২৪শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার

নির্বাহী প্রকৌশলীসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর মামলা

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৮:৩৫ অপরাহ্ণ, ০৩ জুন ২০১৭

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার মগর ইউনিয়নের কাঠিপাড়া গ্রামে দরপত্রের কার্যাদেশ দেয়া একটি ব্রীজ সরিয়ে অন্যত্র নির্মাণ করায় জনমনে মারাত্মক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে ঝালকাঠির এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীসহ ৪ জনকে বিবাদী করে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। কাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে এলাকার ৮ জন ব্যক্তি বাদী হয়ে জনস্বার্থে গত ২৯ মে মামলা দায়ের করেন। ঝালকাঠি সিনিয়র সহকারি জজ আদালত মো. রফিকুল ইসলাম মামলাটি আমলে নিয়ে ওই কাজে কেন নিষেধাজ্ঞা দেয়া হবে না জানতে চেয়ে বিবাদীদের কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদানের আদেশ দেন।

মামলার আইনজীবী ও আর্জি সূত্রে জানা যায়, নলছিটির ষাটপাকিয়া ফেরিঘাট সড়ক থেকে মগর ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত ৩ হাজার ৬ শত ৪০ মিটার সংযোগ সড়কে কাঠিপাড়া গ্রামে ব্রীজটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়। এ লক্ষে পুরাতন জরাজীর্ণ ব্রীজটি ভেঙে একটি ২৪ মিটার লম্বা গার্ডার ব্রীজ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। ঝালকাঠি এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী সেলিম সরকার ঠিকাদার এমটি বিল্ডার্সকে গত ২৯ মার্চ তারিখ ঝাল/৫৯৮ স্বারকে এ কাজের কার্যাদেশ প্রদান করেন। এর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৬৭ লাখ ৪৯ হাজার টাকা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ৮৩ দিনের মধ্যে কাজটি শেষ করার নির্দেশনা দেয়া হয়।

এরপর ঠিকাদার গত ১৪ মে ২০১৭ তারিখ নির্ধারিত স্থানে নির্মাণ কাজ শুরু করে। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে নির্মাণাধীন ব্রীজটির স্থান পরিবর্তন করে পার্শ্ববর্তী ভৈরবপাশা ইউনিয়নের পাটনি বাড়ি সংলগ্ন মোজাফর আলীর বাড়ির কাছের খালের ওপর নির্ধারণ করা হয়।

মামলার আর্জিতে উল্লেখ করা হয়, ওখানে পূর্বেই একটি ভাল ব্রীজ ছিল। এরপরও সেটি ভেঙ্গে ইতিমধ্যেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করেছে। এ ঘটনায় বাদী পক্ষ মামলা দায়ের করেন।

এ ব্যাপারে বাদীদের পক্ষে মুক্তিযোদ্ধা গিয়াস উদ্দিন খান বলেন, এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে ব্রীজের কাজ শুরু হওয়ায় আমরা আশার আলো দেখে ছিলাম। কিন্তু এলাকার দুর্ভোগের কথা চিন্তা না করে ভৈরবপাশা ইউনিয়নের এক সাবেক সচিবের বাড়ির সামনে খালের উপর এলজিইডি দ্বিতীয় পর্যায়ে ব্রীজটির নির্মাণ কাজ শুরু করে। আমরা এ অন্যায় সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আদালতের আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছি। বাদী পক্ষের আইনজীবী মাহবুব আলম কবির বলেন, আমরা কাজের উপর নিষেধাজ্ঞা চেয়েছি। আদালত বিবাদিদের ৭ দিনের কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন।

ঝালকাঠির এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী সেলিম সরকার বরিশালটাইমসকে বলেন, যে স্থানে ব্রীজটি হবার কথা সেখানে নদী ভাঙ্গনের হুমকি থাকায় অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে। তাছাড়া একই রাস্তায় ব্রীজটির সংযোগস্থল। কার্যাদেশের পর স্থান পরিবর্তনের সুযোগ আছে কিনা এর জবাবে নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, সরকার চাইলে এটা করা যায়।”

6 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন