২০শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার

দুটি ভোল মাছের মূল্য সাড়ে ১৮ লাখ টাকা

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৯:২৩ অপরাহ্ণ, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

দুটি ভোল মাছের মূল্য সাড়ে ১৮ লাখ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল:: বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে ফারুক নামের এক জেলের জালে ধরা পড়েছে বিরল প্রজাতির সামুদ্রিক দাঁতিনা ভোল মাছ। ৬৩ কেজি ৫০০ গ্রাম ওজনের এ মাছ দুইটির মূল্য হাকা হয়েছে ১৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

সুন্দরবনের দুবলার চর থেকে শনিবার (২৫ ফেব্রয়ারি) সকালে মোংলা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের “মেসার্স জয়মনি ফিস” আড়ৎ মালিক আল আমিন এই মাছটি ক্রয় করে মোংলায় নিয়ে আসে। এসময় মাছ দুটি এক নজর দেখতে মোংলা মাছ বাজারের লোকজন ভিড় জমায়।

গত বছর অক্টোবরের প্রথম দিকে ৫ মাসের জন্য বঙ্গোপসাগরের দুবলার চরের আলোর কোল সহ ৫টি চারাঞ্চলে শুটকীর তৈরীর জন্য মাছ আহরণে যান মোংলার জয়মনির ঘোল এলাকার জেলে ফারুক হোসেন। শুরু থেকে মৌশুম এখন শেষ পর্যায়, তাই এতো দিন ফারুক হোসেন’র জালে তেমন কোন বড় মাছ না পেলেও বৃহস্পতিবার রাতে সাগরের গহীনে মাছ ধরতে গেলে তার জালে দুইটি বড় আকারের বিরল প্রজাতির দাতিনা ভোল মাছ ধরা পড়ে। শেষ রাতে সাগর থেকে এসে সেটি কিনারে নিয়ে সাগর পাড় দুবলার চরে মৎস্য আড়তে নিলামে উঠানো হয়। ওই নিলামে ২০ থেকে ২৫ জন দরদাতার মধ্যে সর্বোচ্চ দরদাতা মোংলা বাজারের মাছ ব্যাবসায়ী আল আমিন মাছ দুইটি ১৮ লাখ ৫০ হাজার টাকায় কিনে নেয়। তার মধ্যে বড় মাছটির ওজন ৩৬ কেজি ৫০০ গ্রাম, দাম হাকা হয় ১১ লাখ এবং ছোট আকারের মাছটির ওজন হয় ২৭ কেজি, দাম ধরা হয়েছে ৭ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। বিরল প্রজাতির সামদ্রিক এ মাছ দুটির প্রতি কেজি মাছের মূল্য পড়েছে ২৯ হাজার ১শ’ ৩৩ টাকা।

ব্যাবসায়ী আল আমিন মাছ দুটি সঠিক পদ্ধতীতে প্রসেসিং ও প্যাকেটজাত করে চট্রগ্রামের মাছের বড় বাজারে পাঠানো হয়েছে বলে জানায় “জয়মনি ফিস” আড়ৎ মালিকরা। তবে শুধু মাত্র মাছের মুল্য যে এতোটা তা নয়, এ মাছের মধ্যে বিশেষ ধরণের ফুলকী বা প্যাটা রয়েছে, যার মুল্য কেজি প্রতি প্রায় কয়েক লক্ষ টাকা। আর এধরণের মাছ যেমন দাতিনা, কইয়া ভোল, দাতিনা ভোল, লাল ভোল ও জাবা মাছের ফুলকী বহু মুল্যবান বলে জানায় মাছ ব্যাবসায়ীরা।

স্থানীয় ব্যাবসায়ীরা জানায়, সামুদ্রীক এ মাছগুলো সচারচার পাওয়া যায়না। ফারুক খুব ভাগ্যবান বলেই তার জালে মুল্যবান এ দাতিনা ভোল মাছ ধরা পরেছে। তাই এই মাছ দুটির দাম অনেক, দায়দেনা করে সাগরে মাছ ধরতে গেলেও এখন সকল দেনা পরিশোধ করতে পারবে বলে আশা স্থানীয়দের।

মোংলা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে ও মৎস্য সমবায় সমিতি সভাপতি মো. আফজাল ফরাজী সাংবাদিকদের বলেন, দাতিনা ভোল মাছটি এ অঞ্চলে খুবই কম পাওয়ায় যায়। মোাংরা পশুর নদী বা সুন্দরবন সংলগ্ন নদ-নদীতে আগে দুই-একটি মাছ পাওয়া গেলেও এখন কিছু জেলে সেজে দুর্বৃত্ত সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ মারার ফলে এদিকে এখন আর এ মাহ মুল্যবান মাছ পাওয়া যায় না। মূলত এ মাছের ফুলকী-প্যাটা ও বালিশের কারণে দাম প্রচুর বেশি। এই মাছের প্যাটা ও বালিশ বিদেশে রপ্তানী হয় এবং এ দিয়ে নাকি মেডিসিন তৈরি করা হয় বলে জানায় সমিতির এ নেতা।

দীর্ঘ ১০ বছরেও বিরল প্রজাতির দাতিনা ভোল মাছ মোংলা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র আসেনী। তবে দুবলার চর থেকে ক্রয় করা এ মাছ দুটি চট্রগ্রামে আরো বেশী দামে বিক্রি হবে বলে আশা ব্যাবসায়ীদের।’

20 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন