২৯শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার

নারীদের কোমর নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ফেসবুকে সমালোচনার ঝড়, পত্রিকা বন্ধের দাবী

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৬:৫৩ অপরাহ্ণ, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৬

বরিশাল থেকে প্রকাশিত একটি পত্রিকার সংবাদ নিয়ে সমালোচনার ঝড় বইছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের ছবি তুলে ফেসবুকে দিলে তা নিয়ে শুরু হয় নানাজনের নানা মন্তব্য। অনেকে বিষোদগার করে পত্রিকাটি বন্ধের দাবী জানায়। ২৮ সেপ্টেম্বর আশিক খান নামক এক ফেসবুক ব্যবহারকারী বরিশাল জেলা প্রশাসন কর্তৃক পরিচালিত ইধৎরংধষ-চৎড়নষবস ্ চৎড়ংঢ়বপঃ পেজে একটি স্ট্যাটাস দেন। তা নিয়ে এ সমালোচনার ঝড় বয়ে যেতে থাকে। গ্র“পের মেম্বাররা জেলা প্রশাসকের হস্থক্ষেপ কামনা করেছেন। আর মহিলা পরিষদ বরিশালের সভাপতি রাবেয়া খাতুন বলেছেন, এ ধরনের সাংবাদিকতার প্রয়োজন আমাদের দেশে নেই। মেয়েদের পশ্চাৎ দেশের ছবি উদঘাটনের মত পত্রিকার নোংরামি প্রকাশ করে এরা কোন পত্রিকা নয়। যেহেতু ডিসি মহোদয়ের কাছে বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়েছে এখন তার সিদ্ধান্তের সাথে আমরা আছি। পাশাপাশি এই ব্যপারে মহিলা পরিষদ অবশ্যই পদক্ষেপ গ্রহনে সক্রিয় থাকবে।

মহিলা পরিষদ বরিশালের ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক প্রতীমা সরকার বলেন, নারীদের অবমাননা করে এধরনের সংবাদ যারা প্রকাশ করেছে আমি মনে করি সেই পত্রিকার রেজিস্ট্রেশন বাতিল করে দেয়া উচিত। এরাতো কোন পত্রিকা নয় বরংছ একটা এজেন্ডা নিয়ে মাঠে নেমেছে। যেহেতু ডিসি মহোদয়ের পেজে এই সমস্যাটি ফলাও করা হয়েছে এখন ডিসি মহোদয়ের কাছে অনুরোধ রাখবো যেন পত্রিকাটির বিরুদ্ধে মন্ত্রনালয়ে লিখিত পাঠিয়ে দাফতরিক ভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়।

উল্লেখ্য অংযরয় কযধহ নামক একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী সমস্যা ও সম্ভাবনা পেজে ২৮ সেপ্টেম্বর ১২টা ২৬ মিনিটে পত্রিকার ছবি পোস্ট করেন। তার স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, আর কতো? একটা দৈনিকের ফ্রন্ট পেইজে এই লিড নিউজ? মাননীয় ডি সি স্যার দরকার হয় নিউজ পড়বো না, কিন্তু দৃষ্টিকটু এমন কিছু দেখতে চাই না। [নিউজ:বিয়ের পর মেয়েদের……..]

এর পরপরই শুরু হয় সমালোচনার ঝড়। বির্তকিত পত্রিকা কির্তণখোলাকে ‘চটি পত্রিকা’ আখ্যা দিয়ে পত্রিকাটির বিরুদ্ধে গ্র“প মেম্বাররা তাদের অভিমত ব্যক্ত করা শুরু করেন।

জড়সবড় ঞধষঁশফবৎ লেখেন, চটি পেইজের এ্যাডমিন থেইকা নিউজ পেপারের সম্পাদক হইলে যা হয় আরকি। মানহীন এই পত্রিকা গুলো বন্ধ করা উচিত। এই সব ফাউল পত্রিকার জন্য গজায় আরে কিছু আতেল সাংঘাতিক।

জঁনধুধঃ জড়হু লেখেন, সাবধান সবাই ! এরপর আসছে একশিরার রোগীর অন্ডকোষ দেখতে কেমন তার ছবিসহ প্রতিবেদন।

চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য ঔধারবৎ ঔববিষ লেখেন, একজন সাংবাদিক হিসেবে বলছি, এই পত্রিকাটি বাইরের বিভাগের কেউ পেলে বরিশালের সম্মান আর কিছুই বাকি থাকবে না। একটা আঞ্চলিক পত্রিকা সেই অঞ্চলের দর্পণ। এই পত্রিকা বরিশালের জনগণের নোংরা রুচির ছবিই তুলে ধরছে। এই নিউজটা কোনোভাবেই তিন কলাম জায়গা পেতে পারে না। বড় জোড় সিঙ্গেল কলাম বক্স নিউজ হতে পারে। আর সবচেয়ে বড় আপত্তিকর হচ্ছে এই নিউজে যে ছবি ব্যবহার করা হয়েছে সেটা। পত্রিকায় চোখ বুলিয়ে বুঝলাম, কোন নিউজটা কোথায় বসানো উচিত, সাব-এডিটর এটা জানেন না। সবচেয়ে বড় কথা হলো, অতিরিক্ত বানান ভুল চোখে পড়ছে। এবং ন্যারেটিংয়ে এক শব্দ বারবার রিপিট হয়েছে। এই পত্রিকার এডিটর সম্ভবত সাংবাদিকতার চেয়ে বিজনেস নিয়ে বেশি মনযোগী। তাই পত্রিকার কাটতি বাড়াতে এই নিউজকে ছবিসহ ৩ কলাম করে প্রথম পেইজে বসানোকে প্রশ্রয় দিচ্ছেন। অথবা সাব-এডিটর আর পেইজ ডিজাইনার মিলে পেইজগুলো কোয়ার্ক ডিজাইন শেষ করার পর এডিটর সাহেব ডামি প্রিন্ট নিয়ে চেক করেন না। পত্রিকায় যারা কাজ করছেন, তারা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা’ বিভাগে পড়ে আসেন না। কিন্তু সাংবাদিকতায় ট্রেনিং ও কর্মশালা অংশগ্রহণ জরুরি। মফস্বলের পত্রিকা অফিস জাতীয় পত্রিকার বিশিষ্ট সাংবাদিকদের এবং সাংবাদিকতার অধ্যাপকদের এনে নিজেদের নতুন নিয়োগ দেওয়া রিপোর্টার ও সাব-এডিটরদের জন্য অন্তত শর্ট ট্রেনিং হলেও আয়োজন করতে হয়।

গাজী টিভির বার্তা সম্পাদক সাঈফ ইবনে রফিক লেখেন, ‘উনারা অনেক বড় সাংবাদিক। কমেন্ট করতে ভয় পাই।’

ডিসি পরিচালিত ‘সমস্যা ও সম্ভাবনা’ পেজে করা এই পোস্টে ৩০ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৩১৭ লাইক, ৪ টি শেয়ার ও কয়েক শ’ কমেন্ট করে দিয়ে পত্রিকার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানিয়েছে গ্র“প মেম্বাররা।

ওদিকে নারী আন্দোলন কর্মী, প্রবাসী লেখক ভায়লেট হালদার তার নিজস্ব ফেসবুক ওয়ালে লিখেছেন, ‘কীর্তনখোলা’ বরিশালের আঞ্চলিক দৈনিক। পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠার সংবাদ শিরোনাম ‘বিয়ের পর মেয়েদের কোমর মোটা হয় কেন?’ এটা সংবাদ!!! এ ধরণের সংবাদ পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠায় স্থান পায় কি করে? এসব পত্রিকার মালিক, সম্পাদক, বার্তা সম্পাদক কে বা কারা? কি উদ্দেশ্যে এসব পত্রিকা চলে? কারাই বা এর পাঠক? এসব দেখার কি কেউ নেই নাকি সবার রুচি একই স্তরে নেমে এসেছে? টাকা থাকলে পত্রিকার মালিক হওয়া যায়, সাংবাদিক পরিচয়পত্র পকেটে নিয়া ঘোরা যায়! কি বিচিত্র দেশ! বড় বড় জ্ঞানীগুনীজনের শহর বরিশাল, মহামানবদের দেহত্যাগের পরে বরিশালে বোধহয় আর মানুষের জন্ম হচ্ছে না, জন্ম নিচ্ছে আজব সব বিচিত্র প্রাণীরা। লজ্জিত আর অপমানিতবোধ করছি।

কবি তুহিন দাস লেখেন, জামাতী পত্রিকা।……দলের সঙ্গে রুচির ব্যাপারও থাকে। বাম পত্রিকা ভ্যানগার্ড নিশ্চয়ই এসব ছাপবে না। এ তো বিদেশী পত্রিকার পেজ নং থ্রিতে যেমন রমরমা গসিপ থাকে তেমন বিষয়। এসব পাঠক খুব খায়, কাটতি বাড়ে, আলোচিত হয় পত্রিকা।

এভাবে বিভিন্ন জনে বিভিন্নভাবে তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন। প্রসঙ্গত পত্রিকাটির নাম দৈনিক কীর্তণখোলা।

11 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন