১৯শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার

নির্মাণকাজে অনিয়ম: হঠাৎ ভেঙে পড়ল ৫ কোটি টাকার সেতু

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ, ২৮ মার্চ ২০২৩

নির্মাণকাজে অনিয়ম: হঠাৎ ভেঙে পড়ল ৫ কোটি টাকার সেতু

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল:: ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া ইউনিয়নের মাঝিকান্দা তালমার খালের ওপর প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি সেতু হঠাৎ ভেঙে পড়েছে। রাতের আঁধারে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে তড়িঘড়ি করে কাজ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এছাড়া নির্মাণকাজ দেখভালের জন্য ছিল না উপজেলা প্রকৌশলী দপ্তরের কেউ। এ কারণে হঠাৎ সেতুটি ভেঙে পড়েছে। নির্মাণাধীন ব্রিজের পিলারও বেঁকে গেছে। শনিবার (২৫ মার্চ) নির্মাণাধীন এ সেতুটি ভেঙে পড়ে বলে স্থানীয়দের দাবি।

এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ, সেতুটি নির্মাণে চরম অনিয়ম হওয়ার কারণে ভেঙে পড়েছে। ভেঙে পড়া সেতুর কাজ তড়িগড়ি করে সংস্কার করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ভাঙা সেতু তড়িঘড়ি করে সংস্কার করার কারণে ভবিষ্যতে আবার ভেঙে পড়তে পারে, সেতুটি ভেঙে নতুন করে সংস্কার করার দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।

এ ব্যাপারে নগরকান্দা উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী (সেতুর দায়িত্বে থাকা এসও) মিরান হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, সেতুটির উচ্চতা বেশি হওয়ার কারণে ধসে পড়েছে। আমরা এত উঁচু সেতুর কাজ আগে কখনও করি নাই। ব্রিজ ভেঙে পড়ার আগে ঢাকা থেকে প্রকল্প পরিচালক (পিডি) এসে সেতু পরিদর্শন করেছেন এবং অতি দ্রুত সেতু নির্মাণ করতে নির্দেশনা দিয়েছেন। আমরা ১৫ দিনের মধ্যে ব্রিজের নির্মাণ কাজ শেষ করার চেষ্টা করছি।

এ ব্যাপারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক রেজাউল করিমের মুঠোফোনে একাধিক যোগাযোগ করেও পাওয়া যায়নি। তিনি মোবাইল রিসিভ করেননি।

এ ব্যাপারে নগরকান্দা উপজেলা প্রকৌশলী মোশারফ হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। তিনি মোবাইল রিসিভ না করায় বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

এ ব্যাপারে নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মঈনুল হক সাংবাদিকদের বলেন, সেতু ভাঙার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। সেতুর কিছু অংশ ভেঙেছে; তবে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

অনুরুপ বিষয়ে ফরিদপুরের এলজিইডি’র(স্থানীয় সরকার বিভাগ) নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুজ্জামান খান সাংবাদিকদের বলেন, স্টেজিং ভালো না করায় এমন ঘটনা ঘটেছে। নিচের গোড়াটা যেভাবে করার দরকার ছিলো সেভাবে হয়নি বিধায় এমনটা হয়েছে। এটা একজন ঠিকাদারের জন্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা। এ ক্ষতির দায়ভার ঠিকাদারকেই নিতে হবে।

কাজের মান খারাপ হওয়ার কোন সুযোগ ও সম্ভাবনা নেই। দু’পাশের ঢালাই আরও কিছু ভেঙে নতুন করে স্টেজিং করতে হবে। এর জন্য নতুন করে কোন বরাদ্দের সুযোগ নেই। ঠিকাদারের নিজস্ব অর্থায়নেই ঠিক করতে হবে।’

22 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন