১৩ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার

দরিদ্র বাবা 

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৫:৪৯ অপরাহ্ণ, ০৪ অক্টোবর ২০২১

দরিদ্র বাবা

।।ফারহান ইসলাম সোহেল।।
ব্যাস্ত শহরের মাঝে ব্যাস্ত আমি,
ক্লান্ত দেহের ক্লান্ত মনে থাকি।
সারাদিনের কঠোর রোদের তাপে,
বৃষ্টি মাঝেও আয়ের জন্য যাই ভিজে।
ছোট্ট একটা সংসার আমার গড়ি,
তাদের প্রয়োজনে আমি পুড়ি।
শীতের সকালে ঠাণ্ডা হাওয়ায়,
কুয়াশাচ্ছন্ন আঁধার মাঝের রাস্তায়।
শিশির ভেজা কনকনে শীতের মাঝে,
পথ চলি ধরে কাজের গন্তব্যে।
সারাদিন রোদে পুড়ে,বৃষ্টিতে ভিজে,
কঠোর কাজে স্বল্প আয়ে।
ফিরে যাই ছোট্ট ঘরে স্বন্ধ্যা যখন নামে,
দুপুর বেলা হয়নি খাওয়া,
স্বল্প আয়ের এই বেলা।
ঘরে গিয়ে খাব বলে মিছে এই আশা নিয়ে,
দুপুর কাটে দু বিস্কুট বা এক রুটি খেয়ে।
সবার প্রয়োজন মিটাতে গিয়ে,
পরিবারের হাসি ফোটাতে।
নিজেকে রাখি কাজের মাঝে,
তবুও তাদের প্রয়োজন নাহি মিটে।
গায়ের জামা গেছে ছিড়ে বহুদিন আগে,
কিনতে গিয়ে মনে পরে ছোট্ট বাবুর খাবার লাগে।
ফিরে এসেছি জামা রেখে ছেড়াটা আরো চলবে বলে,
পায়ের জুতা নেই সেই কবে থেকে,
খালি পায়ে রোদের তাপে রাস্তায় গেলে,
কষ্ট পাই ভবজুরে কিনতে যাই তবে।
জুতা জোরা কিনতে গিয়ে,
অর্ধাঙ্গিনীর কাপড় লাগে।
জুতার চেয়ে কাপড় লাগে জরুরি,
জুতা রেখে কাপড় কিনি।
কবে থেকে অসুখ ধরেছে,
যাব এবার মেডিকেল ডাক্তার দেখাব বলে,
ডাক্তার এক ফর্দ লিখে যা দেখে চোখ কপালে উঠে।
ঘরের মধ্যে বাবা মা আছে শুয়ে,
তাদের যে নিয়মিত ওষুধ লাগে।
যদি যাই আমার ফর্দ নিয়ে পরীক্ষাগারে,
বহু টাকা দিতে হবে পরীক্ষানিরিক্ষাতে।
ফর্দ খানা কিরে ফেলে নিজেকে সুস্থ ভেবে,
বাবা-মায়ের জন্য ওষুধ নেই কিনে।
সকাল বেলার পানি ভাত খেয়ে,
দুপুরের রুটি হয়তোবা না জুটে।
রাত্রি কাটে তাদের সাথে একবেলা কব্জি খেয়ে,
এভাবেই দিন যায় রাত যায় পরিবারের হাসি ফোটাতে,
তবুও যেন কেউই সুখি না হয় প্রয়োজনের তাগিদে।
দিনের পর দিন রাতের পর রাত,
কত কষ্ট করেই করি পার,
বুঝতে দেইনা কভু তাদের,
কতকস্ট করে জীবন চলে।
আস্তে ধীরে চোখের জলে ভেসে বেড়াই তাদের মাঝে।
তবুও যেন তারা নাহি বুঝে কষ্ট কাকে বলে,
কোন একবেলায় ছুটে যাই সেথায়,
যেখান থেকে আর কেউই ফিরে নাহি আসে।
সারাজীবনের অক্লান্ত সাধন-
পারিবারের এক মায়ার বাধন,
রোদ বৃষ্টি ঠাণ্ডা হাওয়ার কনকনে শীত সবকিছুই বাধাহীন।
তবুও যেন না পাই তাদের মন-
এইতো ভবের দরিদ্র জীবন সীমাহীন।
8 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন