৩৩ মিনিট আগের আপডেট রাত ৯:২০ ; বুধবার ; ডিসেম্বর ৮, ২০২১
EN Download App
Youtube google+ twitter facebook
×

নির্বাচনোত্তর সহিংসতায় উত্তপ্ত বাউফল

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট
৭:১৬ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৪, ২০২১

নির্বাচনোত্তর সহিংসতায় উত্তপ্ত বাউফল

বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি >> পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার নওমালা ইউনিয়নে গড়ে উঠা সংঘবদ্ধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী বাহিনীর বেপরোয়া চাঁদাবাজি, ঘর-বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে লুটপাট আতঙ্কে নির্ঘুম এলাকাবাসী। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এদের বিষয়ে অদৃশ্য কারণে নিরব থাকায় ক্রমেই চাঁদাবাজি-লুটপাটে সন্ত্রাসের রাম রাজত্ব কায়েম করে চলছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে এদের অত্যাচারের দিশেহারা নওমালা ইউনিয়নের শান্তিপ্রিয় মানুষ। এসব সন্ত্রাসী কর্তৃক ভয়ভীতি প্রদর্শন, হত্যার হুমকির কারনে কয়েকশ’ লোক ইতোমধ্যে এলাকাছাড়া হয়েছে। শতাধিক বাড়ি-ঘর-ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাঁদার দাবিতে তান্ডব চালিয়ে আসছে।

হামলার শিকার ভুক্তভোগী পরিবারসহ বিভিন্ন সূত্র বলছে, সংঘবদ্ধ এই বাহিনীর মাঠপর্যায়ের প্রধান সেনাপতি নিজবটকাজল গ্রামের মৃত রুস্তুম আলী মৃধার পুত্র কাবিল মৃধা। এলাকায় মাদক বাণিজ্য, ছিনতাই, ভাড়ায় সন্ত্রাসী কর্মকান্ড সহ নানা অন্যায়-অপকর্মের হোতা কাবিল মৃধার নেতৃত্বে রোমান মৃধা, কবির মৃধা, মামুন হাওলাদার, হাসান দফাদার, ইসমাইল মৃধা, জাকির ফকির, আমির ফকির, মোয়াবিন, সজিব গাজী, ফয়েজসহ ৩০/৪০ জনের সংঘবদ্ধ বাহিনী ওই ইউনিয়নে অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মোটরসাইকেল মহড়ায় জনমনে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে। আরও আগ থেকেই এদের অত্যাচার-নির্যাতনে অতিষ্ঠ ইউনিয়নবাসী। সংঘবদ্ধ এই অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা বাউফলের নওমালা ইউনিয়নে নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান কামাল হোসেন বিশ্বাসের আর্শিবাদপুষ্ঠ। এলাকায় পেশিশক্তির মাধ্যমে আধিপত্য বিস্তারে কামাল বিশ্বাস এহেন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আরেকদিকে স্থানীয় থানা পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে কালো টাকা ছড়িয়েছেন। ভোটের মাঠে সন্ত্রাসী কর্তৃক অস্ত্রের মহড়া দিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকের ওপর চড়াও হয়ে জনমনে ভীত কর পরিবেশ তৈরি করে তোলে। পাশাপাশি নৌকার প্রার্থী কামাল হোসেন বিশ্বাসের ভাই (জজ) নির্বাচনে ক্ষমতার অপপ্রয়োগ করেছেন বলে অভিযোগ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের। জজের ক্ষমতার অপপ্রয়োগে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের নানান কায়দায় হয়রানি করা হয়।

এমনকি বিজ্ঞ জজ রাজধানী ঢাকায় কামাল বিশ্বাসের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণার একটি আয়োজনও করেছিলেন। এরকম একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। অর্থাৎ নিজের ভাইকে জয়ী করতে যতসব ক্ষমতার অপপ্রয়োগ দরকার সবই তিনি করেছেন বলে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী এবং তাদের কর্মীদের অভিযোগ।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, চাঁদার দাবিতে নওমালা ইউনিয়নের অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা বেপরোয়া হয়ে মাঠ দাবড়িয়ে বেড়াচ্ছে। সাধারণ মানুষের ঘর-বাড়ি-ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অব্যাহত হামলা চালাচ্ছে। ঘর-বাড়ি জ্বালিয়ে দিচ্ছে। ইতোমধ্যে শতাধিক ঘর-বাড়ি-ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা করে ভাঙচুরের তান্ডবলীলা চালিয়েছে। চাঁদার দাবিতে সাধারণ মানুষকে অব্যাহত হুমকি দিচ্ছে। নির্ধারিত চাঁদার টাকা দিতে অপরগতা প্রকাশ করলে তার আর নিস্তার নেই। এই সন্ত্রাসীরা সাধারণ মানুষকে নির্যাতন চালিয়ে আসছে। নগরের হাটে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো: শাহজাদা হাওলাদার, আঃ খালেক মৃধা (মধু মৃধা), বেল্লাল মল্লিক, ইউনুস বিশ্বাস (মাস্টার), রিয়াজ হাওলাদার (মাস্টার), মোঃ মজিবুর হাওলাদার ও তার ভাই জামাল হাওলাদারের বাসা-বাড়িতে হামলা চালিয়ে লন্ডভন্ড করে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা। আমির হোসেন, মশিউরের দোকান, জাহাঙ্গীরের ভাতের হোটেল, আকবরের চায়ের দোকান, রহিমের ভাতের হোটেলসহ কালাইয়া লোহালীয়া রোর্ডের দুই পাশের অর্ধশতাধিক দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাট করে। ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোতালেব চৌকিদারের কাছে তিন লাখ টাকা দাবি করে কাবিল বাহিনী।

অপরদিকে, গত বৃহস্পতিবার (১৮ নভেম্বর) বেলা ১১টায় ফের মোতালেব চৌকিদারের বাড়িতে গিয়ে সন্ত্রাসী চক্রের সদস্যরা এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদাবাজরা হলো- নিজবটকাজল গ্রামের ৪ নং ওয়ার্ডের রফিজ খানের পুত্র ইব্রাহিম, বটকাজল গ্রামের ২ নং ওয়ার্ডের রুস্তুম মুনশীর পুত্র মোঃ কাওসারসহ সংঘবদ্ধ চক্র। প্রশ্ন হচ্ছে- এই চক্রটি কোন অদৃশ্য শক্তিতে এলাকায় চাঁদাবাজিতে বেপরোয়া হয়ে উঠছে? এরফলে সাধারণ মানুষের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, ইউনুস বিশ্বাসের ঘরে গিয়ে তাঁর স্ত্রী-পরিজনকে ভয়ভীতি দেখিয়ে এলাকা থেকে চলে যেতে বলে বলছে। নচেৎ বসতঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলার হুমকি দেয়। আঃ খালেক মৃধার নগরের হাটস্থ বসতঘরের সামনে গিয়ে তাকে ঘর থেকে না বেড়ানোর হুমকি দিয়ে ৫লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে সন্ত্রাসীরা। আবার তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক সন্ত্রাসীরা সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকার স্বনামধন্য ব্যক্তি তাহের খানের বাসার সামনে তাঁর দুটি দোকান ভাড়া আগামী মাস থেকে চাঁদাবাজরা দাবি করে।

এছাড়া ইউনিয়নের বাবুরহাটের শামুর দোকান ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ১১ নভেম্বর সন্ধ্যায় নগরের হাট ডিষ্টিক রোডের দক্ষিণ পার্শ্বে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো: আফছার উদ্দিন মৃধার বড় ভাই আঃ খালেক মৃধার বাসায় হামলা চালিয়েছে। ওই বাসায় মো: আফছার উদ্দিন মৃধা থাকা অবস্থায় এহেন জঘন্য হামলা চালানো হয়। তাৎক্ষণিক বিষয়টি একটি গোয়েন্দা সংস্থাকে অবহিত করার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে আফসার মৃধাকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধার করে। সন্ত্রাসীরা আঃ খালেক মৃধার পরিবারের কাছে চাঁদা চেয়েছে, নইলে বাড়ি-ঘর জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। এসব সন্ত্রাসীদের নির্ধারিত চাঁদার টাকা দিতে অপরগতা প্রকাশ করলেই ঘর-বাড়ি-ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। এরপর আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিচ্ছে। আবার কখনো চালানো হয় নির্যাতনের স্টীম রোলার। মূলত নওমালা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে কামাল হোসেন বিশ্বাস জয়ী হয়ে তারই পালিত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা পরাজিত প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকের বাড়ি-ঘরে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে। শনিবার (১৩ নভেম্বর) দিবাগত রাতের আধারে ইব্রাহিম মাস্টারের মাছের ঘেরে বিষপ্রয়োগ করেছে সন্ত্রাসীরা। পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় তিন লাখ টাকার মাছ নিধণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শিক্ষক মোঃ ইব্রাহিম হোসেন প্রায় তিন বছর পর্যন্ত পুকুরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের চাষ করে আসছেন। রোববার সকালে ইব্রহিমের স্ত্রী পুকুরে অজু করতে গিয়ে দেখেন পাঙ্গাস, রুই, কাতলা ও মৃগেলসহ বিভিন্ন প্রজাতির মৃত মাছ পুকুরে ভাসতে দেখেন।

ইব্রাহিম হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, তিনি ঘোড়া প্রতীকের সমর্থক হওয়ায় নির্বাচনে জিতে নৌকা প্রতীকের নির্বাচিত প্রার্থী এডভোকেট কামাল হোসেনের পালিত সন্ত্রাসীরা তার পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে প্রায় তিন লক্ষাধিক টাকার মাছ বিনষ্ট করা হয়েছে। এদের বেপরোয়া চাঁদাবাজি-সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে ইউনিয়নের শান্তিপ্রিয় মানুষ হতাশ। এইসব সন্ত্রাসীদের প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি, লুটপাট, ঘর-বাড়ি-ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়ার অপকর্মগুলো কী দেখার কেউ নেই। বিচারের বাণী নিরবে নিভৃতে কাঁদছে। সচেতন মহলের প্রশ্ন- এসব সন্ত্রাসী কারা? যাদের অস্ত্রের মহড়ায় জনমনে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। যারা ভয়ার্ত পরিবেশ সৃষ্টি করে সন্ত্রাসের রাম রাজত্ব কায়েমের পথে হেঁটে চলছে। কাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে এরা দিনে দিনে বেপরোয়া হয়ে উঠে মানুষের জানমালের নিরাপত্তায় হুমকিস্বরূপ হয়ে দাড়িয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা বলেন, এলাকায় গড়ে উঠা অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা ক্রমেই হিংস্র হয়ে উঠেছে। এ পর্যন্ত শতাধিক ঘর-বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে। প্রশাসন চাইলে সবাইকে শনাক্ত করে আইনের নিতে পারে। আমরা জানমালের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রোববার ১৪ নভেম্বর বিকেলে নওমালা ইউনিয়নের নগরের হাটের দক্ষিণ পার্শ্বে ব্যাপারি বাড়ির বাসিন্দা আমির হোসেনের পুত্র বেল্লাল হোসেনের বাসায় প্রথমে এলোপাতাড়িভাবে কুপিয়েছে। পরে আগুন দিয়ে বাসা জ্বালিয়ে দিয়েছে। এরপর অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা উল্লাস করতে করতে স্থান ত্যাগ করে।

ভুক্তভোগী পরিবার বলছেন, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা ঘরে ঢুকে টিভি, ফ্রিজ, খাটসহ বিপুল পরিমাণ আসবাব ভাঙচুর করে। এরপর সেগুলো এক জায়গায় স্তুুপ করে পেট্রোল দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরে স্থানীয় লোকজন পানি ঢেলে আগুন নেভাতে সক্ষম হন। সদ্য অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া ইউপি নির্বাচনে বেল্লাল হোসেন সাবেক চেয়ারম্যান ঘোড়া প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো: শাহজাদা হাওলাদারের সমর্থক ছিলেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, রোববার (১৪ নভেম্বর) সন্ধ্যার দিকে মো. কামাল হোসেন বিশ্বাসের কর্মী মো. কাবিল মৃধার নেতৃত্বে ৬০-৬৫ জনের একটি দল বেল্লাল হোসেনের বাড়িতে ঢুকে টিভি, রেফ্রিজারেটর, খাটসহ অন্যান্য আসবাব ভাঙচুর করেন। এরপর সেগুলো এক জায়গায় স্তুুপ করে পেট্রোল দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরে স্থানীয় লোকজন পানি ঢেলে আগুন নেভায়। এ হামলার ঘটনায় মো. বেল্লাল হোসেনের মা মোসা. সেতারা বেগম বাদী হয়ে ২৭ জনের নাম উল্লেখ্য এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩০-৩৫ জনকে আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওইদিন রাতে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. মঞ্জু (৩৫), মো. করিম (৩৬), মো. ইউনুচ (৩৫) ও মো. রবিউল (১৯)। গ্রেপ্তারকৃতরা নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মো. কামাল হোসেন বিশ্বাসের কর্মী-সমর্থক। কিন্তু অরাজক পরিবেশ সৃষ্টির হোতা কাবিল মৃধাসহ অন্যান্য আসামীদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এদের গ্রেপ্তারে পুলিশের গড়িমসির অভিযোগ রয়েছে। আবার গ্রেপ্তার হলেও আইনের ফাঁকফোকড় দিয়ে বের হয়ে ফের এলাকায় নৈরাজ্য সৃষ্টিতে মত্ত থাকে। অবাক! ইতোমধ্যে এই মামলার আসামিরা জামিন পেয়েছেন।

সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় ন্যায় বিচার দাবি করে বেল্লালের মা সেতারা বেগম বলেন, সন্ত্রাসীদের মহড়ায় তাঁর পরিবার জীবনের চরম নিরাপত্তাহীনতার মাঝে বসবাস করছেন। হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের পর বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আল মামুন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত থাকায় চারজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। অন্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

সদ্য বিদায়ী চেয়ারম্যান ঘোড়া প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. শাহজাদা হাওলাদার বলেন, সন্ত্রাসীরা আমার বাসভবনে হামলা চালিয়েছে। আমার কর্মী-সমর্থকদের বাড়ি-ঘর-ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা-ভাঙচুরের তান্ডবলীলা চালিয়ে আসছে। বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে চাঁদা দাবি করছে। সন্ত্রাসীদের অস্ত্রের মহড়ায় ‘আমার কয়েক’শ কর্মী-সমর্থক এলাকাছাড়া। তিনি আরো বলেন, গত নির্বাচনে আমিও তাঁকে (কামাল হোসেন বিশ্বাসকে) পরাজিত করে চেয়ারম্যান হয়েছিলাম। সেসময় কাউকে এলাকাছাড়া হতে হয়নি। হামলা-লুটপাট-চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটেনি।

এ প্রসঙ্গে নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান কামাল হোসেন বিশ্বাস বলেন, বেল্লাল তাঁর অনেক কর্মীকে অত্যাচার-নির্যাতন করেছেন। এতে অনেকে পঙ্গু হয়েছে। এরপরও তিনি তাঁর নেতা-কর্মীদের শান্ত রেখেছিলেন। কিন্তু বেল্লাল নির্বাচনের পর ফেসবুকে উত্তেজনামূলক স্ট্যাটাস দিয়েছেন। এ কারণে তাঁর কিছু বিক্ষুব্ধ কর্মী এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর অন্য কর্মীরাই বিক্ষুব্ধ কর্মীদের থামিয়েছে।

ওই এলাকার সাধারণ জনগণ বলছেন, পুলিশী অভিযানে কিছু অপরাধী আটক হলেও মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে না। অপরাধী চক্র গড়ে তোলার হোতাদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হলেই অপরাধের মূল উৎপাটন করা সম্ভব। সবমিলিয়ে অবৈধ অস্ত্র ব্যবহারের পাশাপাশি সংঘাত, হানাহানির ঘটনা নিয়মিত বাড়ছে। গ্রামে গ্রামে বহু মানুষ আজ রাজনৈতিক হিংসার জেরে ঘরছাড়া। মৃত্যু, হানাহানি নষ্ট করছে গ্রামীণ পরিবেশ। সবাই আজ জানতে চায় এর শেষ কোথায়? আর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নিজেদের পছন্দমতো, এলাকায় উজ্জ্বল ভাবমূর্তি আছে এমন মানুষকে নির্বাচিত করে আনার প্রক্রিয়াটাই বন্ধ হয়ে গেছে। গ্রামে আর জনপদে নির্বাচন এক আতঙ্কের নাম। এত অস্ত্রের প্রদর্শনী, এত সহিংসতা, এত জখম। সংবেদনশীল মানুষ বুঝতে চায় রাজনীতির জন্য এই সহিংসতা নাকি সহিংসতার জন্যই রাজনীতি? নির্বাচন কেন্দ্রিক সহিংসতা কাম্য নয়। একটা দল জিতবে আর বাকিরা হারবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ভোটে জেতার জন্য প্রতিপক্ষের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, চাঁদাবাজি লুটতরাজ, হত্যাচেষ্টা, খুন। এই রাজনৈতিক চর্চা মানুষ চায় না। এই চাঁদাবাজ চক্রের লাগাম টেনে ধরতে শান্তিকামী মানুষকে এগিয়ে আসাটা জরুরি বলে মনে করেন অভিজ্ঞমহল। যেখানে সরকার মাদক ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজদের বিষয়ে হার্ডলাইনে অবস্থান করছেন, এরকম পরিস্থিতিতে নওমালা ইউনিয়নে চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্যে যেনো এক ভয়ার্ত পরিবেশ বিরাজমান! নওমালা ইউনিয়নে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী, চাঁদাবাজ চক্রের মূল উৎপাটনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের আশু দৃষ্টি কামনা করেছেন শান্তিপ্রিয় মানুষ। বিশেষ করে বরিশাল পুলিশের রেঞ্জ ডিআইজি, পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক, পটুয়াখালী জেলা পুলিশ সুপার, পটুয়াখালী র‌্যাব ক্যাম্প, বরিশাল র‌্যাব-৮ এর আশু দৃষ্টি কামনা করেছেন এলাকার শান্তিপ্রিয় মানুষ।

গত বৃহস্পতিবার (১১ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত নওমালা ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী এ্যাড. কামাল হোসেন বিশ্বাস বিজয়ী হন। স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী (ঘোড়া) সদ্য বিদায়ী চেয়ারম্যান মো. শাহজাদা হাওলাদার পরাজিত হন। কামাল বিশ্বাস জয়ী হওয়ার পর ১১ নভেম্বর বিকেলে বিজয় উল্লাস থেকেই প্রতিপক্ষের বাড়ি-ঘরে হামলা চালিয়ে আসছে। এবং বেপরোয়াভাবে চাঁদাবাজিতে সন্ত্রাসীরা মাঠ দাবড়িয়ে বেড়াচ্ছে।’

 

পটুয়াখালি, বিভাগের খবর

আপনার মতামত লিখুন :

 
এই বিভাগের অারও সংবাদ
ভারপ্রাপ্ত-সম্পাদকঃ শাকিব বিপ্লব
© কপিরাইট বরিশালটাইমস ২০১২-২০১৮ | বরিশালটাইমস.কম
বরিশালটাইমস লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান।
শাহ মার্কেট (তৃতীয় তলা),
৩৫ হেমায়েত উদ্দিন (গির্জা মহল্লা) সড়ক, বরিশাল ৮২০০।
ফোন: ০৪৩১-৬৪৮০৭, মোবাইল: ০১৮৭৬৮৩৪৭৫৪
ই-মেইল: [email protected], [email protected]
© কপিরাইট বরিশালটাইমস ২০১২-২০১৮
টপ
  শেখ হাসিনা বিশ্বের ৪৩তম প্রভাবশালী নারী  পিরোজপুরে আওয়ামী লীগ নেতার দুই পা ভেঙে দিলো সন্ত্রাসীরা  চরফ্যাসনে ট্রলার ডুবি: ঘাতক ট্রলিং এফবি এসআরএল-৫ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা  বরগুনা/ স্বামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করায় স্ত্রী কারাগারে  মেয়ের সামনে মাকে ধর্ষণ, পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেপ্তার  আগৈলঝাড়ায় মাদক মামলার পলাতক আসামী গ্রেফতার  বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শীতকালীন ছুটি বাতিল  মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে আল্লাহর ওয়াস্তে মাফ করবেন: মুরাদ  ভারতের প্রতিরক্ষাপ্রধানকে বহনকারী হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত: নিহত ১৩  আগৈলঝাড়ায় দাসেরহাট প্রিমিয়ার লীগের উদ্বোধন