১২ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার

নলছিটি পুলিশের বর্বরতার শিকার শিশু

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৭:১২ অপরাহ্ণ, ২৬ অক্টোবর ২০১৬

বরিশাল: এবার দুই শিশু শিক্ষার্থীকে দিনভর থানায় আটকে অমানুষিক নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে নলছিটি থানা পুলিশের বিরুদ্ধে। থানা পুলিশের এমন বর্বরতার খবর ফাঁস হয়ে যাওয়ায় এলাকায় তোলপাড় অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে স্থানীয় সচেতন মহল এই ঘটনায় ফুসে উঠে নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুলতান মাহমুদের শাস্তি দাবি জানিয়েছে। একই ঘটনায় এক স্কুলছাত্রের পিতা ওসির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট জেলা পুলিশ সুপার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর অভিযোগ দিয়েছেন বিষয়টি খতিয়ে দেখতে। ফলশ্র“তিতে বেকায়দায় পড়ে গেছেন নলছিটির থানার ওসি সুলতান মাহমুদ। এমতাবস্থায় নিজেকে রক্ষায় আদঘাট বেঁধে মাঠে নেমেছেন। এখন ক্ষমতাসীন দলীয় নেতাদের মধ্যস্ততায় বিষয়টি আপোষরফা করতে উদ্যোগী।

 

সেই সাথে দুই স্কুলছাত্রের পরিবারকে মামলায় জড়িয়ে দিতে হুমকি দেয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। কিন্তু নির্যাতনের শিকার স্কুল ছাত্রের পরিবার সিদ্ধান্তে অনঢ় থাকায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন ওসি সুলতান। কারণ স্কুলছাত্র সাব্বিরের (১৩) বিষয়টি আগেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মো. কামরুল হুদা জেনেছেন। এমনকি পুলিশের বর্বরতার খবর পেয়ে নিজে হাসপাতালে গত ২৩ অক্টোবর ছুটে গিয়ে তাকে দেখে এসেছেন। ফলে ওসি হয়রানি করার চেয়ে আপোষরফায় যেতে বেশি মাত্রায় আগ্রহ প্রকাশ করছে বলে নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ অক্টোবর সকাল ৯ টায় ৮ম শ্রেণির ছাত্র মো. সাব্বির ও একই ক্লাসের অপর ছাত্র মো. ইমরান মোল¬া বাইসাইকেলযোগে নলছিটি বালিকা বিদ্যালয়ে সামনে দিয়ে মাদরাসায় যাচ্ছিল। পথিমধ্যে থানা পুলিশের একটি দল তাদের আটক করে নিয়ে যায়। একপর্যায়ে ইভটিজিংয়ের অভিযোগ তুলে হাতকড়া পরিয়ে তাদের প্রথম দফা  বেধড়ক মারধর করে।

 

পরবর্তীতে থানা হাজতে আটকে একই অভিযোগ তুলে ওসি সুলতান মাহমুদও তাদের ওপর নির্মম নির্যাতন চালায়। সেই নির্যাতন সইতে না পাড়ায় উভয় শিশু আত্মচিৎকার আশেপাশের অনেক মানুষই শুনেছেন। এমনকি দুই শিক্ষার্থীকে দিনভর কোন খাবারও দেয়া হয়নি। এই ঘটনার পর সন্ধ্যায় নলছিটি ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মুফতি দেলোয়ার হোসেন মুচলেকা দিয়ে তাদের থানা থেকে ছাড়িয়ে নেন। পরবর্তীতে তাদের দুইজনকেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সে ভর্তি করা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা পেয়ে ইমরান সুস্থ হলেও সাব্বিরের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছেন সেখানকার চিকিৎসকরা। অধ্যক্ষের ভাষ্য হচ্ছে, অনেকটা নিরব প্রকৃতির ছাত্র সাব্বির ও ইমরান মোল¬া। তাদের বিরুদ্ধে মাদরাসায় কোন অভিযোগ নেই। অথচ পুলিশ কেন তাদেরকে আটকে এমন একটি অভিযোগে নির্যাতন করল তা বোধগম্য নয়। এমতাবস্থায় বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পুলিশের উচ্চ-মহলকে অনুরোধ জানিয়েছেন এই শিক্ষক।

 

তবে নির্যাতনের এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি সুলতান মাহমুদ বলছেন, বালিকা বিদ্যালয়ের সামনে বখাটেরা ছাত্রীদের প্রায়ই উত্ত্যক্ত করে। যেকারনে থানার একজন টিএসআই মর্যাদার কর্মকর্তাকে সকাল ৯ টা থেকে ১০ টা পর্যন্ত নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তারা দায়িত্ব পালনকালে এই দুই কিশোরকে নিয়ে আসলে সন্ধ্যায় অধ্যক্ষের সুপারিশে ছেড়ে দেয়া হয়। তবে ওসি থানা হেফাজতে রেখে খাবার না দেয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। এমতাবস্থায় সাব্বিরের বাবা জাহাঙ্গীর হোসেনের দেয়া অভিযোগে বলা হয়েছে ওসি অহেতুক ধরে নিয়ে তার ছেলেকে অমানুষিক নির্যাতন করেছে। এই ঘটনায় নলছিটিবাসী ক্ষুব্ধ। যে কারণে তার শাস্তি চেয়ে পুলিশের উচ্চমহলে অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু বিষ্ময়কর বিষয় হচ্ছে খোদ পুলিশ সুপার সুভাস চন্দ্র সাহাও এই বিষয়ে সাফাই গাইলেন ওসির পক্ষে। বললেন, ছেলেটি প্রকৃত পক্ষেই ইভটেজার। যে কারণে তাকে আটকে স্থানীয়রাও সহযোগিতা করেছিলো।

4 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন