২৪শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিবকে বেআইনী ভাবে সরাতে চাইছে কেন্দ্র, অভিযোগ মমতার

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৫:০৪ অপরাহ্ণ, ২৯ মে ২০২১

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিবকে বেআইনী ভাবে সরাতে চাইছে কেন্দ্র, অভিযোগ মমতার

শিবপ্রিয় দাশগুপ্ত,  কলকাতা >> পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব পদে আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধির এক সপ্তাহের মধ্যে আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিল্লিতে ডেকে নিয়েছে কেন্দ্র। একে করোনা পরিস্থিতি, তার উপরে ঘূর্ণিঝড় যশের ধ্বংসলীলা। দুই দুর্যোগ সামলাতে রাজ্য যখন হিমশিম খাচ্ছে রাজ্য, তখনই মুখ্যসচিবের এই বদলির নির্দেশে রীতিমতো ক্ষোভে ফুঁসে উঠলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের  অভিযোগ, বাংলায় হার মেনে নিতে না পেরেই পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারকে অপমান করছে ভারতের বিজেপি সরকার। মুখ্যমন্ত্রীকে অপমান করা হচ্ছে, মুখ্যসচিবের মতো সৎ এবং কর্মঠ ব্যক্তিকে অপমান করা হচ্ছে। হাতজোড় করে কেন্দ্রের উদ্দেশে মমতার অনুরোধ, “দয়া করে এই নোংরা খেলা খেলবেন না। আবেদন জানাচ্ছি, এই চিঠি প্রত্যাহার করুন। ওকে কাজ করতে দিন। মানুষের জন্য কাজ করতে দিন। আমরা টিম হিসেবে কাজ করছি।”

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের  অভিযোগ, “আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো সৎ এবং কর্মঠ মানুষকে একপেশেভাবে এই বদলির নির্দেশ দিয়ে অপমান করেছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার । আমার এবং মুখ্যসচিবের ভাবমূর্তি নষ্ট করা হয়েছে।” মমতার প্রশ্ন,”একজন বাঙালি IAS বলে আলাপনের উপর এত রাগ কেন? আমি বাঙালি-অবাঙালি করতে চাই না। কিন্তু বাঙালি বলে এত অপমান? একটা তো সিস্টেম থাকবে?”

এর পর সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে তোপ দেগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়  বলেন, “বাংলা ছাড়া যারা অন্য রাজ্যেও মুখ্যসচিব তো আছেন, তাঁদের প্রতি আমাদের সহমর্মিতা আছে। ওদের সম্মান করুন, ওরা অনেক পরিশ্রম করে। আপনি আমার সচিবদের অপমান করছেন। আইপিএসদেরও লবি আছে, তাঁরা সকলে চমকে গিয়েছে। সংবিধান বিরোধী, একপক্ষ এই সিদ্ধান্ত আসলে আমার সরকারের অপমান, মুখ্যসচিবের অপমান। কেন এরকম করছেন? আমরা পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে নিরঙ্কুশভাবে জিতেছি। সেটাই কি আপনার সমস্যা? ভোটের সময় তো কম কিছু করেননি? কেন মানুষের রায় মানছেন না? বাংলার জন্য মনে হচ্ছে আলাদা ‘মার্শাল ল’ চলছে।”

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শনিবা জানিয়ছেন, ১০ মে তিনি চিঠি লিখেছিলেন করোনা এবং ইয়াসের ত্রাণের জন্য, মানুষের সাহায্যের জন্য পুরনো মুখ্যসচিবকে প্রয়োজন। ২৪ মে কেন্দ্রের তরফে মুখ্যসচিবের মেয়াদ তিন মাস বাড়ানোর অনুমতিও দেওয়া হয়েছিল। তারপরই কোনওরকম আলোচনা ছাড়াই এভাবে চিঠি লিখেছে কেন্দ্র। এটা সংবিধান বিরোধী।

অসাংবিধানিকভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নিয়ে মুখ্যসচিবকে বদলি করেছে। গত ৭৪ বছরে এরকম কখনও হয়েছে?”  মুখ্যমন্ত্রী এদিন তাঁর কথায় বুঝিয়ে দিয়েছেন, কেন্দ্রের সঙ্গে কোনও সংঘাত তিনি চান না। রীতিমতো অনুনয়ের সরে হাতজোড় প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাঁর অনুরোধ, “দয়া করে এই নোংরা খেলা খেলবেন না। আবেদন জানাচ্ছি, এই চিঠি প্রত্যাহার করুন। ওকে কাজ করতে দিন।”

5 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন