২ ঘণ্টা আগের আপডেট রাত ৯:৩১ ; শনিবার ; ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৪
EN Download App
Youtube google+ twitter facebook
×

পিরোজপুর ও ঝালকাঠিতে পেয়ারার উৎপাদন বেশি

বরিশালটাইমস রিপোর্ট
১১:৪৫ অপরাহ্ণ, জুন ৯, ২০১৭

সারা বছরই বিভিন্ন জাতের ফল উৎপাদন হয় দেশে। তবে এখানকার আবহাওয়া ও ভূ-প্রকৃতি গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ফল উৎপাদনের জন্য বেশি উপযোগী। বর্তমানে দেশে উৎপাদন হচ্ছে প্রায় ৭০ ধরনের ফল। এর মধ্যে আবাদের দিক দিয়ে সবচেয়ে এগিয়ে আছে কলা। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য বলছে, সারা দেশে সোয়া তিন লাখ একর জমিতে ফল আবাদ হলেও এর ৩৫ শতাংশের বেশি জুড়ে থাকছে কলা।

বছরের সব মৌসুমেই কলার চাষ হয়। তবে এর চারা লাগানোর সবচেয়ে ভালো সময় জ্যৈষ্ঠ ও আষাঢ়। আশ্বিন-কার্তিকেও চারা লাগানো হয়। বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বর্তমানে চাষ হচ্ছে সাতটি জাতের কলা। জাতগুলোর মধ্যে অন্যতম অমৃতসাগর, সবরি, চম্পা, বারি কলা-১, মেহেরসাগর ও কবরী। কলা চাষে একেক জাতের একেক এলাকায় আধিপত্য থাকলেও সার্বিকভাবে ফলটির সবচেয়ে বেশি আবাদ হয় টাঙ্গাইল জেলায়। এর পর সবচেয়ে বেশি কলা আবাদ হচ্ছে নরসিংদী, ময়মনসিংহ, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলায়।

বাণিজ্যিক চাষের কারণে ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে ফলটির উৎপাদন। বিবিএসের উপাত্ত অনুযায়ী, ২০০৮-০৯ অর্থবছরে দেশে কলা আবাদ হয়েছিল ৩০ হাজার একর জমিতে। এর বিপরীতে উৎপাদন ছিল ২ লাখ ১৯ হাজার টন। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে এসে আবাদের পরিসর বেড়ে দাঁড়ায় ১ লাখ ১৫ হাজার একরে। এ পরিমাণ জমি থেকে অর্থবছরটিতে কলা পাওয়া যায় ৭ লাখ ৭৭ হাজার টন।

ধান আবাদে কৃষকের কাঙ্ক্ষিত মুনাফা না হওয়ায় তারা কলার পাশাপাশি অন্যান্য ফল আবাদে ঝুঁকছেন বলে মনে করেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (এসএইউ) সাবেক উপাচার্য ও ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিসনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজির (আইইউবিএটি) অধ্যাপক ড. এএম ফারুক। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, কিছু ফলে রফতানির সুযোগ ও বাজার সংযোগের কারণে কৃষকরা ভালো মুনাফাও পাচ্ছেন। এছাড়া ফল প্রক্রিয়াজাত শিল্প বিকাশের কারণেও উৎপাদনে আগ্রহী হচ্ছেন কৃষক। এজন্য মূলত কয়েকটি ফল আবাদে কৃষক এখনো বেশি মনোযোগী।

কলার পরই সবচেয়ে বেশি আবাদ হচ্ছে আম। বিবিএসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ফল আবাদের আওতাধীন জমির ১৯ দশমিক ২৫ শতাংশ আমের দখলে। ২০১৪-১৫ অর্থবছর আমের আবাদ ছিল প্রায় ৬৬ হাজার একর জমিতে। এর বিপরীতে উৎপাদন হয় ১০ লাখ ১৮ হাজার টন আম। ফলটি আবাদে নেতৃত্ব দিচ্ছে উত্তরাঞ্চলের দুই জেলা রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

আম উৎপাদনে এখন বৈশ্বিক নেতৃত্বেরও সুযোগ তৈরি হয়েছে। জাতিসংঘের কৃষি ও খাদ্য সংস্থার (এফএও) তথ্যানুসারে, আম উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান এখন বিশ্বের শীর্ষ দশে। আমের ওপর নির্ভর করে গড়ে উঠেছে দেশের ফ্রুট ড্রিংকস শিল্প। অভ্যন্তরীণ ও রফতানি মিলে বাংলাদেশী ফ্রুট ড্রিংকসের প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার বাজার তৈরি হয়েছে।

আবাদের দিক দিয়ে তৃতীয় শীর্ষ ফল আনারস। বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪-১৫ অর্থবছর ফলটির আবাদ হয় প্রায় ৩৪ হাজার একর জমিতে, যা ফল আবাদের আওতায় থাকা মোট জমির ১০ দশমিক ৫৬ শতাংশ। এর বিপরীতে উৎপাদন হয় প্রায় দুই লাখ টন আনারস। সারা দেশে উৎপাদিত আনারসের প্রায় ৭০ শতাংশ আবার আসছে ছয় জেলা থেকে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি উৎপাদন হচ্ছে রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ও গাজীপুরে। এছাড়া বান্দরবান ও চট্টগ্রামেও ফলটির আবাদ হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত আনারস প্রক্রিয়াকরণ কারখানা গড়ে না ওঠায় ফলটির আবাদ সেভাবে সম্প্রসারণ হচ্ছে না।

কলা, আম ও আনারসের পর সবচেয়ে বেশি আবাদ হচ্ছে কাঁঠালের।  উঁচু ও লাল মাটি ফলটি চাষে বিশেষভাবে উপযোগী। মাটির এ বৈশিষ্ট্যের কারণেই কাঁঠাল উৎপাদনে এগিয়ে আছে সাভার, গাজীপুর, নরসিংদী ও টাঙ্গাইল। বিবিএসের হিসাবে, ২০১৪-১৫ অর্থবছর কাঁঠাল চাষের আওতায় ছিল ফল উৎপাদনে ব্যবহূত মোট জমির ১০ দশমিক ২৫ শতাংশ। ৩৩ হাজার ১৫১ একর জমি থেকে অর্থবছরটিতে কাঁঠাল পাওয়া যায় ১০ লাখ ৬০ হাজার টন।

অন্যান্য ফলের মধ্যে তরমুজ আবাদ হচ্ছে ৩ দশমিক ১১ ও পেয়ারা শূন্য দশমিক ৩১ শতাংশ জমিতে। বাকি প্রায় ২১ শতাংশ জমিতে আবাদ হচ্ছে অন্যান্য ফল। তবে কলা, আম, আনারস ও কাঁঠাল এ চারটি ফলের সম্মিলিত আবাদ ফল চাষের আওতায় থাকা মোট জমির প্রায় ৭৬ শতাংশ।

দেশের দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোয় সবচেয়ে বেশি পেয়ারা উৎপাদন হয়। এছাড়া চট্টগ্রাম, ঢাকা, গাজীপুর, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, নাটোর ও পাবনা জেলায় বিভিন্ন জাতের পেয়ারা চাষ হয়। তবে বরিশাল, ঝালকাঠি ও পিরোজপুর জেলার কয়েকটি উপজেলাকে ‘পেয়ারারাজ্য’ হিসেবে আখায়িত করা হয়। ২০০৭-০৮ অর্থবছর পেয়ারার উৎপাদন ছিল ১ লাখ ৫২ হাজার টন। ২০১৪-১৫ অর্থবছর তা বেড়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ৫ হাজার টনে। প্রায় ৯ হাজার ৩০০ একর জমি থেকে এ পরিমাণ পেয়ারা উৎপাদন হয়।

সারা দেশে বর্তমানে প্রায় ৪৭ লাখ টন ফল উৎপাদন হলেও দৈনিক জনপ্রতি এর পরিভোগে বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, প্রতিদিন একজন মানুষের ফল খাওয়া প্রয়োজন গড়ে ২০০ গ্রাম। এর বিপরীতে প্রাপ্যতা মাত্র ৭৮ গ্রাম। এজন্য পুষ্টিনিরাপত্তায় ফলের আবাদ ও উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় দেশের সাতটি বিভাগের ৪৫টি জেলার ৩৬২টি উপজেলায় ৪৫ লাখ পরিবারের মধ্যে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

এ প্রকল্পের পরিচালক মো. মেহেদী মাসুদ সাংবাদিকদের বলেন, ফল উৎপাদনে বৈচিত্র্য এনে দেশীয় ফল উৎপাদন বাড়াতে এ কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। বছরজুড়ে ফলপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে আম বৈশাখ থেকে কার্তিক পর্যন্ত উৎপাদন সহায়ক করা হবে। বসতবাড়িতে ফল উৎপাদনে উত্সাহিত করতে প্রণোদনাও থাকবে।”

টাইমস স্পেশাল, পিরোজপুর

আপনার ত লিখুন :

 

ই বিের ও সা
ভারপ্রাপ্ত-সম্পাদকঃ শাকিব বিপ্লব
© কপিরাইট বরিশালটাইমস ২০১২-২০১৮ | বরিশালটাইমস.কম
বরিশালটাইমস মিডিয়া লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান।
ইসরাফিল ভিলা (তৃতীয় তলা), ফলপট্টি রোড, বরিশাল ৮২০০।
ফোন: +৮৮০২৪৭৮৮৩০৫৪৫, মোবাইল: ০১৮৭৬৮৩৪৭৫৪
ই-মেইল: barishaltimes@gmail.com, bslhasib@gmail.com
© কপিরাইট বরিশালটাইমস ২০১২-২০১৮
টপ
  মিউজিক বক্সে সংযোগ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে স্কুল ছাত্রের মৃত্যু  ভান্ডারিয়ায় স্মার্ট কার্ড বিতরণ উদ্বোধন  শ্বশুরবাড়ির পাশে জামাইয়ের লাশ, স্ত্রীসহ গ্রেপ্তার ৫  বরগুনা হাসপাতালে এনআইসিইউ বিভাগ উদ্বোধন  গ্রিসে বৈধতা পেলেন ৩ হাজার ৪০৫ বাংলাদেশি  কুবি কোষাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আদালতে ভাঙচুর ও গরু লুটের মামলা  বরিশালে রেস্টুরেন্টে অগ্নিকাণ্ড  এলাকার উন্নয়ন আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে করব: মহিউদ্দিন মহারাজ এমপি  গরুসহ ৪ ছাগল পুড়ে ছাই, শোকে কৃষকের মৃত্যু  জার্মানিতে বৈধ হলো গাঁজা, সর্বোচ্চ বহন করা যাবে ২৫ গ্রাম