১ দিন আগের আপডেট সন্ধ্যা ৬:৫১ ; রবিবার ; মে ১৯, ২০১৯
EN Download App
Youtube google+ twitter facebook
×

পটুয়াখালীর ঐতিহ্যবাহী দেবী দয়াময়ীর মন্দির ধ্বংসের মুখে

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট
৫:৫৯ অপরাহ্ণ, মার্চ ৬, ২০১৯

পটুয়াখালীর গলাচিপায় প্রায় ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী দয়াময়ী দেবী মন্দির নদীতে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। ইতোমধ্যে মন্দিরের সিংহ দরজা সুতাবড়ীয়া নদীগর্ভে চলে গেছে।

দয়াময়ী মন্দির নিয়ে রয়েছে অনেক পৌরাণিক কাহিনী। জনশ্রুতি রয়েছে- অনেক কাল আগে কোনও এক রাতের আঁধারে মন্দির এলাকায় একটি প্রাচীন বেল গাছের তলার মাটি ফুঁড়ে বের হয় দয়াময়ী দেবীর মূর্তি। ঠিক ওই রাতেই এলাকার জমিদার ভবানী শঙ্কর সেন স্বপ্নযোগে আদিষ্ট হন দেবী মূর্তি আবির্ভাবস্থলে একটি মন্দির প্রতিষ্ঠার জন্য।

আবার কারও কারও মতে, স্বপ্নে আদিষ্ট হয়ে জমিদার ভবানী শঙ্কর সেন গ্রামের পার্শ্ববর্তী নদীতে সূর্যস্নান করতে গিয়ে পাথরের তৈরি দয়াময়ী দেবীর মূর্তিটি ভাসমান অবস্থায় দেখতে পান। ভাসমান ওই মূর্তিটি উদ্ধার করে এনে দয়াময়ী দেবীর নামে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন দয়াময়ী মন্দির।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে- বাংলা ১২০৮ সনে গলাচিপার সুতাবাড়িয়া গ্রামের প্রায় তিন একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয় মন্দিরটি। মন্দিরের পশ্চিম পাশে রয়েছে আলাদা একটি শিব মন্দির। শিব মন্দিরের উপরিভাগ গম্ভুজাকৃতির। এক সময় দয়াময়ী দেবী মন্দিরের প্রত্নতাত্ত্বিক সৌন্দর্য্যে আকৃষ্ট হয়ে দেশ-বিদেশ থেকে অগণিত মানুষ ছুটে আসতেন মন্দির দর্শনে। বিশেষ করে শীত মৌসুমে দর্শনার্থীদের পদভারে জমজমাট থাকত সারা গ্রাম। প্রতি বছর মাঘ মাসের ১ তারিখ থেকে মাসব্যাপী মেলা বসত মন্দির এলাকায়। হাজার হাজার লোক সমবেত হতো মেলায়। কলকাতা থেকে নামী-দামী যাত্রাদলসহ দেশ-বিদেশের সাধু-সন্ন্যাসীরা এসে ভিড় জমাতেন এই মেলায়।

সনাতন ধর্মের বিভিন্ন গ্রন্থে দয়াময়ী দেবীর মন্দির এবং দয়াময়ী মেলার বিবরণ রয়েছে। ঐতিহ্যবাহী দয়াময়ী মেলাটি এখন মাত্র একদিনের জন্য অনুষ্ঠিত হয় মাঘী সপ্তমীতে।

স্থানীয়রা জানান, মন্দির প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই সপ্তমীর দিন হিন্দু পরিবারের অনেক গৃহবধূ মন্দির প্রাঙ্গণে এসে শাঁখারীদের কাছ থেকে নতুন শাঁখা ক্রয় করেন। অনেকে আবার বিভিন্ন রোগ-শোকে শিব পূজা এবং কালী পূজা করেন এখানে।

বর্তমানে নদীর পাড়ে জীর্ণশীর্ণ অবস্থায় এ মন্দিরটি দাঁড়িয়ে আছে। মন্দিরের সিংহ দরজা অনেক আগেই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির মুখে রয়েছে পাঠা বলীর ঘর, কালী মন্দির, শিব মন্দির ও একমাত্র দীঘিটি। কালের বিবর্তন ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের অভাবে এ মন্দিরের ঔজ্জ্বল্য অনেকটাই বিনষ্ট হয়ে গেছে।

স্থানীয়রা আরও জানান, প্রাচীন নিদর্শন এ মন্দিরটি অমূল্য প্রত্নসম্পদ। কিন্তু সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী দয়াময়ী দেবী মন্দির আজ ধ্বংসস্তুপে পরিণত হতে চলেছে সবার চোখের সামনেই।

দয়াময়ী দেবী মন্দিরের পুরোহিত বিধান গাগুলি (৪০) বলেন- প্রতি বছর মাঘের সপ্তমিতে এখানে মেলা বসে। মেলায় কয়েক হাজার নারী-পুরুষ আসেন। কিন্তু সংস্কারের অভাবে মন্দিরটি নদী গর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে। এখনই সংস্কার না করা হলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে হয়তো মন্দিরটি বিলীন হয়ে যাবে।’’

পটুয়াখালি, বিশেষ খবর

আপনার মতামত লিখুন :

ভুইয়া ভবন (তৃতীয় তলা), ফকির বাড়ি রোড, বরিশাল ৮২০০।
ফোন: ০৪৩১-৬৪৮০৭, মোবাইল: ০১৭১৬-২৭৭৪৯৫
ই-মেইল: barishaltimes@gmail.com, bslhasib@gmail.com
© কপিরাইট বরিশালটাইমস ২০১২-২০১৮
টপ
  বরিশালের তেতুলিয়া নদী ভাঙনরোধে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হবে: প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক  বরগুনায় কাটা মাথা ও চামড়াসহ ৫ মণ হরিণের মাংস উদ্ধার  সোমবার শুরু হচ্ছে বিআরটিসির ঈদের আগাম টিকেট বিক্রি  বরিশালে শিক্ষার্থীকে ধর্ষন করে মোবাইলে নগ্ন ছবি ধারন  পিরোজপুরে ইসলামী ফাউন্ডেশনের ডিডি’কে হুমকি  বউ বদলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে খুন!  ভিসিবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষকদের হয়রানি!  গৃহবধূকে গণধর্ষণ করে ভিডিও ধারণ, আবার কুপ্রস্তাব  ১ বছর ধরে কিশোরীকে ধর্ষণ করতেন বিএনপির এই নেতা!  গর্ভবতী হলেন পুরুষ! চিকিৎসাবিজ্ঞানে তোলপাড়