২ ঘণ্টা আগের আপডেট রাত ১০:৫৮ ; শনিবার ; অক্টোবর ১, ২০২২
EN Download App
Youtube google+ twitter facebook
×

নৌযান শ্রমিকদের মানবেতর জীবন

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট
১২:২৯ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৪, ২০১৬

যাদের ওপর নির্ভর করে শতশত মানুষের জীবন-মরণ। যাদের সামান্য একটু ভুলে ঘটে যেতে পারে বড় কোনো দুর্ঘটনা। বলছি দেশের নৌপথে চলাচলকারী বিশ হাজার নৌযানে কর্মরত প্রায় আড়াই লক্ষ শ্রমিকের কথা। এদের কেউ কেউ জীবনের প্রায় অর্ধেকটা সময় পার করে দিয়েছেন নৌপথে। কেননা নৌপথ আর নৌযানের সঙ্গে এদের জীবন বাঁধা।তবুও ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন নেই এদের। বরং চরম বেতন বৈষম্যের শিকার হয়ে এদের বেশিরভাগেরই চরম মানবেতর জীবন।

সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে দেশের অভ্যন্তরে চলছে একের পর এক বিলাসবহুল লঞ্চ ও নৌযান। অর্থাৎ, লঞ্চের বা নৌযানেরই কেবল ভাগ্যবদল বা চেহারা-অবয়বে পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু এসব লঞ্চ ও নৌযানে যারা দিনরাত কাজ করেন, যারা ঘর্মাক্ত দিনরাত পার করেন, তাদের জীবন সেই আগেরই মতো। সুবিধাবঞ্চিত, বৈষম্য ও শোষণের দুষ্টচক্রে বাঁধা এরা;  যেন কলুর বলদ। যদিও যুক্তির নামে এ বিষয়ে মালিকপক্ষের রয়েছে নানান অজুহাত আর কুযুক্তি। ক্রমাগত বঞ্চনার শিকার হতে থাকা নৌযান শ্রমিকরা মাঝেমাঝে বেতন ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর দাবিতে ফুঁসেও ওঠেন। আন্দোলনেও নামেন। তখন দেখা দেয় অচলাবস্থা ও সংকট। কিন্তু তাতেও অবস্থার পরিবর্তন খুব একটা হয় না। সংকট নিরসনে তেমন কোনো পদক্ষেপও নেওয়া হয় না। মালিকপক্ষ প্রতিশ্রুতি এবং নানান টালবাহানার মাধ্যমে কালক্ষেপণের কৌশল নেন। আর এই কৌশলের কাছে হার মানতে বাধ্য হন নুন আন্তে পান্তা ফুরানো গরিব শ্রমিকরা। তারা পেটের দায়ে আবারও কাজে যোগ দিতে বাধ্য হন।

ফলে লঞ্চ, মালবাহী কার্গো, কোস্টার, ট্যাকাংরসহ অন্যান্য ইঞ্জিনচালিত নৌযান শ্রমিকদের জীবন চলছে অনেকটা মালিকদের করুণানির্ভর হয়ে। এ যেন এক ছেলেখেলা। ফলে যুগের পর যুগ ধরে না হচ্ছে ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন, না আছে এদের স্বার্থের পক্ষে দাঁড়াবার, এদের স্বার্থ দেখার মত কেউ।

বুধবার(১০ আগস্ট) রাজধানীর সদরঘাটের নৌযান শ্রমিকরা এই প্রতিবেদকের কাছে বেতন বৈষম্যের শিকার হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করার নানান চিত্র তুলে ধরেন। তাদের অভিযোগের-অসন্তুষ্টির কোনো কমতি নেই।

ঢাকা-বরিশাল-বরগুনা রুটের যুবরাজ-৪ এর মাস্টার মো. আলম। তিনি জানালেন, জীবনের প্রায় ২৬টি বছর নৌপথে অতিবাহিত করেছেন। কিন্তু বেতন পান মাত্র ৬ হাজার টাকা। তার মধ্যে ৯শত টাকা খোরাকি। বাকি ৫১০০ টাকা পান মূল বেতন। ফলে অন্য কোনো কাজ না জানায় এভাবেই তাকে দূর্বিষহ জীবন পার করতে হচ্ছে।

সুকানী আলামিন। ১৬টি বছর ধরে তিনিও এই পেশায় রয়েছেন। কিন্তু বেতন হিসেবে পান ৪ হাজার টাকা।   তারও খাওয়া বাবদ ৯শত টাকা। আর মূল বেতন হিসেবে পান ৩১শত টাকা। পরিবারে রয়েছে বাবা-মা ও ছোট একটি ভাই। নিজে কোনো মতে কষ্ট করে জীবনটা পার করলেও পরিবারে সবাইকে কষ্টেই থাকতে হচ্ছে।

পারাবত লঞ্চের মালিক শহীদ ভূঁইয়া বলেন, ‘‘নৌ-শ্রমিকরা যে বেতন দাবি করেছে সেটা অযৌক্তিক। তাই মালিকরা হাইকোর্টে একটি মামলা করেছেন। আর নৌযানে কর্মরত কোনো শ্রমিক মোটেও কষ্টে নেই। বিভিন্নভাবে তারা অর্থ আয় করছেন। আর লস হচ্ছে মালিকদের। সেখানে বেতন বাড়ানোর প্রশ্নই আসে না।’’

এদিকে লঞ্চ মালিক সংগঠনের উপদেষ্টা গোলাম কিবরিয়া টিপু বলেন, ‘‘নৌযান শ্রমিকদের কোনো সমস্যা নেই। সমস্যা হলো, এখন তেলসহ বিভিন্ন চুরি বন্ধ হয়ে গেছে। একজন মাস্টার যেখানে মাসে কেবিন ভাড়া দিয়ে ৫০ হাজার টাকা ও ড্রাইভার মাসে প্রায় ৩০ হাজারের বেশি টাকা আয় করে, সেখানে তাদের কিসের অভাব? তারা বেতন-বৈষম্যের যে কথা বলছে তা পুরাই মিথ্যা।’’

বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি মো. শাহ আলম বলেন, ‘‘শ্রমিকদের বেতন বৈষম্য থাকলেও অধিকাংশ নৌযান মালিক শ্রমিকদের বেতন বাড়াতে নারাজ। গত ২৬ এপ্রিল ২০১৬ নৌ-শ্রমিকদের জীবনের কথা ভেবে নৌমন্ত্রী শাহজাহান খান জাতীয় স্কেলের সাথে সঙ্গতি রেখে বেতন বাড়ানোর ঘোষণা দেন।সেখানে ‍সর্বনিম্ন ৯ হাজার ও সর্বোচ্চ ১৭,১০০ শত টাকা বেতন ঘোষণা করা হয়। কিন্তু এই বেতন বাড়ানোর ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে লঞ্চমালিকরা হাইকোর্টে একটি মামলা করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত জুনে হাইকোর্ট এই বেতন বাড়ানোর প্রক্রিয়ার ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছেন। বেতন ভাতা বাড়ানো না হলে খুব শিগগিরই নৌযান শ্রমিকরা কর্মবিরতির ঘোষণা দেবেন।’’

নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমোডর জাকিউর রহমান বলেন, ‘‘এটা দেখভালের দায়িত্ব শ্রম মন্ত্রণালয়ের। এখানে আমাদের কিছুই করার নেই। থাকলে আগেই শ্রমিকদের জন্য কিছু করার উদ্যোগ নেওয়া হতো।’’

এ বিষয়ে শ্রম পরিদপ্তরের পরিচালক আশরাফুজ্জামান বলেন, ‘‘আমরা নৌযান শ্রমিকদের বেতন নিয়ে কাজ করছি।এছাড়া তাদের বেতন বাড়ানোর বিষয়ে হাইকোর্টি একটি রুল জারি করেছে। সেজন্য তাদের বেতন ভাতা বাড়ানোর প্রক্রিয়াটা এখন স্থগিত হয়ে আছে।’’

তবে খুব শিগগিরই হাইকোর্টের রুলের জবাব দিয়ে তারা শ্রমিকদের বেতন-ভাতার বিষয়টির সুরাহা করবেন বলে তিনি জানান।

কথা হয় নৌ মন্ত্রণালয়ের সচিব অশোক মাধব রায়ের সঙ্গে। তিনি জানান, নৌ শ্রমিকদের বেতন ভাতার বিষয়টি নিয়ে তারা এরই মধ্যে নৌমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন। তবে মালিকদের করা মামলার পর হাইকোর্টের রুল জারির ফলে সবকিছু এখন স্থগিত হয়ে আছে। তবে হাইকোর্টের মামলার নিষ্পত্তি হলে খুব শিগগিরই শ্রমিকদের বেতন বৈষম্যের বিষয়টি নিষ্পত্তি হবে।

বরিশালের খবর

 

আপনার মতামত লিখুন :

 
ভারপ্রাপ্ত-সম্পাদকঃ শাকিব বিপ্লব
© কপিরাইট বরিশালটাইমস ২০১২-২০১৮ | বরিশালটাইমস.কম
বরিশালটাইমস মিডিয়া লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান।
ইসরাফিল ভিলা (তৃতীয় তলা), ফলপট্টি রোড, বরিশাল ৮২০০।
ফোন: +৮৮০২৪৭৮৮৩০৫৪৫, মোবাইল: ০১৮৭৬৮৩৪৭৫৪
ই-মেইল: [email protected], [email protected]
© কপিরাইট বরিশালটাইমস ২০১২-২০১৮
টপ
  দুলাভাইকে বিয়ের দাবিতে ৩ দিন ধরে স্কুলছাত্রীর অনশন  বাউফলে র‌্যাবের হাতে দুই ইয়াবা ব্যবসায়ী গ্রেফতার  নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনীত বাংলাদেশি চিকিৎসক  জমি দখল করে বাড়িঘর ভাঙচুর: ঝালকাঠিতে জেলা জজের বিরুদ্ধে মানববন্ধন  আগামী নির্বাচন হাসিনার অধীনেই, অস্তিত্ব রক্ষার জন্য অংশ নেবে বিএনপিও : আমু  ভোলায় ২ ট্রলারসহ বিপুল পরিমাণ চোরাই সয়াবিন তেল ও ডিজেল জব্দ  মঠবাড়িয়ায় মুক্তিযোদ্ধা বহুমুখী সমবায় সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত  বরিশাল খালেদাবাদ কলোনির মাদক নির্মুলে এলাকাবাসীর আলোচনা সভা  বাউফলে ইসলামী যুব আন্দোলনের তৃণমূল সম্মেলন অনুষ্ঠিত  বরিশালে ৭ দফা দাবি আদায়ে সরকারি কর্মচারীদের মানববন্ধন