য না করতে পেরে পালিয়েছিলেন। এরপর দীর্ঘ ৩৫ বছর পরে বাড়ি ফিরেছেন মায়ের কাছে।

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার উত্তর হলতা গ্রামের নুরুল ইসলাম (৪৬) মৃত ইম্মাত আলীর ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ইম্মাত আলীর চার সন্তানের মধ্যে নুরুল ইসলাম বড়। ১০ বছর বয়সে তাঁর বাবা মারা যান। চার সন্তান নিয়ে মা প্রায়ই না খেয়ে থাকতেন। ১৯৮২ সালে এক আইনজীবী বাড়িতে কাজ করার পাশাপাশি লেখাপড়া করানোর কথা বলে নুরুল ইসলামকে ঢাকায় নিয়ে যায়। তবে তাঁকে পড়াশোনা না করিয়ে কাজ করানো হতো। বাড়ির লোকজনের নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে ১৮ মাস পরে নুরুল ওই বাড়ি থেকে পালিয়ে যান।

ছেলে নুরুল দীর্ঘদিন ধরে বাড়িতে না আসায় মা রিজিয়া বেগম নিজেই চলে যান ছেলেকে নিয়ে যাওয়া সেই আইনজীবীর ঢাকার বাসায়। তাঁরা জানান, তাঁর ছেলে বাসা থেকে পালিয়ে গেছেন। তখন মা কান্নাকাটি করতে থাকলে বকাঝকা করে তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দেন ওই আইনজীবী। তিনি আইনজীবীর স্থানীয় আত্মীয়স্বজনের কাছেও অনেকবার ধরনা দিয়েছেন। কিন্তু এর জন্য তাঁকে নিগ্রহের শিকার হতে হয়েছে, পেয়েছেন হুমকি। একপর্যায়ে ছেলের আশা ছেড়েই দেন এই মা।

কিশোর নুরুল ঢাকায় বসে থাকেননি। তিনি পানি ও সেদ্ধ ডিম বিক্রি করে ফুটপাতে থাকতেন। এর মধ্যে তাঁর পরিচয় হয় চট্টগ্রামের এক সরকারি চাকরিজীবী মো. কবিরের সঙ্গে। বাসায় কাজ করার জন্য তিনি নুরুলকে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ নিয়ে যান। সেখানে কাজ করার আট বছর পর স্থানীয় ঝর্ণা আকতার নামের এক নারীকে বিয়ে করে সংসার শুরু করেন তিনি। সেখানে তাঁদের দুই সন্তান হয়। বিয়ের পর বাড়িতে ফিরতে চাইলেও স্ত্রী বাধা দিতেন। দুই বছর আগে সন্তানদের নিয়ে স্ত্রী নুরুল ইসলামকে ছেড়ে চলে যান। এরপর তিনি বিভিন্ন স্থানে ঘুরে একপর্যায়ে গত বৃহস্পতিবার নিজ গ্রামে চাচার বাড়িতে ফিরে আসেন।

হারানো ছেলেকে ফিরে পেয়ে মা রিজিয়া বেগম (৭৫) ভীষণ খুশি। তিনি বলেন, ‘আমি ছোট ছেলের কাছে ঢাকায় ছিলাম। ছেলে ফিরে আসার খবর পেয়ে পরদিনই চলে আসি। ৩৫ বছর পর হলেও আমার কাছে মনে হয়েছে যেন সেই শিশু নুরুল ফিরে এসেছে। এখন নাতিদের দেখতে ইচ্ছে করছে। ওদেরও বাড়ি নিয়ে আসতে চাই।’

নুরুল ইসলাম বলেন, ‘গৃহকর্তার নির্যাতনে পালিয়ে ছিলাম। এরপর পথ হারিয়ে আর বাড়ি ফেরা হয়নি। তবে থানা ও গ্রামের নাম মনে ছিল।’
মা ও ভাইদের নিয়ে আবার নতুন জীবন শুরু করতে চান। নুরুল ইসলামের বাড়ি ফেরার খবরে তাঁর বাড়িতে ভিড় করছে উৎসুক গ্রামবাসী।
মঠবাড়িয়ার গুলিশাখালী ইউনিয়নে (ইউপি) নুরুল ইসলামের গ্রাম গুলিশাখালী। ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াজুল আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘এত দিন পর ছেলেকে ফিরে পাওয়া এ পরিবারের জন্য বড় পাওয়া। এদের কোনো সহযোগিতার দরকার হলে আমর করব।’’

6 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন