৮ ঘণ্টা আগের আপডেট সকাল ৯:৩১ ; সোমবার ; জুন ২৭, ২০২২
EN Download App
Youtube google+ twitter facebook
×

প্রার্থীতায় আগ্রহী ছিলেন না বিএনপি নেতা সরোয়ার! (ভিডিও)

তন্ময় তপু
১২:৫৩ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ৩, ২০১৮

বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ভোটে আগ্রহী ছিলেন না বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার। দলকে জানিয়েও ছিলেন সেই কথা। কিন্তু ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে ধানের শীষ তুলে দিয়েছে বিএনপি।

যদিও এমন বাস্তবতায় সরোয়ারকে প্রার্থী মেনে নিতে পারছে না বিএনপির একাংশ। কারণ হিসেবে তারা বলছেন- সব আলোচিত নির্বাচনে একজনই অংশ নেবেন, এভাবে অন্যদের বঞ্চিত করা হচ্ছে।

মেয়র প্রার্থী সরোয়ার বরিশালটাইমসকে বলেন, ‘আমি নির্বাচনে আগ্রহী ছিলাম না। দল থেকে চাপিয়ে দেয়া হয়েছে এই নির্বাচন। দল থেকে যখন নির্বাচনের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তখন নির্বাচন তো করতেই হবে।’

বিএনপির এই প্রার্থী ঘনিষ্ঠ একাধিক নেতা জানান, এখন মেয়র হয়ে সংসদ নির্বাচন করার সুযোগ নেই। সরোয়ারের আগ্রহ ছিল সংসদ নির্বাচন। আর এই ভোটে জিতে গেলে সংসদের কথা ভুলে যেতে হবে। তাই তাই তিনি এই নির্বাচন নিয়ে আগ্রহী ছিলেন না।

আগামী ৩০ জুলাই যে তিনটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোট হবে, তার মধ্যে আছে বরিশালও। এখানে আওয়ামী লীগ প্রার্থী করেছে সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহকে। তিনি আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা আবুল হাসনাত আবদুল্লাহর ছেলে।

বরিশাল শহরে বিএনপির অবস্থান বরাবর শক্তিশালী। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিচারে হত্যার পর দক্ষিণের এই মহানগর থেকে যতবার বিএনপি নেতারা ভোটে দাঁড়িয়েছেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই জয় পেয়েছেন তারা।

তবে ২০০৮ সালে এই ধারায় ছেদ ঘটান আওয়ামী লীগের নেতা শওকত হোসেন হিরন। ওই বছরের সিটি নির্বাচনে বিএনপির একাধিক নেতার প্রার্থী হওয়া আর একজন শক্তিশালী স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে ভোট ভাগাভাগির সুযোগে জিতে যান হিরন।

মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাঁচ বছরে বরিশালে দৃশ্যমান উন্নয়ন করেছেন হিরন। সেই সঙ্গে দলকেও সু-সংগঠিত করে আগের চেয়ে শক্তিশালী করেছেন।

২০০৯ সালের জাতীয় নির্বাচনে বরিশাল সদর আসনে বিএনপি-জামায়াত জোটের প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ারের সঙ্গে বেশ কঠিন লড়াই করে আওয়ামী লীগ।

২০১৩ সালের সিটি নির্বাচনেও হেরে যান হিরন। তবে পাঁচ বছরের আগের নির্বাচনে তিনি যত ভোট পেয়েছিলেন, হেরে গেলেও তার চেয়ে বেশি ভোট পান তিনি।

আবার ২০১৩ সালে বিজয়ী বিএনপি নেতা আহসান হাবিব কামালের মেয়র হিসেবে ভূমিকা খুব একটা সুখকর নয়। বিএনপির নেতা-কর্মীরাই মনে করেন, কামাল মেয়র হিসেবে সফল ছিলেন না।

তবে ২০১৪ সালে হিরন মারা যাওয়ায় আওয়ামী লীগকে বরিশালে নতুন প্রার্থী খুঁজে হয়। আর তখন থেকেই কাজ করছিলেন সাদিক। আর মেয়র পদ পুনরুদ্ধারে তার ওপরই ভরসা রেখেছে দল।

বিএনপি সাদিককে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বি হিসেবেই ধরে নিচ্ছে। বর্তমান মেয়র বা অন্য প্রত্যাশীদেরকে মনোনয়ন দিলে আসনটি ধরে রাখা যাবে কি না, এ নিয়ে দুশ্চিন্তা ছিল দলে। তাই দলের পরীক্ষিত নেতা সরোয়ারের হাতেই তুলে দেয়া হয়েছে ধানের শীষ।

বারবার সরোয়ার কেন, প্রশ্ন বিএনপিতে

আবার সারোয়ারের এই মনোনয়নে স্থানীয় বিএনপির সব নেতা খুশি, এমনও না। বিএনপির অন্য কেউ মনোনয়নপত্র জমা দেননি, তবে সরোয়ারের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিতে গেলেও তার সঙ্গে ছিলেন না অন্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরাও।

বিএনপির বিশ্বস্ত সূত্র জানাচ্ছে- বরিশালের সব প্রায় নির্বাচনেই সরোয়ারের প্রভাব ছিল। তিনি একাধিকবার মেয়র নির্বাচন করেছেন, করেছেন সংসদ নির্বাচনও। আর যে দুইবার মেয়র নির্বাচন করেননি, তার পছন্দের প্রার্থীই ভোটে লড়েছে। আবার তার মনোয়ন পাওয়ায় বিএনপিতে কথা উঠেছে একাই সব পাবেন কেন তিনি।

সরোয়ার পরপর পাঁচ বার বরিশাল সদর আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ছিলেন জেলা মন্ত্রীও, এখন আবার দলের যুগ্ম মহাসচিব।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির এক নেতা জানান, ‘সব নির্বাচনই যদি সরোয়ার করে থাকে তাহলে অন্যরা কী করবে? সিটি নির্বাচনও তিনি করবেন আবার সংসদ নির্বাচনও তিনি করবেন। তাহলে কি অন্য ত্যাগী নেতারা কোনো সুযোগই পাবেন না?’।

বিএনপির প্রার্থী হতে ইচ্ছুক ছিলেন অনেক নেতা সরোয়ারকে ভোট না দেওয়ার কথা জানাচ্ছেন ভোটারদের, এমন তথ্যও মিলেছে অনুসন্ধানে।

যদিও বিষয়টি স্বীকার করতে চান না বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। দলের বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন বরিশালটাইমসকে বলেন- ‘আমরা চেয়েছি আওয়ামী লীগের কোনো দালালকে কেন্দ্র যাতে মনোনয়ন না দেয়। সরোয়ার ভাইকে দিয়েছে এই নিয়ে আমাদের কোনো প্রশ্ন নেই। দলের সিদ্ধান্তই মেনে নেব আমরা।’

বিএনপির মনোনয়ন ইচ্ছুকদের একজন বরিশাল দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি এবায়দুল হক চাঁন বলেন, ‘দলের সিদ্ধান্তের বাইরে আমাদের যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। দল যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সেই সিদ্ধান্তই মেনে নিয়েছি আমরা।’

গত ২৮ জুন সরোয়ার যখন মনোনয়নপত্র জমা দেন তখন এবায়দুল হক চাঁন, বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন ও আফরোজা খানম নাসরিনের অনুপস্থিতি নিয়ে কথা চলছে বিএনপিতে।

বিএনপির একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে- বর্তমান মেয়র আহসান হাবিব কামালও এবারের নির্বাচনে সরোয়ারের পাশে নেই।’

নির্বাচন ‍এক্সপ্রেস, বরিশালের খবর

 

আপনার মতামত লিখুন :

 
ভারপ্রাপ্ত-সম্পাদকঃ শাকিব বিপ্লব
© কপিরাইট বরিশালটাইমস ২০১২-২০১৮ | বরিশালটাইমস.কম
বরিশালটাইমস মিডিয়া লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান।
ইসরাফিল ভিলা (তৃতীয় তলা), ফলপট্টি রোড, বরিশাল ৮২০০।
ফোন: +৮৮০২৪৭৮৮৩০৫৪৫, মোবাইল: ০১৮৭৬৮৩৪৭৫৪
ই-মেইল: [email protected], [email protected]
© কপিরাইট বরিশালটাইমস ২০১২-২০১৮
টপ
  বরিশাল-ঢাকা নৌরুট: পদ্মাসেতু চালুর প্রথম দিনেই কমে গেছে লঞ্চযাত্রী  পদ্মাসেতুতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত সেই ২ যুবকের মৃত্যু  পদ্মা সেতুতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত ২  সোমবার ভোর থেকে পদ্মা সেতুতে মোটরসাইকেল নিষিদ্ধ  ঝালকাঠি/ মা-বাবার সামনে নদীতে পড়ে শিশু নিখোঁজ  বিআরটিসি বাসের ধাক্কায় ভাঙল পদ্মা সেতুর টোল প্লাজার দুটি ব্যারিয়ার  প্রথম ৮ ঘণ্টায় পদ্মা সেতুতে ৮২ লাখ ১৯ হাজার টাকা টোল আদায়  বরিশাল থেকে পদ্মাসেতু হয়ে সাড়ে ৩ ঘণ্টায় রাজধানীতে  আগামীকাল থেকে পদ্মা সেতুতে নেমে ছবি তুললেই জরিমানা  তজুমদ্দিনে ৫০ পিস ইয়াবাসহ ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার