২৪শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার

তীব্র গরমে বেড়েছে তালশাঁসের কদর

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০১:৪৮ অপরাহ্ণ, ২৩ মে ২০২১

তীব্র গরমে বেড়েছে তালশাঁসের কদর

বরগুনা প্রতিনিধি >> জ্যৈষ্ঠের মধু মাসের নানান রকম বাহারী সব ফলের পাশাপাশি বরগুনার বেতাগী উপজেলার ছোট বড় বাজার গুলোতে উঠেছে কচি তাল। প্রথম অবস্থায় কচি তালের শাঁসের কদর বেশি হওয়ায় দাম কিছুটা বেশি। প্রতিটি তালের পিচ বিক্রি হচ্ছে ৫টাকায়। সে হিসাবে এক কাদি কচি তাল বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। এ অবস্থায় কচি এই মিষ্টি মধুর তালের শাঁসের স্বাদ নিতে পারছে না অনেকে।

সারাদেশের ন্যায় বেতাগীতেও চলছে করোনায় দ্বিতীয় সংক্রমণ। তবুও সময়ের চাহিদায় থেমে নেই মৌসুমী ফলের বাজার। ইতোমধ্যে উপজেলার প্রায় প্রতিটি গ্রামের তালগাছ গুলোতে কচি তালে ভরে গেছে। প্রতি বছর এই মৌসুমে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার, বাসস্ট্যান্ডগুলোতে এবং অলিতে গলিতে তালের শাঁস বিক্রি করে  অনেক হত দরিদ্র মানুষ জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। তালের শাঁস যেমন সুস্বাদু তেমনই পুষ্টিগুণেও সেরা। শুধু গ্রীষ্মকালেই বাজারে কচি তাল দেখতে পাওয়া যায়। মধু মাসের এ ফলকে কেউ বলে তালের শাঁস, কেউ বলে তালের চোখ, কেউ বলে তালের আটি। জ্যৈষ্ঠের এ মধু মাসে বাজারে নানা ফল উঠলেও সব জায়গায় জনপ্রিয় এখন তালের শাঁস।

গ্রীষ্মের এই দিনে তালের শাঁস খুবই জনপ্রিয় একটি খাবার। পাকা তালের পূর্ব অবস্থাটির নামই হলো তালের শাঁস। এর নরম কচি শাঁস খেতে সুস্বাদু হওয়ায় বর্তমানে এর চাহিদা অনেক বেড়েছে। একজন বিক্রেতা শাঁস কেটে তুলতে তুলতে আরো অনেক ক্রেতারা দড়িয়ে থাকে শাঁস নেবার জন্য। উপজেলার প্রায় প্রতিটি গ্রামেই তাল গাছ রয়েছে। তাবে কৃষি বিভাগে এর কোন পরিসংখ্যান নেই। তালের শাঁস অতি সু স্বাদু হওয়ায় সকল শ্রেণীর মানুষের মাঝে তালের শাঁস একটি জনপ্রিয় ফল।

বেতাগী পৌর বাজারে তালের শাঁস বিক্রেতা শহিদ হাওলাদার জানান, তিনি প্রতিবছরই এ সময়ে তালের শাঁস বিক্রি করে সংসার চালান। গ্রাম অঞ্চলে ঘুরে ঘুরে তাল ক্রয় করে গাছ থেকে পেড়ে এনে শাঁস বিক্রি করেন। বৈশাখ মাস থেকে জ্যৈষ্ঠের অর্ধেক পর্যন্ত এ দেড় মাস চলবে তালের শাঁস বিক্রির কাজ।

আরেক বিক্রেতা জালাল উদ্দিন জানান, প্রচণ্ড গরম থাকায় তালের শাঁসের চাহিদা এখন অনেক বেশি। প্রতিটি তালের পিচ বিক্রি হচ্ছে ৫ বিক্রি করা হয়ে থাকে।বপ্রতিদিন প্রায় ২শ থেকে ৪শ শাঁস বিক্রি করা যায়।  এতে তার প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা লাভ হয়।

বেতাগী পৌর বাজারে তালের শাঁস কিনতে আসা শফিকুল ইসলাম বলেন, তালের শাস একটি সুস্বাদু ফল। গরম থেকে এসে তালের শাস খেতে ভালই লাগে। ফলে এর চাহিদা অনেক। কালের বিবর্তনে এই উপজেলার বিভিন্ন এলাকার তাল গাছ দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। এক সময় মানুষ সখ করে বাড়ির পাশে কিংবা রাস্তার ধারে তালের বীজ বোপন করতো কিন্তু এখন আর তা চোখে পড়ে না।

বেতাগী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তা তেন মং  বলেন, তালের শাঁস শরীরের জন্য খুবই উপকারী একটি ফল। গরমের দিনে তালের শাঁসে থাকা জলীয় অংশ পানি শূন্যতা দুর করে। এছাড়া ক্যালসিয়াম, ভিটামিন সি,এ,বি কমপ্লেক্স সহ নানা ধরনের ভিটামিন রয়েছে। তালে থাকা এন্টি অক্সিডেন্ট শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। কচি তালের শাঁস রক্তশূন্যতা দুর করে। চোখের দৃষ্টি শক্তি ও মুখের রুচি বাড়াতে সাহায্য করে।

12 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন