১৮ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার

পাকিস্তানি প্রেমিককে বিয়ে করলেন বাংলাদেশের সাবরিনা

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১২:২৭ অপরাহ্ণ, ২২ মে ২০২০

বার্তা পরিবেশক, অনলাইন :: কথায় বলে-পিরিতে মজিলে মন কিবা হাড়ি, কিবা ডোম। এই কথাটির যেন বাস্তব উদাহরণ বাংলাদেশের তরুণী মুরসালিন সাবরিনা। তিনি বৃহস্পতিবার বিকেলে অনলাইনে পাকিস্তানি প্রেমিক মোহাম্মদ উমেরের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। দুই পরিবারের সম্মতিতেই এ বিয়ে সম্পন্ন হয় বলে জানা গেছে।

ওই পাকিস্তানি তরুণের সঙ্গে দীর্ঘদিন প্রেম করার পরই তাকে বিয়ে করলেন সাবরিন। যদিও এর আগে গত মার্চেই তাদের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। ওই তরুণ ও তার পরিবারের কয়েক জন সদস্য বাংলাদেশে কনে বাড়িতে এসে বিয়ে পড়াবেন বলে কথা ছিল। সবকিছু সেভাবেই এগোচ্ছিল। কিন্তু প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস সব ওলটপালট করে দেয়।

করোনা দুর্যোগের কারণে বাংলাদেশে আসতে পারেননি পাকিস্তানি তরুণ ও তার পরিবারের সদস্যরা। তাই বলে তাদের বিয়ে আটকে থাকেনি। দুই পরিবারের সম্মতিতে অনলাইনের মাধ্যমে এই প্রেমিকযুগল বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন।

আমাদের জয়পুর হাট প্রতিনিধি জানাচ্ছেন, বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটায় সামাজিক দূরত্ব মেনে জয়পুরহাট শহরের কাশিয়াবাড়ি মহল্লায় কনের বাবার বাড়িতে অনলাইনে এই জুটির বিয়ে হয়। তাদের বিয়ে পড়ান মাওলানা মোস্তাফিজুর রহমান।

কনে মুরসালিন সাবরিনা কাশিয়াবাড়ি মহল্লার বাসিন্দা ব্যাংক কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেনের মেয়ে। তার বর মোহাম্মদ উমেরের বাড়ি পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে। তার বাবার নাম বিল্লাল হোসেন।

মুরসালিন সাবরিনা ২০১৮ সাল থেকে আমেরিকান অনলাইন ইউনিভার্সিটি অব দ্যা পিপলস বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে পড়াশোনা করছেন। তার বর মুহাম্মদ উমেরও এই বিশ্ববিদ্যালয়েরই ছাত্র।

ওই ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের নিজস্ব ওয়েবসাইট ‘ইয়েমার’ এর মাধ্যমে দুজনের পরিচয়। আলাপ থেকেই ভালোলাগা এবং প্রেম। এরপর সারাজীবন একসাথে থাকার জন্য বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন সাবরিনা ও উমের। বিষয়টা তারা গতবছরই নিজেদের পরিবারকে জানান।

প্রথমে এই বিয়েতে রাজি ছিল না মুরসালিন সাবরিনার পরিবার। পরে ছেলের পারিবারিক অবস্থার খোঁজ খবর নিয়ে মেয়েকে মুহাম্মদ উমেরের সঙ্গে বিয়ে দিতে রাজি হন সাবরিনার বাবা মোজাফফর হোসেন। সাবরিনাকে ছেলের বউ হিসাবে মেনে নিতে রাজি হয় উমেরের পরিবারও।

চলতি বছরের মার্চেই তাদের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। সাবরিনাকে বিয়ে করতে পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশের জয়পুরহাট আসবেন বর মুহাম্মদ উমের ও তার পরিবারের সদস্যরা। তারা ভিসার জন্য আবেদনও করেছিলেন।

কিন্তু হঠাৎ করে করোনা মহামারির প্রাদুর্ভাবে তাদের পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। শেষে অনলাইনে বিয়ের ব্যাপারে একমত হয় সাবরিনা ও উমেরের পরিবার। সেই মতোই বৃহস্পতিবার বিকেলে কনের বাড়িতে অনলাইনে বিয়ে পড়ানো হয়েছে।

মেয়েকে দূরদেশে বিয়ে দেয়া নিয়ে কোনও দ্বিধা নেই সাবরিনার বাবা মোজাফফর হোসেনের। তিনি জানান, দেশে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে জামাই এসে মেয়েকে তার দেশে নিয়ে যাবেন।

4 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন